SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

রবিনসন স্ট্রিটের পার্থ দে-র মৃত্যুর পিছনে কী? বিস্ফোরক দাবি, জেনে নিন রহস্য

মার্চ ৬, ২০১৭
Share it on
ঘটনার সময়ে বাড়িতে আর কেউ না থাকায় পুলিশ মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলতে বাধ্য হয়েছে। কিছু গবেষণার পরে মিড়িয়াও সে কথা মেনে নিয়েছে। কিন্তু..

প্রায় দেড় বছর আগে, এক বর্ষার অপরাহ্নে মধ্য কলকাতার অভিজাত রবিনসন স্ট্রিটের এক প্রাসাদতুল্য বাড়ীর শয়নকক্ষে এক মহিলার ও দু’টি পোষা কুকুরের কঙ্কাল এবং এবং একটি স্নানঘরে এক বৃদ্ধের অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ পাওয়া যায়। বাড়ীতে একমাত্র জীবিত বাসিন্দা ছিলেন বৃদ্ধের পুত্র ও মহিলার ছোট ভাই পার্থ দে। তাঁকে যখন পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তখন যা সব শোনা গেল, সেই রোমহর্ষক কাহিনী বৈদ্যুতিন ও অন্যান্য মিডিয়ার কল্যাণে বিদ্যুতের বেগে শুধু শহরে কেন সারা দেশে, এমনকী বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। পার্থ দে-র মানসিক প্রকৃতিস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে  দীর্ঘদিন তাঁর চিকিৎসা চলে, অবশ্য তিনি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন। টুকরো টুকরো ভাবে যে কাহিনিটি উঠে এসেছিল, তা রীতিমতো  ভীতিপ্রদ।

পার্থের পিতা অরবিন্দবাবু সম্পন্ন মানুষ ছিলেন, কিন্তু তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে সংসারে এক অদ্ভুত ভাঙন ধরে। পার্থ ও তাঁর দিদি দেবযানী বরাবরই ঘনিষ্ঠ ছিলেন, এবার তাঁরা এক নিজস্ব জগতে বাস করতে লাগলেন, যেখানে অরবিন্দবাবুর প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। অরবিন্দবাবুর ছোট ভাই ওই বাড়ীতেই বাস করলেও দুই পরিবারের মুখ দেখাদেখি ছিল না। স্কুলশিক্ষিকা দেবযানী কোনও বিশেষ ধার্মিক অনুষ্ঠানে প্রভাবিত হয়ে দীর্ঘ অনশন করে মারা যান।  কিন্তু দিদির সঙ্গে বিচ্ছেদ পার্থর কাছে অকল্পনীয় হওয়ায় এই মৃত্যুসংবাদ তিনি গোপন রাখেন এবং দিদির শব তাঁর ঘরেই রেখে দেন। দিদির দুটি পোষ্যের মৃত্যুর পরে তাদেরও দেহ সংরক্ষণ করা হয়। এই শবসংঘের মধ্যে পার্থ অবচলিত হয়ে বাস করতেন। অরবিন্দবাবু বোধ হয় কিছু সন্দেহ করতে থাকেন, তখন অগ্নিদগ্ধ হয়ে তাঁর রহস্যময় মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুটি চাপা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলেই গোটা ব্যাপারটা প্রকাশ হয়ে পড়ে। পার্থ অবশ্য দৃঢ়ভাবে বলে চলেন যে, পিতার মৃত্যুর জন্য তিনি কোনভাবেই দায়ী নন, সেজন্য ধরে নেওয়া হয়, অরবিন্দবাবু আত্মঘাতী হয়েছেন।

পার্থর বিরুদ্ধে কোন মামলা দাঁড়ায়নি। দীর্ঘদিন মানসিক আরোগ্য আশ্রমে কাটিয়ে সুস্থ হয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন। মুক্ত হয়েও তিনি কিন্তু রবিনসন রোডে ফিরে না গিয়ে খিদিরপুরে ওয়াটগঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কিনে সেখানে বাস করতে শুরু করেন। তিনি অবশ্য বাড়ি বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যান এবং কোনও কোনও খবরের কাগজের মতে, ছেচল্লিশ কোটি টাকায় বিক্রিও করে দেন। নতুন বাড়িতে তিনি কোনও প্রতিবেশীর সঙ্গে মিশতেন না, অবশ্য তাঁরাও হয়তো মিশতে চান নি। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে তাঁর জীবনযাত্রা স্বাভাবিকই ছিল। মনে হয়েছিল, এই ক্লেদাক্ত কাহিনির বোধহয় এখানেই ইতি।

কিন্তু কংকালের টংকার এত তাড়াতাড়ি থামল না। মাত্র কয়েকদিন আগে পার্থ দে-র জীবনের উপরে যবনিকা পড়েছে যে ভাবে, তাকে অরবিন্দ দে-র মৃত্যুর অ্যাকশন রিপ্লে বলা যায়। সেই বাথরুম, সেই দগ্ধ দেহ— সবকিছু চিত্রনাট্য মিলিয়ে। খালি বাড়িতে পেট্রোলের জারও পাওয়া গিয়েছে। শুধু অকুস্থল রবিনসন স্ট্রিটের বদলে ওয়াটগঞ্জ। ঘটনার সময়ে বাড়িতে আর কেউ না থাকায় পুলিশ মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলতে বাধ্য হয়েছে। কিছু গবেষণার পরে মিড়িয়াও সে কথা মেনে নিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে  আর কোনও বিকল্পের সম্ভাবনা কঠিন বলা যায়।


পার্থ দে, ছবি: সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

এইখানেই  আমার অন্য মত। পার্থ দে-র জীবন ও মৃত্যু বিকৃত মনস্তত্ব ও অলৌকিকের এমন এক জটিল মিশ্রণ যে, এখানে কোনও কিছুই আপাতদৃষ্টিতে মানা যায় না, সব কিছুই তলিয়ে দেখতে হয়। দীর্ঘদিনের অপূর্ণ বাসনা ও তীব্র আশাভঙ্গের বেদনা, সেই সঙ্গে অপরাধবোধ এই নাটকের চরিত্রগুলির জীবনে যে উথাল পাথাল সৃষ্টি করেছিল, তার জের জীবন শেষ হওয়ার পরেও যদি চলে, তাহলে প্রেততত্ত্ব ও পরলোকবিদ্যা নিয়ে কয়েক দশক চর্চা করার পরে আমি একেবারেই অবাক হব না। কেন না, অলৌকিকের ইতিহাসে এমন নজিরের অভাব নেই।

মৃত্যুর পরে আত্মার পৃথিবীতে ফিরে আসার দু’টি প্রধান কারণ হল প্রেম আর প্রতিহিংসা, এ আমরা যুগে যুগে দেখে আসছি— সবথেকে উজ্জ্বল উদাহরণ হ্যামলেট। সত্যি বলতে গেলে, এদের টাকার এপিঠ-ওপিঠ বললে ভুল হবে না। প্রেতচক্রের রেকর্ড দেখলে বোঝা যায়, অনেক আত্মা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যকে আত্মহত্যা করতেও প্ররোচিত করে থাকে। ১৯০৬-এর ১৩ জুলাই শিকাগোতে এক প্রেতচক্রের বিবরণে পাচ্ছি, আসরের শুরুতে মিডিয়াম প্রায় অচেতন অবস্থায় চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়েছেন, হঠাৎ তিনি সোজা হয়ে বসে একজন অংশগ্রহণকারীকে বললেন, 'ফ্রাংক, আমি তোমার বন্ধু বার্নার্ড। কী হয়েছে, তোমরা আমার কথার জবাব দিচ্ছ না কেন?'

ফ্রাংক বিস্ময়ে রুদ্ধবাক। বার্নার্ড তার প্রিয় বন্ধু, সফল ব্যবসায়ী, সুখী মানুষ। কয়েকদিন আগে সে ক্লিভল্যান্ড থেকে শিকাগো এসেছিল জমি কিনতে। জমি পছন্দ হয়, কথাবার্তাও পাকা হয়। ঠিক হয়, সে পরের সপ্তাহে দলিল সই করবে। ক’দিন পরে এক সন্ধ্যায় ক্লাবে বসে মদ্যপান করতে করতে তার মৃত্যু হয়। তার গ্লাসে তীব্র বিষ পাওয়া যায়, পুলিশ ও করোনার বলেন— আত্মহত্যা।

বার্নার্ডকে বুঝিয়ে বলতে হল যে, সে আর বেঁচে নেই। বাস্তব বুঝতে তার একটু সময় লাগলো, তারপর সে ধীরে ধীরে বলল যে, সে আত্মহত্যা করেনি। যে জমি সে কিনতে চেয়েছিল, তার উপরে অনেকেরই চোখ ছিল। এ রকম একজন, কথাবার্তা চলার সময়ে হঠাৎ মারা যায়। সম্ভবত তার আত্মা সে রাত্রে তার পানীয়তে বিষ মিশিয়ে দেয়। এই ঘটনাটি বিবৃত হয়েছে সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়ের ‘পরলোক বিচিত্রা’  গ্রন্থে।

পাঁজি-পুঁথি ছেড়ে এবার কিছু পরিচিত মানুষের অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমার এক বিশেষ ঘনিষ্ঠ মহিলাকে তাঁর শৈশবে এক পারিবারিক বন্ধুর বাড়ি যেতে হয়েছিল তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে। আমার পরিচিতার বয়স তখন সাত কি আট। সাধারণত শিশুদের মৃত্যুর মুখোমুখি করা হয় না, কিন্তু এ ক্ষত্রে বাড়ীতে আর কেউ না থাকায় তাঁকে তাঁর মাকে সঙ্গদান করতে হয়েছিল। যে ভদ্রলোক মারা যান, তাঁর মা ও দিদিরও কিছুদিন আগে ওই বাড়িতেই মৃত্যু হয়েছিল। এই তিনটি মৃত্যুর কোনওটাই অবশ্য আকস্মিক বা অপঘাত নয়— সাধারণভাবে রোগে ভুগেই তাদের দেহান্ত হয়েছিল। আমার আত্মীয়া দুপুরবেলা যখন সে বাড়ীতে পৌঁছলেন, তখন শয়নকক্ষ থেকে দেহ নামিয়ে বাইরের হলে রাখা হয়েছে, শ্মশানযাত্রার প্রস্তুতি পুরোমাত্রায় চলছে।  তখন শিশুর দিকে তাকানোর কারোর সময় নেই, শিশুটিও আপনমনে ঘুরতে ঘুরতে দেখল, ঘরের দেওয়ালে পরিবারের সদস্যদের ছবি টাঙানো রয়েছে। মেয়েটি ভদ্রলোকের মা আর দিদিকে চিনত, তাঁদের ছবি রয়েছে ঠিক মৃতের মাথার উপরে আর ছবিতেও তাঁদের চোখ এক অপার্থিব আনন্দে জ্বলজ্বল করছে। মেয়েটি ছুটে গিয়ে তার মার দৃষ্টি- আকর্ষণ করার চেষ্টা করলো, কিন্তু তিনি তখন বাড়ীর মেয়েদের সান্ত্বনা দিতে ব্যস্ত, খানিক পরে তাঁরা বাড়ী চলে আসেন। কিন্তু অর্ধশতাব্দী পরেও মেয়েটির আজও মনে হয়, ছবিটা আশ্চর্য জীবন্ত ছিল, তাঁরা যেন তাঁদের প্রিয় মানুষটিকে তাঁদের জগতে স্বাগত জানানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন।

সম্প্রতি একটি অদ্ভুত ঘটনা আমাকে জানিয়েছে একটি অল্পবয়সি মেয়ে, ধরা যাক তার নাম কমলিকা, কলকাতার একটি নামী স্কুলের শিক্ষিকা। মেয়েটি তার বাবা-মার সঙ্গে থাকে, তার আর কোনও ভাই-বোন নেই। মামাবাড়ির সঙ্গে তাদের খুবই ঘনিষ্ঠতা, দাদু মারা গিয়েছেন অনেকদিন, দিদিমা বেশ দাপটের মহিলা, তিনি মামা ও তাঁর ছেলেমেয়েদের নিয়ে উত্তর কলকাতায় থাকেন। মামা ডাক্তার, নামডাক ভালই। সকলে বেশ ভালই আছেন, এমন সময়ে বিনা সতর্কীকরণে একের পরে এক বিচিত্র ঘটনা ঘটতে লাগলো। প্রথমে, স্বল্প রোগভোগের পর  দিদিমা  দেহ রাখলেন। তাঁর বয়স পঁচাশি পেরিয়ে গিয়েছিল বলে  সকলে শোকাহত হলেও বিস্মিত হয়নি। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে লাগলো।

কমলিকার মামাবাড়ি কলকাতা হলেও তারা আদতে বর্ধমানের বাসিন্দা। কমলিকার মামা নিয়মিত স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন, তাঁর প্রয়াত পিতা বার বার তাঁকে অনুরোধ করছেন যে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বর্ধমানের গ্রামের বাড়ীতে ফিরে যেতে চান। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে থাকায় ঘর-দোরের অবস্থা ভাল নয়। গ্রামের জনৈক পুলিনবাবু বাড়ির দেখাশোনা করেন, তাঁকে টাকাকড়ি ও দায়িত্ব দিলে তিনিই তা বাসযোগ্য করে দেবেন, কারোর কিছু ভাবতে হবে না। বেশ কয়েকবার এই স্বপ্ন দেখার পর কমলিকার মামা, মেসোমশাই  আর বাবা স্থির করলেন যে তাঁরা এই আদেশ পালন করবেন। পুলিনবাবুর সঙ্গে  যোগাযোগ করা হল, তিনি সানন্দে এই দায়িত্ব স্বীকার করে নিলেন। বাড়ির কাজ এগিয়ে চলল, মেসো মাঝে মাঝে নিজের গাড়ি চালিয়ে গ্রামের বাড়ি দেখে আসেন। মামা যখন সাড়ম্বরে গৃহপ্রবেশের কথা ভাবছেন, তখন পুলিনবাবু একদিন এসে বললেন— দেখুন, পুরুতঠাকুর বলছিলেন, গৃহসংলগ্ন রাধামাধবের মন্দিরটিরও জরাজীর্ণ অবস্থা। বাড়ীতে ঢোকার আগে মন্দিরটি সংস্কার করলে হয় না?

মামা রাজী হয়ে গেলেন, মন্দির সংস্কারের কাজ চলতে লাগলো। সব কিছু সম্পূর্ণ হওয়ার খবর পেয়ে মেসো একদিন সরজমিন তদন্ত করতে গেলেন। সব কিছু দেখে খুশি হয়ে ভাবলেন, বাড়ি ফেরার পথে শ্বশুরবাড়িতে নেমে শ্যালককে রিপোর্ট দিয়ে যাবেন। কথা শেষ হবার পরে মেসো বললেন, এতটা পথ ড্রাইভ করে একটু ক্লান্ত লাগছে...

মামা বললেন, আজ রাতটা এখানেই থেকে যাও, কাল বাড়ী যেও।

সেই কথাই রইল, কিন্তু মেসোর আর বাড়ি ফেরা হল না। শেষ রাতে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হল। ডাক্তার সব রকম পরীক্ষা করেও অস্বাভাবিক কিছু পেলেন না। বললেন, ভদ্রলোক বড় বেশী স্ট্রেন করে ফেলেছিলেন, নিতে পারলেন না...

বড় জামাইএর মৃত্যুর পরে বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এল। মামা কাজেকর্মে উৎসাহ হারিয়ে ফেললেন, তাঁর শরীরও খারাপ হতে লাগলো। পুলিনবাবু বার বার তাগাদা দেওয়া সত্বেও গৃহপ্রবেশ ও বিগ্রহ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন পিছোতে লাগলো। অবশেষে মামা ঠিক করলেন, নিজের একটা পুরো চেক-আপ করাবেন। ডাক্তার হিসাবে যে নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেখানেই ভর্তি হয়ে গেলেন। সারাদিন টেস্ট করেও দেহযন্ত্রে কোন খামতি ধরা পড়ল না। কিন্তু রাত বারোটা নাগাদ তিনি আকস্মিকভাবে মারা গেলেন। আসামী সেই ম্যাসিভ হার্ট আ্যাটাক!

গোটা পরিবার এবার আতঙ্কিত হয়ে পড়লো। শোকবিহ্বল স্বজনদের ধাতস্থ করার চেষ্টা করতে লাগলেন কমলিকার বাবা। মাঝে মাঝেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে সময় কাটাতেন। তিনিই একদিন জোর করে মামার ছেলেমেয়েদের নিয়ে বর্ধমানে বাড়ি দেখতে গেলেন। ফেরার পথে তিনি এতই অসুস্থ হয়ে পড়লেন যে, তাঁকে শ্বশুরবাড়ি রাত কাটাতে হল। পরের দিন হাসপাতাল এবং কয়েকদিন সেখানে কাটানোর পরে মৃত্যু।  দিদিমা থেকে বাবা— মৃত্যুর এই শৃঙ্খল সম্পূর্ণ হতে লেগেছিল সাত মাসের মতো। এর মধ্যে গ্রামের পুলিনবাবুও ভবলীলা সংবরণ করেছেন।


পার্থ দে, ছবি: সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

মাসখানেক আগে এই দীর্ঘ কাহিনির পুনরাবৃত্তি করে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত কমলিকা আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, তার এবার কী করণীয়।  আমি বললাম, আমি যা বুঝছি, তোমার দিদিমা খুব জাঁদরেল মহিলা, মৃত্যুর পরেও তিনি তাঁর ব্যক্তিত্বের জোরে তাঁর প্রিয় মানুষদের নিজের কাছে টেনে নিতে পারেন। কোন উচ্চস্তরের তান্ত্রিক এ ব্যাপারে তোমাকে সাহায্য করতে পারেন। তবে যেহেতু এখন তুমি মানসিকভাবে খুব দুর্বল, সেজন্য তান্ত্রিকদের কাছে না যাওয়াই ভাল, কার মনে কী আছে কে জানে। তবে আমার কিন্তু মনে হচ্ছে, তোমার বাবা তোমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন, তা না হলে তুমি এতদিন অক্ষত থাকতে না। তুমি তাঁকে নিয়মিত স্মরণ করো আর সাহায্য চাও।
 
আত্মার  আকর্ষণ ও বিকর্ষণের ক্ষমতা কতটা তীব্র হতে পারে, তা বোঝাবার জন্যই কমলিকার উদাহরণ দিলাম, এ গল্প এখনও অসমাপ্ত, হয়তো শীঘ্র  কোন সমাধান হতে পারে। কিন্তু প্রেতযোনির প্রেম ও প্রতিহিংসার উপরে আসক্তি বিষয়ে আমি ওয়াকিবহাল বলে পার্থ দে-র আত্মহত্যার থিয়োরি  বিনা প্রমাণে মেনে নিতে পারছি না। পার্থ দে জানতেন, রবিনসন স্ট্রিটের বাড়ি তাঁর পক্ষে নিরাপদ নয়, তাই মানসিক চিকিৎসালয়  থেকে বেরিয়ে  সেখানে থাকার চেষ্টা না করে তিনি অন্যত্র থাকতেন। কিন্তু কয়েক কিলোমিটারের দূরত্ব প্রেতাত্মার অভীষ্ট পূরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না, যদিও রবিনসন স্ট্রিটে তার শক্তি অনেক বেশি। যে কারণে এই দেড় বছরের মধ্যে ও বাড়ী ছেড়েছেন অরবিন্দবাবুর ছোট ভাই ও চার জন ভাড়াটে। ও বাড়ী এখন আক্ষরিকভাবে ভূতের বাড়ী।

সেদিন সকালে ওয়াটগঞ্জের আবাসনে কোন নাটকের অভিনয় হয়েছিল, তা আমার জানা নেই। সেদিন কে এসেছিলেন— স্নেহময়ী দিদি, না ক্রুদ্ধ পিতা? শূন্য ফ্ল্যাটে সন্ত্রস্ত পার্থ কেন বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন? আত্মহত্যা করার তো অনেক জায়গা ছিল, আর গায়ে আগুন লাগানোর জন্য স্নানঘর বোধ হয় আদর্শ স্থান নয়, কল খুলে দিলেই তো আগুন নিবে যাবে। তবে কি তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল দেড় বছর আগের নাটকের পুনরাভিনয় করতে? সম্ভাবনা অনেক বলেই ঠিক উত্তরটি বেছে নেওয়া এত কঠিন।

Partha De Robinson Street Paranormal Ghost
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -