SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

শরীরযাপন: আর একটু হলেই ফেঁসেছিলাম। কিন্তু পালিয়ে এ কোথায় এলাম!

জুলাই ৫, ২০১৬
Share it on
‘‘গ্যাংগওলি’’-র বাসার পাট চুকিয়ে দেব শুনেই তাঁর শ্যালিকা প্রায় আমার ঘাড়ে চেপে বসলেন। তাঁর সাফ কথা, তাঁর সঙ্গে ‘‘কিছু একটা বন্দোবস্ত’’ করতে হবে। নইলে তিনি চেঁচিয়ে পাড়া মাত করবেন। কেন এমন ডেসপারেশন?

‘‘গ্যাংগওলি’’-র শরীরী ‘ফিক্সড ডিপোজিট’-এর ভাগীদার হয়ে, তাঁর বাড়িতেই তাঁর বউয়ের হাতের রান্না খেয়ে দিন কাটছিল ভাল। কিন্তু ওই যে, ‘‘সোনার খাঁচায় রইল না।’’ শ্যালিকার শরীর-বিহার যে আমার ঘরেও হয়, সেটা একদিন তিনি টের পেয়ে গেলেন। কিন্তু মুখে কিচ্ছুটি বলতে পারলেন না। পারার কথাও ছিল না। কেননা, তা হলে মার্কিন বঙ্গসমাজে তাঁর বেইজ্জতির স্টেক হুড়মুড়িয়ে বাড়ত। লোকটা টাকা আর শরীর ছাড়়া বিশেষ কিছু বুঝত বলে তো মনে হয়নি কখনও। যা-ই হোক, আমার গোল বিছানার চক্করে শ্যালিকা পড়েছেন বুঝে ‘‘গ্যাংগওলি’’ আমাকে তাড়াতে উঠেপড়ে লাগলেন। মোক্ষম উপায়ও বের করলেন একটা।

বাবার সঙ্গে খুব বেশি সখ্য ছিল না, এমন এক প্রবাসী বাঙালির সঙ্গে তিনি আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন। সেই ভদ্রলোকের এমন একটি ব্যবসায়িক দায় ছিল, যাতে বাবার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখা জরুরি হয়ে পড়েছিল। কিন্তু বাবা, যাকে বলে, ‘অর্থবহ’ মানুষ। টাকার হিসেবের বাইরে গিয়ে আমাকে কখনও একটা চুমু খেয়েছিলেন বলে মনে হয় না। এই যে যৌনতার দিকে আমার এক অবাধ যাত্রা, তার সূত্রপাতটা ঘটেছিল অল্পবয়সে। এমন একটা সময় যখন বাবা-মা’কে সবথেকে বেশি প্রয়োজন হয় সন্তানের, তখন যৌনতাকে আঁকড়ে আমি আমার শূন্যতা ভরাট করতে থাকি। সে প্রসঙ্গে ঘটনাক্রমে আসব। কেননা, আমার ছোটবেলার কাহিনি শোনানোর তাগিদ অনুভব করেছি বলেই লিখতে বসা।

ফিরে আসি ‘‘গ্যাংগওলি’’-র কীর্তিতে। সেই ভদ্রলোক তো আমাকে হাতে পেয়ে যেন চাঁদ পেলেন। ‘‘গ্যাংগওলি’’ আমাকে বলেছিল, ‘‘তোমার জন্য একটা ভাল ঘরের খোঁজ পেয়েছি। সংসার পাতবে তো? ঘর এখন থেকেই গোছাতে হবে।’’ সেই ভদ্রলোক, অর্থাৎ বাবার সঙ্গে যাঁর প্রয়োজন ছিল, তাঁর মাধ্যমেই আমার নতুন ঘর খোঁজা হয়েছিল। বলা বাহুল্য, বাবার অনুগ্রহ পেতে তিনি বেশ মন দিয়ে কাজটি করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, তিনি বাবার অনুগ্রহটি পাননি। কেন, সেটাই এইবারে বলব।

ব্যাপারটি বেশ বড়। ‘‘গ্যাংগওলি’’-র বাসার পাট চুকিয়ে দেব শুনেই তাঁর শ্যালিকা প্রায় আমার ঘাড়ে চেপে বসলেন। তাঁর সাফ কথা, তাঁর সঙ্গে ‘‘কিছু একটা বন্দোবস্ত’’ করতে হবে। নইলে তিনি চেঁচিয়ে পাড়া মাত করবেন। কেন এমন ডেসপারেশন? শ্যালিকা মহোদয়া বুঝেছিলেন, এইভাবে জামাইবাবুর বিছানায় ভাগ বসিয়ে তাঁর ভবিষ্যতে কিছু জুটবে না। যে দিন শরীরের প্রয়োজন ফুরোবে, তাঁর স্থান হবে আঁস্তাকুড়ে। সে কারণেই তিনি নৌকো খুঁজছিলেন। আমার মতো দড়ি ছেঁড়া বজরা তো তাঁর কাছে হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো!

কিন্তু খেলা অত সহজ হল না। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক উতরে গেল না। বিপদ আঁচ করে একটি কাজ করে রেখেছিলাম। বাড়ির মালকিনকে এমন কিছু ইঙ্গিতবাহী কথাবার্তা বলেছিলাম যে, তিনি বোনটিকে চোখে চোখে রাখতে শুরু করেন। শুনেছিলাম, আমি সে তল্লাট ছাড়ার পরে এক দুপুরে আমার ফেলে আসা গোল বিছানা, অর্থাৎ, ‘স্টাডি’তে একত্রে দু’জনের শঙ্খ লাগা শরীর আবিষ্কার করেন তিনি। এবং পত্রপাঠ বোনকে চালান করে কলকাতায়। তবে ‘স্টেটাস’-এর স্বার্থে ঘরের কথা বাইরে আনেননি।

এদিকে, আমার নয়া বাড়ি বেশ চমৎকার। ফাঁকা ফাঁকা পাড়া। লোকজন বেশ কম। রাতের দিকটা এক্কেবারে সুনসান। এখানে ওঠার দিনকয়েক পরে আলাপ হয়েছিল প্রতিবেশী যুবতীর সঙ্গে। পেশায় অধ্যাপক সেই যুবতী প্রথম আলাপেই যে প্রশ্ন দুটো করেছিলেন, তাতে যে কারও বুক কেঁপে উঠবে। বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘‘আপনি এই পাড়ার খোঁজ পেলেন কীভাবে?’’ তার থেকেও বড় প্রশ্ন, ‘‘এই বাড়িটা আপনাকে খুঁজে দিলেন কে?’’ কেন এ প্রশ্ন করছেন, তা জানতে চাওয়ার পরে উনি বলেছিলেন, ‘‘নট রাইট ডিসিশন। দে সে দিস হাউস মে বি হন্টেড। অ্যাকচুয়ালি, দিস লোক্যালিটি হ্যাস আ ভেরি ব্যাড রেপিউটেশন অফ বিয়িং হন্টেড। দ্যাট ইজ হোয়াই নো ওয়ান লিভস হিয়ার।’’

  • ‘‘দেন হোয়াই ডু ইউ লিভ?’’
  • ‘‘বিকজ আই হ্যাভ নোহোয়্যার টু গো। বাট উই টেক প্রিকশনস। আই উইল অ্যারেঞ্জ ইট ফর ইউ টু।’’

তিনি যত দিনে ব্যবস্থা করেছিলেন, ততদিনে আমার যা অবস্থা হয়েছিল, তা ভেবে আজও ঘাম হয়। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, আমি এখনও বিশ্বাস করি না, সেই সব ঘটনার আদৌ কোনও ভৌতিক মাত্রা রয়েছে। সে দিনই জেনেছিলাম, খুব কাছেই একটা বেরিয়াল গ্রাউন্ড রয়েছে। ওঁরা মনে করতেন, সেটাই সব সমস্যার মূলে। অথচ, সাহস দেখিয়ে সেখানে আমি রাত কাটিয়েছি। কিচ্ছু হয়নি। হল যেখানে, সেটা আমার বা়ড়ি।

(ক্রমশ...)

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -