SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

স্বমহিমায় কোয়েল মল্লিক

অন্তরা মজুমদার | ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭
Share it on
কনকনে ঠান্ডার দার্জিলিং! তার মধ্যেই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ছায়া ও ছবি’র শ্যুটিং জমজমাট! তারকারা প্রায় সকলেই ফ্রিজিং পয়েন্টে। কিন্তু শট’এর ব্যাপারে সততা দেখার মতো! এতদিনে সকলেই জানেন, ‘ছায়া ও ছবি’ আসলে ছবির মধ্যে ছবি। কোয়েল মল্লিক সেখানে একজন স্টারের ভূমিকায়। মানে, স্বমহিমায়!

কনকনে ঠান্ডার দার্জিলিং! তার মধ্যেই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ছায়া ও ছবি’র শ্যুটিং জমজমাট! তারকারা প্রায় সকলেই ফ্রিজিং পয়েন্টে। কিন্তু শট’এর ব্যাপারে সততা দেখার মতো! এতদিনে সকলেই জানেন, ‘ছায়া ও ছবি’ আসলে ছবির মধ্যে ছবি। কোয়েল মল্লিক সেখানে একজন স্টারের ভূমিকায়। মানে, স্বমহিমায়! হাড়কাঁপানো ঠান্ডার চোটে তিনি তো বলেই ফেললেন, ‘‘এর মধ্যেই বিভিন্ন রকম কস্টিউম পরতে হচ্ছে। সিনেমায় এটাও দেখানো হচ্ছে, যে ক্যামেরার সামনে একটা কস্টিউম পরে আছি। কিন্তু যখনই কাট বলা হল, অমনি একটা জ্যাকেট চাপিয়ে নিলাম! ক্যামেরার সামনে উই লুক নাইস অ্যান্ড এভরিথিং, কিন্তু তার জন্য কতটা হার্ডওয়ার্ক করতে হয় আমাদের, দর্শক যদি বুঝতেন!’’ 

দেড় বছর পর ছবি করছেন। অনেকেই বলছেন, এটা আপনার ‘কামব্যাক ফিল্ম’। কামব্যাক করার জন্য এই ছবিটাই পছন্দ হল কেন?
জানি না কেন লোকে বলছে, যে এটা আমার কামব্যাক ফিল্ম! ছবি করার ব্যাপারে আমি বরাবরই খুব সিলেক্টিভ ছিলাম। বছরে খুব বেশি হলে তিনটে করে ছবি করেছি। কিন্তু অনেক বছর ধরে কাজ করার পর মনে হল, খিদেটা বড্ড বেড়ে গিয়েছে! দর্শক আরও কিছু এক্সপেক্ট করছেন আমার থেকে। মাঝখানে যে ক’টা স্ক্রিপ্ট পেয়েছি, সবক’টা পড়েই মনে হয়েছিল এটা তো করে ফেলেছি! কিন্তু এই ফিল্মটা এমনই, যেখানে না বলার জায়গাই ছিল না। প্রথম কারণ, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। হি ইজ ওয়ান অফ দ্য বেস্ট ডিরেক্টর্স উই হ্যাভ ইন দি ইন্ডাস্ট্রি। দ্বিতীয় কারণ, আমার চরিত্রটা। 

চরিত্রটার কথা একটু বলুন...।
গল্পটা একটা ছবির মধ্যে আরেকটা ছবির শ্যুটিং নিয়ে। আমার চরিত্রের নাম রাই চ্যাটার্জী। বড় স্টার। শি ইজ মোর ইনটু গ্ল্যামারাস ফিল্মস। কিন্তু সেই রাই-ই একটা অফ-বিট ছবিতে সাধারণ গৃহবধূ মন্দিরার চরিত্র করছে! কৌশিকদা অবশ্য বলছেন, আমার সঙ্গে একটু একটু মিল আছে বলে আমাকে ভেবেই উনি স্ক্রিপ্ট’টা লিখেছেন! পড়তে পড়তে কিছু জায়গায় আমিও চমকে উঠেছি! কিন্তু ওইটুকুই, ব্যক্তিত্বের দিক থেকে রাই চ্যাটার্জীর সঙ্গে আমার কোনও মিল নেই। 

কোয়েল মল্লিক এই মুহূর্তে নিজের ব্যক্তিত্বকে কীভাবে বর্ণনা করবেন?
আমি এখন অনেকটা শান্ত। কাম, কম্পোজ্‌ড। একেবারেই রাই চ্যাটার্জীর মতো নই। রাই খুব কাট থ্রোট। যেটা পছন্দ করবে না, মুখের উপর বলে দেবে। ওকে সব সময় বোঝাতে হবে, যে শি ইজ আ স্টার! খুব মুডি, টেম্পেরামেন্টাল। আমি ওরকম বদমেজাজি নই! 

গোটা ছবিতে ফিল্মস্টারদের ব্যক্তিগত জীবন আর পরদা-জীবনের ফারাকটা রয়েছেই। সেটা কি কোথাও সেল্‌ফ রেফারেন্‌শিয়াল?
একজন পেশাদার স্টার যখন ক্যামেরার সামনে যায়, সে তখন অন্য মানুষ। আবার তার একটা পার্সোনাল লাইফও রয়েছে। সেখানেও সে আলাদা মানুষ। আমার মনে হয়েছিল, দর্শক সব সময় স্টারদের বড় পরদাতেই দেখেন। কিন্তু বিহাইন্ড ক্যামেরা স্টার’রা কীরকম, তাঁরা কীভাবে জীবন কাটান, মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন— সেগুলো জানার উৎসাহ দর্শকের সব সময়েই থাকে। তাঁরা তো কেবল বাইরে থেকে বানানো ছবিটাই দেখতে পান। এই ছবিটা সেই দিক থেকেও আলাদা।

কোয়েল মল্লিকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মানুষের অনেক উৎসাহ। বহু জল্পনাও তৈরি হয়, আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে...।
জল্পনাগুলো আমার খুবই বোকা বোকা লাগে! ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা জীবন নিয়ে আয়্যাম ওয়ে টু সিরিয়াস। সেগুলো নিয়ে যদি গুজব ছড়ায়, জিনিসটা রাবিশ ছাড়া আর কিছুই হয় না শেষ পর্যন্ত। মিডিয়ারও অনেক বেশি রেসপন্সিবল হওয়া দরকার। তারা মনে করে, যে কোনও মানুষের পার্সোনাল লাইফ নিয়ে খেললে একটা এক্সট্রা স্পাইস পাওয়া যায়! কিন্তু তারা হয়তো ভুলে যায়, তাদের ব্যাপারেও যদি এ ধরনের কথাবার্তা ছড়ানো হয়, কতটা খারাপ লাগে। আই থিঙ্ক ইট’স আ ভেরি ইমম্যাচিওর অ্যাক্ট অফ জার্নালিজম অলসো। 

‘সুরিন্দর ফিল্মস’ আপনার ঘরের প্রোডাকশন, সুতরাং কাজ করার স্বাচ্ছন্দ্য-স্বাধীনতা নিশ্চয়ই বেশি?
বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে যে ক’টা হাতেগোনা প্রযোজনা সংস্থা আছে, যারা নিয়মিত ভাল ছবি বানায়, তাদের মধ্যে ‘সুরিন্দর’ অন্যতম। এদের সঙ্গে আগেও বহু ছবি করেছি। ফলে কাজের প্রসেসটা আমার অজানা নয়। ধরুন, কৌশিকদা একটা ছবির কথা (নিসপাল সিংহ) রানেকে বললেন। রানে আবার আমাকে বলল, যে কৌশিকদা তোমাকে নিয়ে একটা ছবির কথা ভাবছে, তুমি একটু শোনো। তারপর গোটা প্রসেসটা শুরু হয়। অন্য প্রোডাকশন হাউসেও হয়তো ব্যাপারটা এক। কিন্তু এখানে আমরা সকলেই ভীষণ প্রোফেশনাল। তারপর পার্সোনাল’টা তো পার্সোনাল। সেটা আমার আর রানের বাড়ির ভিতরকার জীবন। এবং এটা আমরা দু’জনেই বজায় রাখি।  

তাহলে রোমান্টিক ছবি থেকে কি এবার ধীরে ধীরে সরে আসবেন?
এই ছবিটাও তো রোম্যান্স! একটা প্রবলেম আছে এই কনসেপ্ট নিয়ে। মুম্বইতে কিন্তু লোকে এভাবে ভাবে না। ওখানে দীপিকা পাড়ুকোন ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ও করছে, ‘পিকু’ও করছে! একজন অভিনেত্রী হিসেবে বলতে চাই, টাইপকাস্ট করা বন্ধ করা হোক প্লিজ! যেমন ধরুন, রাইমা। ও-ও কতবার বলেছে, আলাদা আলাদা চরিত্র করতে চায়! আমার কাছে একটা জিনিস পরিষ্কার। যেভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে চাই, সেভাবেই করব। এমন নয়, যে অন্যধারার ছবি এখন থেকে পেলেই করব! আমি যখন শুরু করেছিলাম, কলেজে পড়তে পড়তে, কোনও স্ট্রাগ্‌ল করতে হয়নি আমায়। খুব তাড়াতাড়িই সব হয়েছে। অডিয়েন্স আমায় নিয়েছেন, ভালবেসেছেন। আয়্যাম ব্লেস্‌ড দ্যাট ওয়ে। তার পরেই মনে হয়, যে অন্যরকম কিছু করতে হবে। বৃদ্ধা হয়ে যাতে নাতি-নাতনিদের বলতে পারি, কী কাজ করেছি দেখ!

আপনি এই ব্যাপারে খুব নিশ্চিত না, যে আগামী প্রজন্ম আপনার কাজ পছন্দ করবে?
আমাকে ঠাকুমা-পিসিমারা যেমন পছন্দ করেছেন, তেমন কমবয়সিরাও। কয়েকদিন আগেই একজন আমাকে বললেন, আমি চাই আমার মেয়ে বড় হয়ে তোমার মতো হোক! সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয়, অভিনেতা হিসেবে আমার একটা দায়িত্ব থেকে যায়। কারণ লোকেরা আমাকে রোলমডেল হিসেবে দেখছে মানে, আমাকে ওই রোলটায় আগে ফিট করতে হবে। একই জায়গা থেকে আমি আমার এনজিও’র কাজগুলোও খুব আর্নেস্টলি করি। কারণ আমি সমাজের জন্য একটা কাজ করলে তার যা ইমপ্যাক্ট হয়, শুধুমাত্র সেই কারণেই এই কাজগুলো করে যাওয়া উচিত বলে মনে করি।  

রোলমডেল হওয়া, ইমেজ তৈরি করা তারকাদের পেশার একটা অংশ মনে করা হয়...এটা নিয়ে কোনও কনফ্লিক্ট নেই আপনার?
একেবারেই না। খুবই হ্যাপি এনভায়রনমেন্টে আমি বড় হয়েছি। জয়েন্ট ফ্যামিলিতে। ফলে পারিবারিক মূল্যবোধ কী, সেটা ছোট থেকে জেনেই বড় হয়েছি। ছোটবেলায় মা আমাকে গরমের ছুটিতে মিশনারিজ অফ চ্যারিটিতে নিয়ে যেতেন। তখন ভাবতাম, সকলে কী সুন্দর সামার ভেকেশনে দার্জিলিং-কালিম্পং ঘুরতে যাচ্ছে, আর মা আমাকে এখানে নিয়ে আসছেন! বিকজ মা ওয়ান্টেড মি টু সি দি আদার সাইড অফ লাইফ অলসো। জীবনটা যে গোলাপ দিয়ে সাজানো বিছানা নয়, সেটা খুব ছোটবেলায় মা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে এনজিও অ্যাক্টিভিটিজ আমি খুব ভালবেসেই করি। যে কারণে অ্যাডভোকেট অফ ইউনিসেফ হয়ে আমার পক্ষে বেশ ভাল হয়েছে। ইউনিসেফের নামটা থাকায় সমাজের জন্য আরও কিছু ভাল কাজ করাটা সুবিধের হয়েছে। 

Koel Mallick Surindar Films Koushik Ganguly
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -