SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

ঐন্দ্রিলার সম্পর্কে বেশি কথা বলি না। লোকের নজর লেগে যাবে বাবা, কী দরকার!

আরুণি মুখোপাধ্যায় | মার্চ ১৪, ২০১৭
Share it on
টালিগঞ্জের ব্লু-আইড বয় তিনি। অঙ্কুশ হাজরা। বাইপাসের ধারে অভিজাত হাউজিংয়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে লাক্সারি বিএমডব্লিউ— পুরোদস্তুর তারকা তিনি। স্ট্রেট ব্যাটে খেলতে ভালবাসেন। নিজের অ্যাপার্টমেন্টেই ‘ওবেলা’র সঙ্গে আড্ডা দিলেন নায়ক।

নিন্দকেরা ইদানীং একটা কথা বলছেন...।
(হেসে) কী?

শেষ দু’বছরে বাণিজ্যিক বাংলা ছবিতে কোনও অভিনেতা যদি সবচেয়ে উন্নতি করে থাকেন, সেটা অঙ্কুশ।
আচ্ছা! এর পিছনে একটা কারণও রয়েছে। গত দু’বছরে ইন্ডাস্ট্রিতে সেভাবে কোনও কমার্শিয়াল হিরো আসেনি। যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা প্রতিষ্ঠিত। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা খানিকটা বাড়িতে নতুন বউ আসার মতো! সকলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। সাধারণ পরিবার থেকে এসে, এই বয়সেই নিজের বাড়ি-গাড়ি করতে পেরেছি, এটাই অনেক।

পরের ছবিটা কি ‘এসকে...’র ব্যানারে ‘খিলাড়ি’র সিক্যুয়েল?
(হেসে) খবর আমার কানেও এসেছে। উইকিপিডিয়াতেও দেখেছি। কিন্তু ‘খিলাড়ি’র সিক্যুয়েলে আমি কাজ করছি না। রবি কিনাগির পরিচালনায় এই মুহূর্তে একটাই ছবি করছি। ছবিটায় নুসরত (জাহান) এবং সায়ন্তিকা (বন্দ্যোপাধ্যায়) রয়েছে। আমার আরও একটি ছবি নিয়ে গুজব রয়েছে, ‘কৃষ’। সেটাও করছি না!

২০১৬’তে আপনার চারটে ছবি মুক্তি পেয়েছে। সাফল্যের ফান্ডাটা কী?
ফান্ডা একটাই, মার্কেটে অত হিরো নেই। তাই... (জোরে হাসি)! ইন্ডাস্ট্রিতে আরও হিরো আসা দরকার। বছরে পাঁচ-ছ’টা ছবি রিলিজ করলেই যে অভিনেতার কেরিয়ার দারুণ এগোচ্ছে, এটা আমি মনে করি না। টলিউড আঞ্চলিক ইন্ডাস্ট্রি। দু’বছরে একটা ছবি করলে আমাদের পেট চলবে না। ছবি প্রতি তো আমরা আর ৪০-৫০ কোটি টাকা রোজগার করি না! প্রোডাকশন হাউসের সংখ্যাও আরও বৃদ্ধি পাওয়া দরকার। যেভাবেই হোক, হল বন্ধ হয়ে যাওয়া রুখতে হবে। 

সাত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাটানোর পরও কোনও বিতর্ক বা লিঙ্কআপের গল্পে আপনি অনুপস্থিত। ক্লিন ইমেজটা কি সচেতনভাবেই...।
বাড়ি থেকে বার হলে, তবে তো বিতর্ক হবে! যে সব জায়গায় গেলে সাধারণত ভাবমূর্তি খারাপ হয়, সেই জায়গাগুলোতেই আমি যাই না। ডিস্কে যাই-ই না। বাড়িতেই প্লে-স্টেশনে গেম খেলি। জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাই। ইচ্ছে হলে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে হাউসপার্টি করি। ধোয়া তুলসীপাতা আমিও নই। কিন্তু যদি এদিক-ওদিক করিও, সেই খবর আপনারা পাবেন না (জোরে হাসি)। 

বাড়ি-জিম-স্টুডিও। এটাই কি তাহলে আপনার শিডিউল?
আমার বন্ধুরা প্রত্যেকেই ইন্ডাস্ট্রির বাইরের। ইন্ডাস্ট্রির কারও সঙ্গে আমার অত্যধিক মাখামাখি নেই। তাই ঝগড়াও হয় না। দেখবেন, ছবি রিলিজ ছাড়া মিডিয়ায় আমার ইন্টারভিউও বেরোয় না। 

ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক কাপ্‌লই ‘ভাল বন্ধু’। আপনি এবং ঐন্দ্রিলা (সেন) তো সেখানে বেশ খোলামেলা...।
ব্যক্তিগত পরিসরে আমিও খুব একটা খোলামেলা নই। এতে সম্পর্কটা খেলো হয়ে যায়। ব্যক্তিগত সম্পর্কটা ব্যক্তিগত রাখাই ভাল! ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে লোকজনের মনে প্রচুর প্রশ্ন। আমি কখনও বলিনি যে ও শুধু আমার বন্ধু, বা বোনের মতো! ঐন্দ্রিলা আমার জীবনের এমন একজন, যে আমার এটিএমের পিন নম্বরও জানে। ওকে কোনওদিন অস্বীকার করতে পারব না। দূরেও সরাতে পারব না। কোনও মানুষই নিজের ভবিষ্যৎ কী তা জানে না। আমিও না। এই কারণেই ঐন্দ্রিলার সম্পর্কে বেশি কথা বলি না। লোকের নজর লেগে যাবে বাবা, কী দরকার! 

আপনি নাকি অর্থোডক্স। সত্যি?
এই মুহূর্তে আমাকে যা দেখছেন, আমি সেটাই। সাফল্যের হ্যাংওভারটা আমার মধ্যে বেশিক্ষণ থাকে না। 

ব্যাক টু ব্যাক ছবি, শো, রিয়্যালিটি শো। বর্ধমানের বাড়ি যাওয়ার সময় হয়?
পাঁচ-ছ’মাসে হলেও যাই তো। এই তো কয়েকদিন আগেই ঘুরে এলাম। এই প্রসঙ্গে সকলের একটা ভুল ধারণা ভাঙতে চাই।

কী সেটা?
ফিল্মের হিরো মানেই ব্যাপক ব্যস্ত— এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। দশটা-পাঁচটার চাকরি যাঁরা করেন, তাঁরা আমাদের চেয়েও ব্যস্ত। ছুটিও কম তাঁদের। অনেকে যে বলেন, খুব ব্যস্ত! ফোন ধরার সময় নেই। আমি এতদিনেও অতটা ব্যস্ত হয়ে উঠতে পারলাম না (হাসি)। শ্যুটিং না চললে বাড়িতে বসে থাকতে আমার তো বেশ বিরক্ত লাগে। 

আপনার স্যান্টো (ডাকনাম) নামটা কে রেখেছিলেন বলুন তো?
(একটু ভেবে) আমার দাদা, অভিদা। আগে আমার নাম ছিল রনি। স্যান্টো নামটা আমার নায়িকাগুলো এত রটিয়ে দিয়েছে, কী বলব! এই নুসরত, মিমি...!

যৌথ প্রযোজনার ছবি থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন। কোনও বিশেষ কারণে?
এখন যে প্রযোজনা সংস্থায় কাজ করছি, তাদের সঙ্গে আমার এক্সক্লুসিভ কনট্রাক্ট রয়েছে। তারা যৌথ প্রযোজনায় ছবি করছে না। তাই। ভবিষ্যতে ‘এসকে...’ তে যদি কাজ করি, আর ওরা যৌথ প্রযোজনায় কাজ করে, তাহলে নিশ্চয়ই করব।

মোস্তাফা সরোয়ার ফারুকীর ‘ডুব’ তো বাংলাদেশের সেন্সর বোর্ডে আটকে দেওয়া হয়েছে। 
শিল্পকে কখনও আটকানো উচিত নয়। কোনও জিনিস পরদায় দেখাতে গেলে, সেটা তো অভিনয় করেই দেখাতে হবে। মহিলাদের উপর অত্যাচারের দৃশ্য দেখাতে গেলে, সেটা তো আমাকে শ্যুট করতেই হবে।

পীযূষ সাহার ছবিতে ঐন্দ্রিলার ডেবিউ করার ব্যাপারটা তো পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেল...।
অনেকেই প্রশ্ন করেন। বলেন, যাঁর হাত ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে আসা, তাঁর ছবিতে কেন কাজ করি না। কারও কাছে ব্যাখ্যা করতে চাই না! শুধু এইটুকুই বলব, ‘কেল্লাফতে’র সময়টায় আমাকে কী সহ্য করতে হয়েছিল, সেটা শুধু আমিই জানি। হাজার হাজার কারণ রয়েছে, যে কারণে ‘প্রিন্স এনটারটেনমেন্ট’এ (পীযূষের প্রযোজনা সংস্থা) কাজ করি না। তারই একটা নমুনা ঐন্দ্রিলা পেল! 

‘কেল্লাফতে’র সময় আপনাকে এবং পরিচালক সুজিত গুহকে নাকি ট্রেনে করে হায়দরাবাদ যেতে হয়েছিল? 
হ্যাঁ। দেখে অবাক লেগেছিল, যে একজন নবাগত নায়িকা প্রযোজকের সঙ্গে প্লেনে চড়ে যাচ্ছে। আর যে পরিচালক় একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি দিয়েছেন, তিনি ট্রেনের সেকেন্ড ক্লাসের যাত্রী! আমার কথা তো বাদই দিন! সুজিতদা’র চোখে জল দেখেছিলাম সেদিন।   

অন্যধারার ছবিতে তো বেশ প্রশংসিত হলেন। আর কাজ করছেন না কেন?
ব্যাপারটা তো আমার হাতে নেই। অন্য জঁরের ছবির ক্ষেত্রে অনেকেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। আবিরদা (চট্টোপাধ্যায়), পরমদা (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়), যিশুদা (সেনগুপ্ত)। স্বাভাবিকভাবেই এদের কাছেই আগে অফার যাবে। মাল্টিস্টারার ছবিতে অভিনেতার প্রয়োজন। তাই কাজের সুযোগ পাই। কিন্তু একার ছবি হলে, অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে তারপর আমার কাছে অফার আসবে।

Ankush Actor Tollywood
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -