SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

ঈশ্বরের ইডেনে নরকের পায়ের ছাপটা তো আসলে মানুষেরই

দেবমাল্য চক্রবর্তী | মার্চ ২০, ২০১৭
Share it on
ক্লাইমেট চেঞ্জ ইজ হ্যাপেনিং। বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ ভাল, কিন্তু পৃথিবীর? সমুদ্র উঁচু হচ্ছে, বরফ গলে যাচ্ছে, ভয়ঙ্কর ওয়েদার প্যাটার্ন। এমনি এমনি নয় নিশ্চয়ই? কাজেই মেনে নিতে হবে, ক্লাইমেট চেঞ্জ ইজ হ্যাপেনিং! লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন ‘বিফোর দ্য ফ্লাড’এ।

ক্লাইমেট চেঞ্জ ইজ হ্যাপেনিং। বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ ভাল, কিন্তু পৃথিবীর? সমুদ্র উঁচু হচ্ছে, বরফ গলে যাচ্ছে, ভয়ঙ্কর ওয়েদার প্যাটার্ন। এমনি এমনি নয় নিশ্চয়ই? কাজেই মেনে নিতে হবে, ক্লাইমেট চেঞ্জ ইজ হ্যাপেনিং! তাহলে আমরা কী করব? এত বিজ্ঞান, এত জ্ঞান দিয়ে কি ‘জ্ঞানপাপী’ হয়ে বসে থাকব? লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন ‘বিফোর দ্য ফ্লাড’এ। পরিচালক ফিশার স্টিভেন্সকে। সম্প্রতি কলকাতার আইনক্স কোয়েস্টে স্পেশ্যাল স্ক্রিনিং হয়ে গেল ছবির।

সিনেমার লোক
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও’র কী দরকার পড়েছিল হঠাত্ ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে ডকুমেন্টারি বানানোর? উত্তরটা ছবির প্রথমেই রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিদূত হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন লিওনার্দো। মার্কিন মিডিয়ায় তাঁকে তুলোধোনা করা হচ্ছে এই বলে, ‘সিনেমার লোক’ হয়ে পরিবেশ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? হয়তো সেই উত্তরটা দিতেই একের পর এক পরিবেশ সংক্রান্ত ‘রিয়্যালিটি’গুলোর মুখোমুখি হয়ে লিও দেখিয়ে দিয়েছেন, তিনি কেন এই পথে হাঁটছেন। বিশেষ়জ্ঞদের জিগ্যেস করে উত্তর খুঁজে দিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার ট্রপিক্যাল রেন ফরেস্ট আমেরিকার মাল্টি ন্যাশনালরা কীভাবে ঘুষ খাইয়ে জ্বালিয়ে ছারখার করছে। বলে দিয়েছেন, ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার বন্ধ না হলে কত তাড়াতাড়ি পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। 

দ্য গার্ডেন অফ আর্থলি ডিলাইটস
সত্যিই এসব না করলেও চলত লিওনার্দোর। কিন্তু ওই যে হেরোনেমাস বশের ‘দ্য গার্ডেন অফ আর্থলি ডিলাইটস’ মাথায় বসে গিয়েছিল! তারপর ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের কথাগুলোও কানে ঢুকেছিল। তখন তিনি সবে বিশের কোঠায়। 

গবেষণাই কি সার?
পৃথিবীর তাবড় ভূবি়জ্ঞানী, পরিবেশবিদের সঙ্গে কথা বলেছেন লিওনার্দো। যাঁরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন, তেল কোম্পানি-লবিস্টরা যাঁদের কিনে নিয়েছে, তাঁদের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লিওনার্দো। প্রশ্ন তুলেছেন, আমরা কি আরও ১০-২০ বছর গবেষণা করেই কাটাব? বলে দিয়েছেন, যত তাড়াতাড়ি প্রেডিক্ট করা হয়েছিল, তার চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুত জলবায়ু বদলেছে। এভাবে চলতে থাকলে কী হবে, সেই প্রশ্নও করেছেন বিশেষজ্ঞদের। যেখানে তাঁরা বলেই দিচ্ছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ না হলে মরুভূমিতে পরিণত হবে পৃথিবী। হিটওয়েভ এতটাই বেড়ে যাবে, বহু জায়গায় আর থাকাই যাবে না। মানচিত্রে থাকবে না কোনও বরফের চিহ্ন!

এনভায়রনমেন্টাল রেফিউজি
সারা ছবি জুড়ে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ বজায় রেখেছেন লিওনার্দো। ব্যাখ্যা করেছেন, ‘অ্যান ইনকনভিনিয়েন্ট ট্রুথ’ বলে। তাঁর স্টার পাওয়ারকে কাজে লাগিয়েই বিশ্বের বাছা-বাছা এক্সপার্টের মন্তব্য পাওয়া গিয়েছে। ডকুমেন্টারিতে যেমন ‘ফ্যাক্টস’ আছে, আছে ‘ইমোশন’ও। তাই হেলিকপ্টার থেকে কানাডার টার স্যান্ডস দেখে লিওনার্দো বলে উঠছেন, ‘কাইন্ডা লুকস লাইক মরডর’! হবিটের কাল্পনিক জায়গা তবে সত্যি! লিওনার্দো চলে যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ায়, যেখানে মানুষের সৃষ্টি করা দাবানলে উদ্বাস্তু হাতি, ওরাংওটাং, গন্ডার। গিয়েছেন সমুদ্রের নীচে, যেখানে এখন আর প্রবালপ্রাচীর নেই। গিয়েছেন এমন সব দ্বীপে, যেখানকার নাগরিকরা ‘এনভায়রনমেন্টাল রেফিউজি’! দেখিয়েছেন, এই কারণেই মেক্সিকোতে জলের জন্য সংঘর্ষ হয়। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ হয়। 

যুক্তির পাল্টা
ছবির একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা জুড়ে রয়েছে ভারতও। এ দেশে সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্টের কথা বলে আসা পরিবেশবিদ সুনীতা নারাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন লিওনার্দো। অভিনেতা প্রশ্ন করছেন, কেন ভারতে এত বেশি পরিমাণে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে? সুনীতা পাল্টা বলছেন, ‘‘আগে আপনারা, আমেরিকানরা এত বেশি পরিমাণে ফসিল ফুয়েল ব্যবহার বন্ধ করুন।’’ লিওনার্দো মেনে নিচ্ছেন সে কথা। সুনীতা যুক্তি দিচ্ছেন, যদি এদেশের গরিবরা ঘুঁটে ছেড়ে ফসিল ফুয়েলে চলে যান, পৃথিবীর দশাটা কী হবে! তথ্য দিয়ে প্রমাণ করে দিচ্ছেন, ২.২জন ফরাসি যা বিদ্যুত্ ব্যবহার করেন, ৩৪জন ভারতীয় যা ব্যবহার করেন, ৬১ জন নাইজেরিয়ান যা করেন, একজন আমেরিকাবাসী একাই তা করেন।

সমাধানও রয়েছে
তবে শুধু সমস্যা নয়, সমাধানও খুঁজেছেন লিওনার্দো। কীভাবে পে-রোল ট্যাক্স কমিয়ে কার্বন ট্যাক্স বাড়ানো যায়। সিগারেটের দাম বাড়িয়ে সিগারেট খাওয়া কমানোর দাওয়াই আর কী! কীভাবে সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানির মতো পুরোপুরি সোলার এনার্জির দিকে এগনো যায়। কিন্তু সেটাই কি যথেষ্ট? লিওনার্দো কথা বলেছেন, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে। তিনি অবশ্য বিজ্ঞানে ভরসা রাখছেন। আবার আশঙ্কাও করছেন, যদি তাঁর নাতি-নাতনিরা গ্লেসিয়ার কী জিনিস, সেটাই দেখতে না পারে!

আশায় মরে চাষা
নাসা’র প্রেসিপিটেশন প্রোগ্রামের অন্যতম মুখ পিয়ার্স সেলার্সের কথাগুলো শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে। প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে আক্রান্ত একটা লোক অনবরত কাজ করে যাচ্ছেন, পৃথিবীর কোন 
জায়গাটা কেমনভাবে বদলে যাচ্ছে সেটা মাপতে। কারণ তিনি আশাবাদী, ডেটা না থাকলে, বিজ্ঞান না থাকলে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের মুখ ঘোরানো সম্ভব নয়। হাতে গোনা সময় তাঁর হাতে। লিও জিগ্যেস করছেন, পিয়ার্স বলছেন, ‘আমি আসলে বরাবরই আশাবাদী’! 

Before the Flood Leonardo Di caprio
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -