SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

তারকাদের টুইট-লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদন | মার্চ ১৫, ২০১৭
Share it on
তাঁরা ছবি বানান, অভিনয় করেন। গান করেন, লেখেন। সাজেন, ঘুরে বেড়ান, হাসেন। না না, শুধু হাসেন না। ঝগড়াও করেন। তবে তারকারা সামনাসামনি ঝগড়া কম করেন। ভার্চুয়াল লড়াইটাই হয় বেশি। টুইটারের মতো মাধ্যম থাকতে ঝগড়ার আর অসুবিধা কী?

সোনম কপূর-শোভা দে
শুরুটা করেছিলেন শোভা দে-ই। ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’ মুক্তি পাওয়ার পরের ঘটনা। শোভা একটা লেখায় তেড়েফুঁড়ে নিন্দে করেছিলেন ছবিটার। সেই অবধি করে থেমে গেলেও ঠিক ছিল। সোনমের ব্যাপারে লিখে বসলেন, ‘এমন একটা মেয়ে, যার মধ্যে একটুও উষ্ণতা নেই’! লেখাটা নিজের ব্লগ পেজেও পোস্ট করেছিলেন শোভা। সোনমও চুপ করে থাকেননি। টুইটারে লিখেছিলেন, ‘প্লিজ কেউ শোভা দে’কে সিরিয়াসলি নেবেন না। উনি একজন নিষ্কর্মা ফসিল। মেনোপজেও ভুগছেন’। পরে অবশ্য শোভাই আবার মিটমাট করে নেন। টুইট করেন, ‘সোনম কপূর, আমি ভুল করেছিলাম। তুমি সুপার হট’! কে জানে সে জন্যই কি না, ২০১৬’র অলিম্পিক্সের পরে শোভা যখন অ্যাথলিটদের কটাক্ষ করে টুইট করেছিলেন এবং অভিজিৎ ভট্টাচার্য তেড়েমেড়ে শোভাকে গালাগাল দিচ্ছিলেন, সোনম কিন্তু পাল্টা অভিজিৎকেই ভণ্ড বলেছিলেন!

রামগোপাল বর্মা-সানি লিওনি
আন্তর্জাতিক নারীদিবসে সবক’টা ভার্চুয়াল মাধ্যমই ভরে যায় ভাল ভাল পোস্টে। তারকারাও ব্যতিক্রম নন। নারী-প্রশস্তির টুইট, ফেসবুক পোস্ট— সবই করেন তাঁরা। তবে ‘রামগোপাল বর্মা কি আগ’এর মতো ছবি যিনি বানিয়ে উঠতে পেরেছেন, তাঁর কাছ থেকে স্বাভাবিক কিছু আশা করাটাই পাগলামি নয় কি? রামগোপাল বর্মা স্রেফ টুইট করে বসলেন, ‘আমি চাই প্রত্যেক নারী পুরুষদের এমনভাবে সুখী করুন, যেমনটা সানি লিওনি করেন’। ব্যস, টুইটার জুড়ে হইহই-রইরই! রামু প্রথমটায় থোড়াই কেয়ার হাবভাবই দেখাচ্ছিলেন। তারপর অবশ্য ক্ষমটমা চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ চালটা চাললেন সানিই। গোটা বিষয়টা সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছিল।  রামুর নামই নিলেন না তারকা। খালি বললেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, পরিবর্তন তখনই আসবে যখন আমরা এক সুরে কথা বলব। তাই, কথা বলার আগে শব্দগুলো ভেবে বাছুন।’’ একই কথা টুইটও করেছিলেন তিনি, সঙ্গে ‘পিস অ্যান্ড লাভ’ লিখে। একই সঙ্গে চরম উপেক্ষা এবং মুখের মতো জবাব— দু’টোই পেয়ে গিয়েছেন রামগোপাল।

অভিজিৎ ভট্টাচার্য-সোনাক্ষী সিংহ
বলিউডের অনেকেই সলমন খানকে ভালবাসেন। সে তিনি হরিণের উপর গুলিই চালান, কি মানুষের উপর গাড়িই চালিয়ে দিন। পরের অপরাধটার জন্যই যখন জেল হয়েছিল সলমনের, বলিউডের অনেকেই তাঁর হয়ে কথা বলেছিলেন, টুইট করেছিলেন। কিন্তু গায়ক অভিজিত ভট্টাচার্যের টুইট সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। অভিজিৎ দুর্ঘটনার জন্য ফুটপাথবাসীদের দোষই শুধু দেননি, তাঁদের পথের কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই টুইটে আরবাজ খান এবং সোনাক্ষী সিংহকে ট্যাগও করেছিলেন অভিজিৎ। সোনাক্ষী কিন্তু মোটেই পছন্দ করেননি ব্যাপারটা। অপছন্দের কথা জানিয়েছিলেন টুইট করেই, ‘আমি আমার বন্ধুর পাশে রয়েছি। কিন্তু এ ধরনের ইনসেন্সিটিভ এবং নেতিবাচক কথাবার্তা মোটেই মেনে নিতে পারছি না। দয়া করে আপনার টুইটে আমায় আর ট্যাগ করবেন না স্যার’। ঋষি কপূর তো টুইটারে যারপরনাই গালাগাল দিয়েছিলেন অভিজিৎকে! গতিক বুঝে অভিজিৎও নানা কথা বলে, টুইট করে পরিস্থিতি খানিকটা মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন বটে। কিন্তু বিশেষ লাভ হয়নি।

জে কে রোওলিং-পিয়ার্স মর্গ্যান
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ট্র্যাভেল ব্যানই রোওলিং এবং পিয়ার্স মরগ্যানের টুইট-যুদ্ধের মূল। এক প্যানেল ডিসকাশনে এ নিয়ে কথা বলছিলেন পিয়ার্স। তখনই তাঁর উদ্দেশ্যে বিশেষ একটি শব্দ ব্যবহার করেন অস্ট্রেলিয়ান কমেডিয়ান জিম জেফ্রিস। ব্যস, রোওলিং টুইটারে বলে বসেন যে, গোটা ব্যাপারটায় যারপরনাই তুষ্ট হয়েছেন তিনি। পিয়ার্স পাল্টা টুইট করেন, ‘এ জন্যই জীবনে হ্যারি পটারের একটা শব্দও পড়িনি’! ব্যস, লড়াই শুরু! মরগ্যান তাঁর টুইটে লিখলেন, রোওলিং ‘অহঙ্কারী, নেতিবাচক, উদ্ধত’। রোওলিং আবার টুইট করে মরগ্যানকে ‘বাস্তবজ্ঞানহীন, নীতিহীন, ধর্মান্ততার সমর্থক তারকা’ বলে বসলেন। বেশ চলছিল। হঠাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি টুইটারে একটা স্ক্রিনশট শেয়ার করলেন রোওলিং। সেখানে নানা ভাল-ভাল কথা লেখা তাঁর সম্পর্কে। ক্যাপশনে লিখলেন, ‘এখনই একজন পাঠাল এটা। যিনি লিখেছেন, আত্মপরিচয় দেবেন? তাঁকে ধন্যবাদ জানাতাম’! সঙ্গে সঙ্গে মরগ্যান তো তাঁকে হাম্বলব্র্যাগ-ট্যাগ বলে টুইট করে ফেললেন। পরে জানা গেল, লেখাটা মরগ্যানেরই! ২০১০ সালের মার্চে ১০০জন গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ তারকার তালিকা বানিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই ৯৭তম নামটি রোওলিংয়ের। মরগ্যান অবশ্য তখন ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছিলেন, ‘‘আমি তো জানি ওটা আমারই লেখা— এখন ভেবে অবাক হচ্ছি ওঁকে অত উঁচুতে জায়গা দিয়েছিলাম কীভাবে,’’ এসব বলে। কিন্তু তখন কি আর ভবি ভোলে!

টেলর সুইফ্ট-নিকি মিনাজ
এমনিতে টেলর এবং নিকি রীতিমতো বন্ধু। টুইটারে লড়াইটা হয়েছিল নেহাতই ভুল-বোঝাবুঝির ফলে। এক মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে নমিনেশন পাওয়া নিয়ে যে ভুল-বোঝাবুঝির শুরু। টেলর এবং নিকি, দু’জনেই নিজের নিজের কাজের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যাটা হয়েছিল,  নিকি ‘ভিডিও অফ দ্য ইয়ার’ বিভাগে নমিনেশন পাননি। তারপরেই তিনি টুইট করেন, ‘তোমার ভিডিও যদি খুব রোগা মহিলাদের সেলিব্রেট করে, তাহলেই তুমি ভিডিও অফ দ্য ইয়ারের মনোনয়ন পাবে’। এখানেই বাধে গোলমাল, কারণ এই ক্যাটেগরিতে নমিনেশন পেয়েছিল টেলরের ‘ব্যাড ব্লাড’। টেলর ধরে নেন, নিকির টুইটটা তাঁকে কটাক্ষ করেই। পাল্টা টুইট করেন, ‘আমি বরাবর তোমাক ভালবেসেছি, সাপোর্ট করেছি। আর মেয়েতে-মেয়েতে ঝামেলা বাধানোটাও তো ঠিক তোমার ধরন নয়’! নিকি সঙ্গে সঙ্গে টুইট করে জানান, টেলরের কথা ভেবে কিছুই লেখেননি। তিনিও টেলরকে খুব ভালবাসেন। ভাগ্যিস ঝগড়াটা বেশিদূর এগোয়নি!

Tweet Bollywood Sobha De Sonam Kapoor Sonakshi
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -