SEND FEEDBACK

English
Bengali

ইরফানের উপর আমার ক্রাশ রয়েছে! ...হি ইজ রিয়েলি হ্যান্ডসাম

আরুণি মুখোপাধ্যায় | মে ১৬, ২০১৭
Share it on
‘‘ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে আরেকজনকে আমার দারুণ লাগে। ইরফান খান। ওঁর উপর আমার ক্রাশও রয়েছে। ইরফানের অভিনয়ের রেঞ্জটা মুগ্ধ করার মতো। দুরন্ত অভিনেতা। অ্যান্ড হি ইজ রিয়েলি হ্যান্ডসাম!’’

জাতিবৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করে আমেরিকান সকার জগতে নিজের স্থান পোক্ত করেছিলেন ওজে সিম্পসন। আপাতত, স্ত্রী’কে খুনের অপরাধে নেভাডার সংশোধনাগারে ৩৩ বছরের সাজা কাটছেন তিনি। এ বছর অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের সেরা তথ্যচিত্র বিভাগে অস্কার পেয়েছে ‘ওজে: মেড ইন আমেরিকা’। ওজে সিম্পসনের জীবনকে নিয়েই তৈরি হয়েছে এই তথ্যচিত্র। তথ্যচিত্রের প্রযোজক ছিলেন ক্যারোলিন ওয়াটারলো। কেমন ছিল আমেরিকার অন্যতম বিতর্কিত এক চরিত্রকে নিয়ে ছবি বানানো বা অস্কার জয়ের অভিজ্ঞতা? লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ই-মেলে সাক্ষাৎকার দিলেন ক্যারোলিন।

আপনার প্রযোজিত ছবি ‘ওজে: মেড ইন আমেরিকা’ ৮৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে (২০১৭) সেরা তথ্যচিত্রের অস্কার ঝুলিতে পুরেছে। প্রযোজক হিসেবে বিষয়টা কি স্বপ্নপূরণ?
বিশ্বাস করুন, পুরো ঘটনাটা এখনও আমার কাছে স্বপ্নের মতোই! যখন কেরিয়ার শুরু করেছিলাম, কখনও ভাবিনি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস’এর মঞ্চে যেতে পারব। এ বছর তথ্যচিত্র বিভাগেও বেশ ভাল ভাল নমিনেশন্‌স এসেছিল। ইট্‌স কমপ্লিটলি ওভারহোয়েলমিং!

ওজে সিম্পসনের চরিত্রে কী এমন পেলেন, যা আপনাকে তথ্যচিত্র বানাতে উদ্বুদ্ধ করল?
এজরা এডলম্যানই (তথ্যচিত্রের পরিচালক) আমাকে কাজটা করতে রাজি করিয়েছিল। ও বলেছিল, ‘ইট্‌স নট ইভেন রিয়েলি অ্যাবাউট ওজে, বাট ইট্‌স অ্যাবাউট এভরিথিং’! এজরার মাথায় একটা স্টোরিলাইন ছিলই। ও তথ্যচিত্রে শুধু ১৯৯৫ সালে সিম্পসনের আদালত যাত্রাটাকেই দেখাতে চায়নি। বরং তথ্যচিত্রটাকে আরও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বানাতে চেয়েছিল। ওজে’র কেরিয়ার থেকে শুরু করে, আমেরিকার ইতিহাসের বিভিন্ন মুহূর্ত গল্পে তুলে ধরতে চেয়েছিল ও। এজরা আগে থেকেই জানত ইতিহাস নিয়ে আমার একটা দুর্বলতা রয়েছে। সেই কারণেই ও আমাকে অ্যাপ্রোচ করেছিল। ওজে সিম্পসন এমন একজন মানুষ, যাঁর মধ্যে একাধিক বিষয় দেখতে পাবেন। খ্যাতি, জাতিবৈষম্য, পৌরুষ, পারিবারিক অশান্তি, হত্যা, আদালত যাত্রা— কী নেই ওঁর জীবনে!

এজরার সঙ্গে অস্কার হাতে।

তথ্যচিত্রে ওজে সিম্পসনের মোট ৭২ জন পরিচিতের সাক্ষাৎকার দেখানো হয়েছে। এতজন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং তাঁদের সাক্ষাৎকার নেওয়া— কাজটা কতটা সহজ ছিল?
ওজে’র পরিচিতদের রাজি করানো যে সহজ হবে না, সেটা আমরা জানতাম। সমস্যাটা ছিল অন্য জায়গায়! ১৯৯৫ সালে ট্রায়াল চলাকালীন ওজে’র পরিচিত মানুষদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। সেই সময় আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ওঁদের ছিঁড়ে খেয়েছিল! সেই হ্যাংওভারটা ওঁরা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। যাই হোক, আমি আমাদের রিসার্চ টিমের প্রতি কৃতজ্ঞ। ওজে’র পরিচিত মানুষদের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগটা তারাই করেছিল। আমরা চেয়েছিলাম, মানুষগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলতে। তাই তাঁদের ফোন করার সময় প্রায়ই বলতাম, ‘প্লিজ ডোন্ট সে নো, বিফোর ইউ হ্যাভ আ কফি উইথ দ্য ডিরেক্টর’! যখন তাঁরা জেনেছিলেন, আর পাঁচটা তথ্যচিত্রের মতো ৯০ মিনিটেই আমরা ছবি শেষ করব না, বা ১৯৯৫’এর ট্রায়ালটাই আমাদের ছবির টার্গেট পয়েন্ট নয়, তখন অনেক মানুষই এগিয়ে এসেছিলেন।

ওজে সিম্পসন তো এই মুহূর্তে নেভাডার লাভলক সংশোধনাগারে বন্দি। তথ্যচিত্র বানানোর আগে আপনারা কি ওঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন?
না! পুরো বিষয়টা জানিয়ে আমরা ওঁকে চিঠি লিখেছিলাম। সেই চিঠি যাতে ওঁর কাছে পৌঁছয়, সেটাও সুনিশ্চিত করেছিলাম। কিন্তু, ওঁর তরফ থেকে কোনও উত্তর আসেনি।

উনি কি ‘ওজে: মেড ইন আমেরিকা’ ছবিটা দেখেছেন? 
এই সম্পর্কিত কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। এমনকী, ওঁকে নিয়ে বানানো তথ্যচিত্র যে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস পেয়েছে, সেটাও উনি জানেন কি না আমার জানা নেই।

বর্ণময় চরিত্র ওজে সিম্পসনকে নিয়ে আম-আমেরিকানদের কী মত?
ছবিটা বানানোর সময় আমি এদেশের বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। একেক জনের একেক রকম মতামত! এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ওজে’কে এক রকমভাবে দেখে। আবার, তাদেরই বাবা-মায়েদের সিম্পসনকে নিয়ে ভিন্ন মত।

সাত ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের তথ্যচিত্র। রানিং টাইমটা একটু বেশিই দীর্ঘ নয় কি?
দেখুন, এটা কোনও সাধারণ তথ্যচিত্র নয়। এটার মাধ্যমে আমরা একটা মানুষের জীবনের গতিপথকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমরা দর্শককে টাইম-ট্রাভেল করাতে চেয়েছিলাম। আদালতে আইনি মারপ্যাঁচের বাইরে গিয়ে, আরও বিশদে ওজে’র জীবনের ঘটনাগুলোকে ধরার চেষ্টা করেছি। ওঁর ব্যাপারে যত বেশি সম্ভব তথ্য আমরা দেখিয়েছি। লস অ্যাঞ্জেলেস শহর এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশের সঙ্গে আফ্রিকান-আমেরিকানদের সম্পর্ক কেমন, সেটাও দেখানোর চেষ্টা করেছি। সেই কারণেই রানিং টাইমটা বেড়েছে। 

‘ইএসপিএন ফিল্মস’এর ব্যানারে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
এজরা যে দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো বিষয়টা কল্পনা করেছিল, সেটাকে ওরা সমর্থন করেছিল। ওদের সমর্থন ছাড়া আমাদের পক্ষে এত বড় কাজটা শেষ করা সম্ভব হতো না। এজরা এর আগেও ‘ইএসপিএন ফিল্মস’এর সঙ্গে কাজ করেছিল। সেই সূত্রেই ওরা এজরাকে অনুরোধ করেছিল, ওজে সিম্পসনকে নিয়ে কিছু একটা ভাবতে!

ওজে’র জীবনকে কি ‘দ্য গ্রেট আমেরিকান ড্রিম’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়?
ইট ইজ ভেরি মাচ অ্যাবাউট দ্য পারস্যুট অফ দি ‘আমেরিকান ড্রিম’।

ওজে সিম্পসনকে একটা বাক্যে ব্যাখ্যা করতে বললে কী বলবেন?
এক সময় আমেরিকার মানুষ ওঁকে মাথায় করে রেখেছিল। কিন্তু সেই উচ্চতা থেকে ওঁর পতনটা ছিল ভয়াবহ। সম্ভবত, আধুনিক যুগে ওঁর মতো পতন আর কারও হয়নি!

আমেরিকায় বর্ণবৈষম্য কি এখনও রয়ে গিয়েছে?
এই ব্যাপারটা আমি বিশদে জানি না। তবে আমার ভাবনাচিন্তা আপনার সঙ্গে শেয়ার করতে পারি! আমেরিকায় বর্ণবৈষম্য এখনও রয়েছে। দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি! দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাম্প্রতিক ঘটনাই যার উদাহরণ। বর্ণবৈষম্য এবং সমানাধিকারের দাবি— এই দু’টো বিষয়ের উপরই আমেরিকার ইতিহাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। 

আপনি কখনও ভারতে এসেছেন?
না, তবে যাওয়ার খুব ইচ্ছে রয়েছে। ও দেশে গেলে কয়েক মাস থাকব ওখানে। ভারতের ইতিহাস, খাবার, মিউজিক, সিনেমা— আমার খুব প্রিয়!

বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা চোপড়া তো আমেরিকায় দারুণ কাজ করছেন?
আমেরিকার মানুষ ওঁকে ভালবেসে ফেলেছে। শি ইজ সো গুড ইন ‘কোয়ান্টিকো’! ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে আরেকজনকে আমার দারুণ লাগে। ইরফান খান। ওঁর উপর আমার ক্রাশও রয়েছে। ইরফানের অভিনয়ের রেঞ্জটা মুগ্ধ করার মতো। দুরন্ত অভিনেতা। অ্যান্ড হি ইজ রিয়েলি হ্যান্ডসাম!

ভারতের কোনও ছবি দেখেছেন?
মীরা নায়ারের কাজ আমার খুব ভাল লাগে। প্রথমদিকে ওঁর বানানো কয়েকটা তথ্যচিত্র দেখেছিলাম। এতটাই ভাল লেগেছিল, যে ওঁর বেশ কয়েকটা ছবিও দেখে ফেলি। ‘সালাম বম্বে’, ‘মনসুন ওয়েডিং’। এছাড়াও, ‘নেমসেক’ এবং ‘মিসিসিপি মসালা’ও আমার দারুণ লেগেছে। গত বছর একটা অনুষ্ঠানে মীরা নায়ারের সঙ্গে আমার দেখাও হয়েছিল। শি ওয়াজ রিয়েলি কুল! অভিনেত্রীদের মধ্যে তব্বুর অভিনয়ও আমার বেশ লাগে। ‘নেমসেক’এ প্রথম ওঁর অভিনয় দেখেছিলাম। অ্যান্ড আই ওয়াজ ব্লোন অ্যাওয়ে বাই হার।

Caroline Waterlow Irrfan Khan O.J.: Made in America
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -