SEND FEEDBACK

English
Bengali

গরমে মন্দ নয় হলদিয়ার মেরিন ড্রাইভ

ওবেলা | মে ১৪, ২০১৭
Share it on
এই গরমে হলদিয়া বন্দরের হাওয়া খেয়েই প্রাণ ভরে যাবে! সম্প্রতি পঞ্চায়েত সমিতি এবং মত্‌স্য দফতরের যৌথ উদ্যোগে মত্স‌্যখামার পর্যটন শুরু হয়েছে হলদিয়ায়।

কথায় বলে ‘দ্য হেরিটেজ ক্যাপিটাল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’। অনেকেই মনে করেন, হলদিয়া মানে শুধুই নদীবন্দর বুঝি। ব্যাপারটা তা নয় কিন্তু। 

হলদিয়ায় হেরিটেজ কম নেই। তবে সেটা দেখার জন্য সেখানে যেতে হবে। জায়গাটার রসাস্বাদন করতে হবে। লোকাল মেরিন ড্রাইভ থেকে শুরু করে রাজপ্রাসাদ সবই আছে হলদিয়ায়। প্রকৃতি এবং ভাস্কর্যের এক অনবদ্য মিশেল এই জায়গা।

এই গরমে হলদিয়া বন্দরের হাওয়া খেয়েই প্রাণ ভরে যাবে! সম্প্রতি পঞ্চায়েত সমিতি এবং মত্‌স্য দফতরের যৌথ উদ্যোগে মত্স‌্যখামার পর্যটন শুরু হয়েছে হলদিয়ায়। গ্রাম্য পরিবেশে শুধু বনভোজনে কী লাভ! নিখরচায় মাছচাষের প্রশিক্ষণ এবং ছিপ ফেলে মাছ ধরার ‘কম্পিটিশন’এরও ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া বিরাট সব জলাশয়ে বোটিং কিংবা বাঁশ-খড়ের তৈরি কটেজও পাবেন। ভাবুন, টাটকা মাছ ধরবেন আর ভেজে খাবেন! হলদিয়ার ঠিক পাশেই হলদি নদীর পাড়ে রয়েছে বিশালাকার ভেড়ি। কই, পাবদা, তেলাপিয়া, কাঁক়ড়া, নোনা জলের বাগদার মতো অনেক মাছচাষ হয় সেখানে। রুই-কাতলা তো বটেই। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ফিশ স্পোর্টিংয়ের ব্যবস্থা করার কথাও রয়েছে শিগগিরই। কাজেই একটু অন্য রকম অভিজ্ঞতা পেতে হলে হলদিয়ার ভেড়ি-ভ্রমণ মন্দ হবে না। ছাত্র-গবেষকরা তো বেছে নিতেই পারেন জায়গাটা। এর সঙ্গে আবার নয়াচর ঘুরে আসার সুযোগও পাবেন।

মহিষাদল রাজবাড়িটা কিন্তু মিস্‌ করা যাবে না। শোনা যায়, উত্তরপ্রদেশের ব্যবসায়ী জনার্দন উপাধ্যায় হলদিয়ার আশপাশে ব্যবসার কাজে আসতেন প্রায়। তাঁর জন্যই নাকি মহল বানানো হয়েছিল একসময়। রানি জানকী দেবীর রাজত্বকালে। রাজবাড়ি সংলগ্ন কৃষ্ণমন্দির এবং নাটমন্দির দেখার মতো। পুরনো এবং নতুন রাজবাড়ি রয়েছে। নতুনটাতে রাজবংশের উত্তরাধিকারীরা থাকেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে স্টাফ্‌ড পশুপাখির বিরাট কালেকশন। পেন্টিং, আসবাব তো রয়েছেই। তবে সেগুলো দেখতে হলে অনুমতি প্রয়োজন। ঘুরে আসতে পারেন তমলুক রাজবাড়িও। যদিও তার প্রায় ভগ্নদশা। আড়াই হাজার বছর পুরনো নাকি এই রাজবাড়ি। মুক্তিধাম মন্দিরও দেখে আসতে পারেন সময় থাকলে। কালী, রাধাকৃষ্ণ এবং হনুমান পূজিত হন এই মন্দিরে।

কলকাতা বন্দরের বোঝা কমাতে হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৬৮ সাল থেকে যার ইতিহাস শুরু। খিদিরপুর ডক দেখতে অনেকেই ভিড় করেন। হলদিয়ায় কিন্তু অন্য মজা! পণ্যবাহী জাহাজ দেখতে দেখতে মৃদুমন্দ বাতাস সেবনে মন ভাল হতে বাধ্য। গরমের পড়ন্ত বিকেলে হলদিয়া বন্দর বেশ মায়াবী। আর হলদিয়া মেরিন ড্রাইভও মিস্‌ করবেন না। ৬ কিলোমিটারের একটা রোড-স্ট্রেচ। কোস্ট গার্ড জেটি থেকে থার্ড ওয়েল জেটি পর্যন্ত। তালগাছের সারির ফাঁকে বিরাট সব জাহাজ উঁকি দেবে। যেতে পারেন বালুঘাটা রিভারসাইড সানসেট পয়েন্টেও।

মে মাস অর্ধেক শেষ। এর পর কিন্তু আর যেতে পারবেন না হলদিয়ায়। খুব শুষ্ক এবং উষ্ণ হয়ে যাবে আবহাওয়া। তারপর প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হবে। হলদিয়া শহর থেকে হলদিয়া স্টেশনের দূরত্ব চার কিলোমিটারের কাছাকাছি। কলকাতা থেকে ঘনঘন বাস ছাড়ে, যেগুলো হলদিয়া যায়। সরকারি কিংবা বেসরকারি দু’ধরনেরই। নিজের গাড়িতে গেলে তো কথাই নেই। হলদিয়া মিউনিসিপ্যালিটি ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের এসি বাসও রয়েছে। থাকার জায়গাও প্রচুর। পছন্দমতো হোটেল বেছে নিন।

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে ঘনঘন বাস ছাড়ে, যেগুলো হলদিয়া যায়। সরকারি কিংবা বেসরকারি দু’ধরনেরই।
নিজের গাড়িতে গেলে তো কথাই নেই। হলদিয়া মিউনিসিপ্যালিটি ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের এসি বাসও রয়েছে।

কোথায় থাকবেন
হলদিয়া ট্যুরিজম অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্টের ওয়েবসাইট দেখে সরকারি গেস্টহাউস বুক করতে
পারেন। ট্রিভাগো কিংবা মেকমাইট্রিপ কিংবা ট্রিপঅ্যাডভাইসর থেকেও হোটেল বেছে নিতে পারেন।
Weekend Destination Travel Destination Haldia Marine Drive
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -