SEND FEEDBACK

English
Bengali

মানবিক একটা গল্প বলে শিউরে ওঠাগুলো দর্শকের কাছেও পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম

অন্তরা মজুমদার | মে ১৩, ২০১৭
Share it on
‘‘এতদিন পর্যন্ত যত ছবি বানিয়েছি, তার মধ্যে আমার সবচেয়ে বেশি গর্ব হয় ‘কহানি টু’কে নিয়ে। ছবিটা কেন ভাল করল না, কেন বক্স অফিসে সফল হল না— এগুলো বোঝার মতো বুদ্ধি থাকলে তো আমি অনেক কিছুই করতাম!’’

বক্স অফিসে তেমন কামাল দেখাতে পারেনি ‘কহানি টু’। কিন্তু ছবিটা দেখে যে দর্শকের চোখের কোণ ভিজে গিয়েছিল, সেটা প্রত্যেকেই হলফ করে বলতে পারবেন। সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়া সেই ছবি এবার দেখা যাবে জি সিনেমায়। পরিচালক সুজয় ঘোষ কথা বললেন ‘ওবেলা’র সঙ্গে।

‘কহানি টু’এর বিষয়টা খুবই স্পর্শকাতর। আপনার মনে হয়, টেলিভিশনের দর্শক সেটা গ্রহণ করবেন?
আমার তো মনে হয়, এরকম একটা বিষয় নিয়ে ছবি টেলিভিশনে বারবার দেখানো হোক। যাতে লোকে কিছু শিখতে পারে। চাইল্ড অ্যাবিউজ ভিক্টিমদের ভয়টাকে সামনে থেকে দেখতে পারে। টেলিভিশন কিন্তু এখনও অনেক ইন্টিমেট, পার্সোনাল একটা মিডিয়াম। বাড়িতে বসে একটা ফ্যামিলি একসঙ্গে দেখতে পায় তার কনটেন্ট। হয়তো পরিবারের মধ্যেই কোনও ভুক্তভোগী রয়েছেন। ‘কহানি টু’ দেখার পর হয়তো তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা আরও একটু সহমর্মিতা দেখাতে পারবেন তাঁর প্রতি। বা তাঁর হয়ে আওয়াজ তোলার জোরটা পাবেন। 

ছবিটা বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। বিশ্লেষণ করেছেন, কেন?
দেখুন, এতদিন পর্যন্ত যত ছবি বানিয়েছি, তার মধ্যে আমার সবচেয়ে বেশি গর্ব হয় ‘কহানি টু’কে নিয়ে। ছবিটা কেন ভাল করল না, কেন বক্স অফিসে সফল হল না— এগুলো বোঝার মতো বুদ্ধি থাকলে তো আমি অনেক কিছুই করতাম! ‘কহানি’র মতো ভাল হয়তো এই ছবিটা হয়নি। তবে সেই তুলনা বাদ দিলেও ‘কহানি টু’ রিলিজ করেছিল ডিমনেটাইজেশনের সময়। সেটা হয়তো প্রভাবিত করেছিল। কিন্তু ছবিটা দেখে যতজন আমার কাছে এসেছিলেন, সকলে বলেছিলেন হাউ দ্য ফিল্ম টাচ্‌ড দেয়ার লাইভস।

কহানী-২ ছবির পোস্টার

গর্ববোধ কি ছবিটার থিমের কারণে?
একেবারেই। জিনিসটা এত প্রবলভাবে ঘটে, অথচ আমরা কী সুন্দর বিষয়গুলো কার্পেটের তলায় লুকিয়ে রাখতেই পছন্দ করি‍! পরিবারের সদস্য কিংবা বাবা-মায়েরাও! বাচ্চাটা কোথায় যাবে বলুন তো? আমার মনে হয়েছিল, পাতি হিউম্যান বিইং হিসেবেই চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ নিয়ে আমাদের দায়িত্ব নিয়ে কিছু বলা উচিত। ছবিটা করার সময় বহু লোকের ইন্টারভিউ করেছিলাম আমি। তাঁরা আমাকে যে ভয় বা ট্রমার কথা বলেছিলেন, সেগুলো শুনলে শিউরে উঠবেন। কান্না পাবে। আমারও মেয়ে আছে। ঘটনাগুলো বাবা হিসেবে আমাকেও কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তাই আমার মনে হয়েছিল, মানবিক একটা গল্প বলে এই শিউরে ওঠাগুলো যদি দর্শকের কাছেও পৌঁছে দেওয়া যায়। লিখতে, শ্যুট করতে কিংবা পরে এডিট করতে কিন্তু আমারও অস্বস্তি হয়েছিল। বাট আই ওয়ান্টেড টু ডিল উইথ দ্য ইস্যু হেড অন। ইনিয়ে-বিনিয়ে কিছু বলতে চাইনি।

আপনার ছবির হিরো, অর্থাৎ বিদ্যা বালনের ভূমিকাটাও একজন ভিক্টিমের। আপনার কি মনে হয়, সেই কারণে বিষয়টা মেয়েদের কাছে যেভাবে গৃহীত হয়েছে, ছেলেদের কাছে হয়নি? তার মানে অবশ্য এই নয়, যে ছেলেরাও ভিক্টিম হয় না...।
বিদ্যার হিরো-ভিক্টিম রোলের কথাটা ইন্টারেস্টিং। সেই প্রসঙ্গে আগে বলে নিই। আমি গল্পটাকে কোনওভাবেই ট্রিভিয়ালাইজ করতে চাইনি। বাইরে থেকে একটা আলগা গল্প বলে বেরিয়ে যেতে চাইনি। বিদ্যা যে চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিল, সেটা খুবই প্রশংসনীয়। ওর জন্যই এতটা স্পষ্ট করে গল্পটা বলতে পেরেছি। টোটা (রায়চৌধুরী) যখনই বিদ্যাকে স্পর্শ করে, ও চমকে ওঠে। ওই ট্রমাটা কিন্তু ভীষণ বাস্তব। পাশাপাশি আপনার প্রশ্নের পরের পার্ট’টাও আমাকে ভাবাচ্ছে। কারণ আমরা সত্যিই ধরে নিই, যে বয় চাইল্ড মানে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। সেটা যে আদৌ সত্যি নয়, ক্রাইম রিপোর্ট দেখলেই টের পাওয়া যায়। এই ছবিটা হয়তো দু’জন মেয়ের গল্প বলে। বাট ইট’স স্কেয়ারি ফর অল চিল়়ড্রেন ইররেসপেক্টিভ অফ জেন্ডার। 

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের রমরমা শুরু হয়েছিল যে সময়, তখনই ‘অহল্যা’ বানিয়ে ফেলেছিলেন আপনি...। এই ট্রেন্ডটাকে টেকসই বলে মনে করেন?
এতটা বলতে পারব না। কিন্তু ডিজিটালেও চ্যানেলের একটা ভূমিকা থাকে। ফলে চ্যানেল যে শুধু টিভির মাধ্যমেই ফাংশন করে, এই ব্যাপারটা আর নেই। এখন তো চ্যানেলদেরও নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকে। ফলে ভবিষ্যৎ কিন্তু ডিজিটালই। সেটা হয়তো অনেকেই পছন্দ করছেন না। ব্যবসা কিংবা ডিসট্রিবিউশনের দিকগুলোকে তো অবহেলা করা যায় না। কিন্তু আমার ব্যক্তিগতভাবে সত্যিই ডি়জিটাল মিডিয়ামকে একটা খুবই শক্তিশালী এব‌ং ইন্টেলিজেন্ট মাধ্যম বলে মনে হয়। 

ডিজিটালই যে ভবিষ্যৎ, এই হাওয়াটা বুঝেই কি ‘অহল্যা’ করে ফেলেছিলেন অত আগে, কিংবা এখন ‘অনুকূল’ করছেন? আপনার পরেই সকলে শুরু করল যেহেতু...।
(শেষ করতে না দিয়েই) হাওয়াটা বুঝে করেছি যে, সেটা বলব না। কারণ যখন ‘অহল্যা’ করছিলাম, তখনও খুব ভাল করে জানতাম না এই অনলাইন সিনেমা ভিউয়িংয়ের জোর কতটা! এখন শুরু করেছিলাম বলে আপনি ক্রেডিট দিতে চাইলে আমি নিয়ে নেব, কিন্তু তখন ওই শুরুটাই শুধু করেছিলাম। কিছু জেনেবুঝে নয়। তাছাড়া একটা অনলাইনে কনটেন্টও তো অনেক বেশি ভ্যারিড। ওখানে তো শুধু শর্ট ফিল্মের সঙ্গে শর্ট ফিল্মের কম্পিটিশন নয়। তার মধ্যে ডকুমেন্টারি, ফিচার, ওয়েব সিরিজ, হাজার গণ্ডা জিনিস রয়েছে! 

‘অনুকূল’ কি সত্যজিৎ রায় যেমনটা লিখেছিলেন, ঠিক তেমনই রেখেছেন?
ঠিক তেমনই আর রাখতে পারলাম কই! একটু পাল্টে নিতেই হয়েছে। কারণ আমাকে নিজস্ব কিছু আনতে হতোই ‘অনুকূল’এ। তবে মূল গল্পের সঙ্গে কোনও আপস নেই।

পরের ছবিটাও কি বিদ্যাকে নিয়ে করবেন?
সুযোগ থাকলে একশোবার!

‘বেগমজান’ দেখলেন নাকি?
নাহ্‌, এখনও দেখা হয়নি। যখন রিলিজ করেছিল, আমি তখন বিলেতে ছিলাম। 

ওই ছবিটাও তো ভাল করল না...।
হ্যাঁ শুনেছি। উই কান্ট রিয়েলি সে হোয়াই অর হাউ। সকলেই তো সমান পরিশ্রম, অধ্যবসায় দিয়ে ছবিগুলো বানাই। আমি নিজেও তো ‘হোম ডেলিভারি’ বা ‘আলাদিন’এর মতো ছবি বানিয়েছি! 

আফশোস হয় নাকি?
সেরকমভাবে হয় না। সব যদি আগে থেকে জেনে ফেলতাম যে কী করলে 
কী হবে, তাহলে তো জীবনে সমস্যাই থাকত না!

Sujoy Ghosh Kahani 2
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -