SEND FEEDBACK

English
Bengali

বিদেশে পাচার হল পোস্ত!

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় | এপ্রিল ২০, ২০১৭
Share it on
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-নন্দিতা রায় পাড়ি দিয়েছেন সাগরপারে। বাংলার ‘পোস্ত’কে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিতে। ফ্র্যাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্টে কী অভিজ্ঞতা হল তাঁদের? বাংলায় কথা বলতে পেরে মন ভরল কতটা? গল্প বলছেন শিবপ্রসাদ নিজেই। আজ দ্বিতীয় কিস্তি।

যেখানে বসে এই ডায়েরি লিখছি, সেটা ফ্র্যাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্ট। এত বড় একটা এয়ারপোর্ট যে হতে পারে, না এলে বোধহয় বিশ্বাসই হতো না!  এখানে একটা টার্মিনাল থেকে আরেকটায় ট্রেনে করে যেতে হয় কানেক্টিং ফ্লাইট ধরার জন্য। যে টার্মিনাল থেকে আমরা সান ফ্রান্সিসকো’র ফ্লাইটটা ধরব, সেই গেটটা জেড। অনেকটা যেতে হল। মজার ব্যাপার, এই প্রথম পোস্ত বিমানবন্দরে! মজাটা এখানেই, যে এমনিতে পোস্ত অর্থাৎ পপি সিড্‌স রফতানি করার ক্ষেত্রে অনেক বাধা-বিপত্তি আসে। পোস্ত বিদেশে নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। এক্ষেত্রে আমরা পোস্ত’র পোস্টার, ছবি, গান, ট্রেলার সব নিয়ে যাচ্ছি! কাজেই প্রত্যেকটা ব্যাগে শুধু পোস্ত আর পোস্ত! সেগুলো নিয়ে যখন সিকিওরিটি চেকিংয়ের সময় আমাদের জিগ্যেস করা হয়েছে, একবারও ‘পোস্ত’ নামটা করিনি! এভাবেই অফিশিয়ালি বাংলা থেকে রফতানি হয়ে শুধু আমেরিকা নয়, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে পোস্ত। কোনও বাধা ছাড়াই!
আর পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট পরেই আমাদের ফ্লাইট। আমরা যখন পৌঁছব সান ফ্রান্সিসকো, আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে সায়ন্তী। ও আমাকে মেসেজ করে জানতে চেয়েছিল, আমরা কী খাব। বলেছিলাম, এটা তো একেবারেই একটা ঝটিকা সফর। তাই যতটা সাধারণ রাখা যায় আর কী! কারণ ফিরে এসেই ছবি আর মিউজিক রিলিজ রয়েছে। সায়ন্তী জিগ্যেস করল, পোস্ত চলবে তো? বললাম, ওটা তো মাস্ট! তবে রাতের সান ফ্রান্সিসকো শহরে কোথা থেকে পোস্ত জোগাড় হবে, জানি না!
যাঁরা আমাদের এই ডায়েরি পড়ছেন, তাঁদের জানিয়ে রাখি, এখনও পর্যন্ত কিন্তু আমার এই দাড়ি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়নি কোনও। নির্বিঘ্নেই পেরিয়ে এসেছি পুরো রাস্তাটা। আরও একটা মজার ঘটনা হয়েছে। বলেই ফেলি! ফ্র্যাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে হঠাৎই এক ব্যক্তি আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন, ‘‘আপনার 
‘প্রাক্তন’ দেখেছি, ‘বেলাশেষে’ও’।’’ 
স্বামী-স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একটি প্রবাসী বাঙালি পরিবার। বাচ্চাটি আমাদের সঙ্গে ছবিও তুলল। ওঁরাও কানেক্টিং ফ্লাইট ধরবে বলে অপেক্ষা করছিলেন। ফ্র্যাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে হঠাৎ বাঙালির দেখা পেয়ে আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে পেরে বেজায় ভাল লাগল। বিশেষ করে যখন বললেন, ‘প্রাক্তন’ আর ‘বেলাশেষে’ ওঁদের ভাল লেগেছে।
তবে একটা ব্যাপারে একটু দুঃখও পেলাম। মুম্বই থেকে যে ফ্লাইটে ফ্র্যাঙ্কফুর্টে এলাম, সেখানে তামিল (কবালি), মরাঠি, হিন্দি, ফরাসি, জার্মান, চিনা, জাপানি সব ভাষার ছবি থাকলেও বাংলা ছবি ছিল না। ব্যাপারটা খুব একটা ভাল লাগল না। (চলবে)

Shibaprasad Mukherjee Nandita Ray Posto
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -