SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

টলিউড জানে গোপন কম্মোটি!

নিজস্ব প্রতিবেদন | মে ১৯, ২০১৭
Share it on
‘এক প্রযোজক রাজপুত্রকে তাঁর ছবির প্রধান চরিত্রে কাস্ট করতে রাজি হয়েছিলেন। বদলে শর্ত রেখেছিলেন, ‘ভ্যাট’ মেটাতে হবে। রাজপুত্রের প্রেয়সীকে প্রযোজকের শয্যাসঙ্গী হতে হবে। তবেই মিলবে চরিত্র’!

হলিউড, বলিউড বা আমাদের টলিউড, যে কোনও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিই চলে বিভিন্ন ‘গোপন’ সমীকরণ মেনে। আর সেই সমীকরণটা যে আসলে কী, যাঁরা ইন্ডাস্ট্রির মোটামুটি খোঁজ-খবর রাখেন তাঁদের আলাদাভাবে বলে দিতে হবে না। 
এই বিষয়ে ফিল্ম মহলের প্রচলিত রসিকতাও রয়েছে। কোনও নবাগত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখতে চাইলে তাঁর কাছে দু’টি আবশ্যক বিষয়ের মধ্যে অন্তত একটা থাকতেই হবে। কী সেই আবশ্যক দু’টি বিষয়? এক, অর্থ। দুই, ধৈর্য। ট্যাঁকের জোর থাকলে নবাগত সহজেই নিজের প্রথম ছবির প্রযোজনার অংশীদার হতে পারেন। আর তা না থাকলে, করতে হবে শিকে ছেঁড়ার অনন্ত অপেক্ষা। নবাগতাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা অবশ্য অন্য। সেখানে সমীকরণও আলাদা। কী সেই অঙ্ক? ‘কাস্টিং কাউচ’। নাম, খ্যাতি, যশের লোভে ‘বিশেষ’ চেয়ারে বসতে পিছপা নন কেউ কেউ। ইন্ডাস্ট্রিতে ছোট করে যাকে বলা হয় ‘কম্প্রো’। বলিউডের অনেকেই বুক ফুলিয়ে স্বীকারও করে নিয়েছেন, যে তাঁরা কখনও না কখনও ‘কম্প্রো’র প্রস্তাব পেয়েছেন। কে নেই সেই তালিকায়? রণবীর সিংহ, কঙ্গনা রানাউত, কালকি কেকলাঁ, আয়ুষ্মান খুরানা প্রমুখ। কিন্তু, এটা টালিগঞ্জ। এখানে পুরো বিষয়টা কানাঘুষোতেই সীমাবদ্ধ থাকে। কাস্টিং কাউচের প্রস্তাব পেলেও সে কথা কেউ স্বীকার করেন না।     

হালের টালিগঞ্জের কথাই ধরুন। এক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে চারিদিকে গেল গেল রব উঠেছে। টুইট যুদ্ধ থেকে শুরু করে, লম্ফঝম্প করে ফেসবুক লাইভ কত কী-ই না হল! তিনজনই একবাক্যে জানালেন, পুরো খবরটাই নাকি ভুয়ো। অথচ, ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেকেই জানেন, ঘটনাকে কিঞ্চিৎ অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হলেও তার বেশিরভাগটাই সত্যি। ঘটনার পর্যায়ক্রম সাজালে দেখা যাচ্ছে, পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে এক প্রযোজকের, থুড়ি এক প্রযোজনা সংস্থার উপস্থিতি। সেই সংস্থার পরের পুজো রিলিজের নায়িকা কে হবেন, সেই নিয়েই পুরো ঘটনার সূত্রপাত। 

সমস্যাটা আসলে কোথায়? ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, রাজনৈতিক মহলের কড়া নির্দেশের কারণে জনৈক নায়িকাকে বয়কট করেছিলেন প্রযোজক। কিন্তু, নায়িকার প্রেমিক সেই প্রযোজনা সংস্থার পরের ছবি পরিচালনা করার দায়িত্ব পাওয়ায়, তিনি ভেবেই নিয়েছিলেন ছবির নায়িকা তিনিই হচ্ছেন! নায়িকার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ‘ভেটো’ দিয়েছিলেন প্রযোজক। তিনি পরিচালককে কড়া ভাষায় জানিয়েও দিয়েছিলেন, প্রেমিকাকে নায়িকা বানিয়ে ছবি বানানোর পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। বিন্দুমাত্র বেচাল হলে তাঁকেই ছবির পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। বদলে অন্য এক নায়িকাকে নিয়ে ছবি তৈরির পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রযোজক। ঘটনাক্রমে, সেই নায়িকা আবার পরিচালকের ‘প্রাক্তন’। কাজপাগল পরিচালক, অনেক ভেবেচিন্তে প্রাক্তনকেই বেছে নিয়েছিলেন। কাঁচি করেছিলেন বর্তমানকে। তাতে শ্যাম এবং কুল— দুই-ই বেঁচেছিল পরিচালকের। ঘটনাক্রম রিওয়াইন্ড করলে দেখা যাচ্ছে, প্রাক্তনও বিদেশে শ্যুটিংয়ের সময় ‘দুষ্টুমি’র হ্যাংওভার কাটিয়ে পরিচালকের জীবনে ফিরে আসতে চাইছিলেন। এবং সে কথা বিভিন্ন সময়ে পরিচিত মহলে জানিয়েওছিলেন একাধিকবার। সমস্যাটা হয়েছিল, পরিচালকের জীবনে প্রাক্তনের আগমনের কথাটা বর্তমানের কানে কিছুটা দেরিতে পৌঁছেছিল। তারপর যা হয় আর কী! খবর, ‘অভিমানী’ নায়িকা ‘আমি চললাম’ গোছের হুঙ্কার ছেড়েছিলেন প্রেমিকের উদ্দেশে।  

কাজের বদলে নারীশরীর— খুব ব্যতিক্রম ছাড়া, মোটামুটিভাবে এই সমীকরণ মেনেই চলে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। তস্য কুচো টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে বিগ বস্‌, অর্থ্যাৎ প্রযোজক— সকলে এই নিয়ম মেনে চলতে অভ্যস্ত! জনৈক মডেলের সঙ্গে শহরের এক অভিজাত পাড়ার রাজপুত্রের প্রেমের গল্প সকলের জানা। টলিপাড়ার গুঞ্জন, তাঁদের সম্পর্কের অবনতির পিছনেও নাকি রয়েছে এক প্রযোজকের উপস্থিতি। জানা যাচ্ছে, শহরের এক প্রযোজক নাকি রাজপুত্রকে তাঁর ছবির প্রধান চরিত্রে কাস্ট করতে রাজি হয়েছিলেন। বদলে শর্ত রেখেছিলেন, ‘ভ্যাট’ মেটাতে হবে রাজপুত্রকে। কী সেই ‘ভ্যাট’? রাজপুত্রের প্রেয়সীকে প্রযোজকের শয্যাসঙ্গী হতে হবে। তবেই মিলবে চরিত্র! গোল বেধেছিল শর্তের কথা প্রেয়সীর কানে পৌঁছতেই। প্রেমিকের কাছ থেকে এমন ব্যবহার পেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন মডেল। সেই থেকেই দু’জনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। বেশ কয়েক বছর আগেও একবার রাজপুত্রের সঙ্গে এক নায়িকার অন্তরঙ্গতার কথা জেনে ফেলেছিলেন প্রেয়সী। শোনা যায়, যুগলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবিও নাকি এসে পৌঁছেছিল মডেলের কাছে। যাই হোক, দ্বিতীয়বার প্রেমিকের কাছ থেকে প্রতারণা মেনে নেননি মডেল। রাজপুত্রের থেকে অনেকটাই দূরে সরে এসেছিলেন। প্রসঙ্গত, জনৈক প্রযোজকের ‘ভ্যাট’ নেওয়ার অভ্যাস নতুন নয়। এর আগেও এক পরিচালককে তিনি একই রকম প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেবার পরিস্থিতি পাঁচতারার ঘরে ঝগড়াঝাঁটি, এমনকী হাত কাটাকাটি অবধিও গড়িয়েছিল।
ইন্ডাস্ট্রির আরেক তারকা-প্রযোজক আবার কাস্টিং কাউচের বিষয়ে খুব ‘চুজি’। যে অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর ‘দুষ্টুমি’ করতে ইচ্ছে করে, শুধুই তাঁকেই ছবির নায়িকা করেন!

শুধু তারকারাই কেন? এই সব সমীকরণের উপর আস্থা রাখেন ইন্ডাস্ট্রির বি-গ্রেড বা সি-গ্রেড ছবির পরিচালকেরাও। একজন তো আবার বুক ঠুকে চাউর করে বেড়ান, তাঁর ছবিতে নায়িকা থেকে পরিচারিকা, কেউ তাঁর শয্যাসঙ্গী না হয়ে কাজ পান না। বলা বাহুল্য, সেই পরিচালক আবার মহাভারতের যুধিষ্ঠিরের বড় ফ্যান! 

আবার এর বিপরীত উদাহরণও রয়েছে। শহরের এক প্রযোজনা সংস্থার প্রভাবশালী মহিলার সঙ্গে ‘লিভ-ইন’ করেন, এক নায়ক। শোনা যায়, সেই মহিলার ইচ্ছেতেই নাকি সেই আপাত অভিব্যক্তিহীন নায়ককে সুপারস্টার বানাতে উঠে পড়ে লেগেছে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা। আবার টালিগঞ্জের এক প্রেমিক প্রযোজক-পরিচালকের ‘দুষ্টুমি’র চোটে নায়িকার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ারও উদাহরণ রয়েছে। শোনা যায়, সেই নায়িকার গর্ভপাতের খরচও নাকি চুকিয়েছিলেন সেই প্রযোজকই।
এমন নানা খবর সারাক্ষণই ইন্ডাস্ট্রিতে ঘুরেই চলে। ওই যে কথায় বলে না, যা রটে, তার কিছু তো ঘটে!

Tollywood Film Industry Bollywood
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -