SEND FEEDBACK

English
Bengali

মৃত্যু স্বাভাবিক নয়! কেন বার বার প্রিয়জনদের ফোন করেছিলেন ওম?

নিজস্ব প্রতিবেদন, এবেলা.ইন | জানুয়ারি ১২, ২০১৭
Share it on
ওম পুরীর পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট বলছে স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তবে ঠিক কী ঘটেছিল? সামনে এল একটি নতুন তথ্য। ওম কি কিছু আন্দাজ করেছিলেন?

গত ৬ জানুয়ারি সকালে মুম্বইয়ে নিজের বাড়িতে সকাল ছ’টা থেকে সাড়ে ছ’টার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কিংবদন্তি অভিনেতা ওম পুরী। এই মৃত্যু স্বাভাবিক বলেই ভাবা হয়েছিল প্রথমে কিন্তু পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট প্রকাশ হতেই দেখা গেল মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। যদিও বাড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের সময় তেমন সন্দেহজনক কিছু পুলিশের চোখে পড়েনি, তবুও পোস্ট মর্টেম রিপোর্টটি তো আর উড়িয়ে দেওয়া যায় না। 

কেন ‘স্বাভাবিক’ নয়, সেই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেয়নি পুলিশ। অন্যদিকে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমন কিছু কথা বললেন ওমের স্ত্রী নন্দিতা যা থেকে খটকা লাগে। নন্দিতার সঙ্গে বহুদিন ধরেই সেপারেশনে ছিলেন ওম। ছেলে ইশানকে নিয়ে নিজের মায়ের সঙ্গেই থাকতেন নন্দিতা। ওমের মৃত্যুর আগের দিন রাতে হঠাৎই নন্দিতাকে ফোন করেন ওম এবং জানান যে তিনি নন্দিতা ও ইশানের সঙ্গে দেখা করতে চান। সেই সন্ধ্যায় ছিল পঙ্কজ কপূরের মেয়ে সানার এনগেজমেন্ট। 

নন্দিতার বক্তব্য, ওম যখন নন্দিতার বাড়িতে পৌঁছন ততক্ষণে ইশান ও নন্দিতা পৌঁছে গিয়েছিলেন সানার এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে। নন্দিতা ও ইশানকে না পেয়ে ওম নন্দিতার মায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে চলে যান। তিনি নাকি তখনই নন্দিতার মাকে বলেছিলেন, ‘কী বুড়ি, কেন এখানে পড়ে পড়ে পচছ? তুমিও আমার সঙ্গে স্বর্গে চলো।’ এর পরেই নাকি একাধিকবার ওম ফোন করে নন্দিতাকে বলেন ইশানকে নিয়ে ফিরে আসতে। কিন্তু নন্দিতা জানান যেহেতু অনেক রাত হয়ে গিয়েছে তাই আর দেখা করা সম্ভব নয়। পরের দিন সকালে দেখা করার কথা বলেন তিনি।

ওমের অনুরোধ সত্ত্বেও মৃত্যুর আগে এই দেখা না করা নিয়ে অত্যন্ত বিমর্ষ নন্দিতা। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা এটাই যে নন্দিতার মাকে ওই অদ্ভুত কথাগুলো কেন বলেছিলেন ওম? কেনই বা ছেলে আর স্ত্রীকে দেখা করার জন্য উতলা হয়ে উঠেছিলেন? শুধু নন্দিতা বা ইশান নয়, মৃত্যুর আগের দিন রাতে প্রথম স্ত্রী সীমাকেও অনেক বার ফোন করেছিলেন ওম। আজই মুম্বইয়ের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে সীমার স্মৃতিচারণ। সীমা সেখানে জানিয়েছেন যে ৫ জানুয়ারি রাতে তিনি এডিট স্টুডিওতে কাজে ব্যস্ত ছিলেন তাই প্রথমে ওমের ফোন রিসিভ করেননি। বার বার ওম ফোন করছেন দেখে যখন শেষমেশ ফোন ধরেন তখন ওম জানতে চান যে সীমা পাখিদের খাওয়ানোর জন্য খাবার কোথা থেকে কেনেন। 

প্রশ্ন হল, শুধুমাত্র এটা জানতেই কি মৃত্যুর আগের দিন রাতে এতবার করে ফোন করেছিলেন ওম? নাকি কোনও একটা ছুতোয় সীমার সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন? কেনই বা তিনি ইশান আর নন্দিতার সঙ্গে দেখা করার জন্য এত উতলা হয়েছিলেন সেদিন? যেখানে, ৮ জানুয়ারিই ইশানের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা ছিল তাঁ ‘টিউবলাইট’-এর শ্যুটিংয়ে। সেখান থেকে খাণ্ডালা যাওয়ারও কথা ছিল বলে জানিয়েছেন নন্দিতা। তবে কেন মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় নিজের প্রিয়জনদের সঙ্গে এতবার করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলেন ওম? ওম পুরী কি মৃত্যু নিয়ে কিছু একটা আঁচ করেছিলেন নাকি পুরোটাই কাকতালীয়? যদি কাকতালীয় হয় 

তাহলেও কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর মিলছে না— পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে কেন লেখা হল যে মৃত্যু স্বাভাবিক নয়? 

আরও পড়ুন

বার্ধক্যে এসে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদই কি আর সহ্য করতে পারলেন না ওম? 

ওমকে অনুকরণ করতে পারেননি কেউই, কারণ তা করা যায় না

Om Puri Death Nandita Puri Seema Kapoor Ishan
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -