SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

এবারের পুজোয় আমি বাড়িতেই থাকতে চাই...

কৃশানু মজুমদার | সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬
Share it on
পুজোর চারটি দিনে আগরতলা ছেড়ে কোথাও যেতে চান না। বড়জোর, একবেলা অনুশীলন করবেন। আর সন্ধেবেলা পরিবারের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরবেন, বলছেন জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার।

রিও অলিম্পিক্স কি বদলে দিয়েছে ত্রিপুরার মেয়ে দীপা কর্মকারকে? এবারের অলিম্পিক্সে একটা দুর্দান্ত ভল্ট রাতারাতি দীপাকে এনে দিয়েছে জগৎজোড়া নাম। খ্যাতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চ্যাম্পিয়্ন জিমন্যাস্ট পর্যন্ত এখন এক ডাকে চেনেন দীপাকে। সবাই বলেন, প্রোদুনভা ভল্ট। সাইমন বাইলস বলেন, ‘কর্মকার ভল্ট।’ দীপা নিজে কী বলছেন? তিনি বলছেন, ‘পাঁচ বছর আগে আমি যেমন ছিলাম, আজও তেমনই রয়েছি। এতটুকু পরিবর্তন হয়নি আমার।’

এ হেন দীপা এবারের পুজোয় কী করবেন? মাঝের কয়েকটা বছর তো বাষ্পের মতো উবে গিয়েছে তাঁর জীবন থেকে। জিম, অনুশীলন, কম্পিটিশন, ভল্ট এগুলোই তাঁর জীবনে ঘোরাফেরা করত। পুজো চলে গিয়েছিল পিছনের সারিতে। বাড়ির বাইরে বাইরেই কেটেছে দীপার পুজো। মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। পুজোর স্বাদ-বর্ণ-গন্ধ দীপাকে ছুঁতেও পারেনি।

এইবার কিন্তু সব অর্থেই অন্যরকম একটা বছর। দীপা মুহূর্তগুলো হারিয়ে ফেলতে চান না। উপভোগ করতে চান প্রতিটি মুহূর্ত। চান মা-বাবার সঙ্গ। তাই তো তিনি বলছেন, ‘পাঁচ বছর আমি বাড়ির বাইরে বাইরেই কাটিয়েছি। এবারের পুজোয় আমি বাড়িতেই থাকতে চাই। তবে সত্যি কথা বলতে কী, এখনও পরিকল্পনা কিছু করে উঠতে পারিনি। কারণ দেশে ফেরার পর থেকেই সবাই আমাকে সংবর্ধনার জন্য ডাকছে। সেখানে সময় দিতে হচ্ছে। পুজোর সময়েও বেশ কয়েকটি জায়গায় আমাকে ডাকা হবে বলেই মনে হচ্ছে।’


দ্বীপ জ্বালাল দীপা: অমৃতনগর সার্ব্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি (বেলঘড়িয়া)। ক্লাব সদস্যদের সঙ্গে
দীপার দু’পাশে রয়েছেন তাঁর কোচ ও তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। (ছবি সৌজন্য, ক্লাব কর্তৃপক্ষ)


দীপার কাছে পুজো উদ্বোধনের একাধিক প্রস্তাব এসেছে। কয়েকটি পুজো উদ্বোধনও করেছেন ও করবেনও তিনি। কিন্তু পুজোর চারটি দিনে আগরতলা ছেড়ে কোথাও যেতে চান না। বড়জোর, একবেলা অনুশীলন করবেন। আর সন্ধেবেলা পরিবারের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরবেন। দীপা বলছেন, ‘এখনও সব প্ল্যান করে ওঠা হয়নি। তবে পুজোর সময়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাব, পুজো মণ্ডপে ঘুরব।’ আত্মীয়স্বজনরা দীপার জন্য জামাকাপড় কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছেন। দীপাও নিশ্চয় পুজো মার্কেটিং শুরু করে দিয়েছেন!

দারুণ মজা করবেন তিনি। অষ্টমীতে অঞ্জলি দেবেন। মা দুগ্গার কাছে প্রার্থনা করবেন চার বছর বাদে তাঁর গলায় যেন পদক ওঠে। পুজো হোক বা অন্য উৎসব— টোকিও অলিম্পিক্স থেকে কিছুতেই ফোকাস নষ্ট করবেন না দীপা। টোকিও থেকে পদক জিতবেনই জিতবেন।

পুজো শেষ হলেই মা-বাবাকে সঙ্গে করে বেড়াতে যাবেন দীপা। কোথায় যাবেন তিনি? জায়গা কি স্থির করা হয়ে গিয়েছে? দীপা বলছেন, ‘এবার পুজোর পরই হয়তো আমরা বেড়াতে যাব। আন্দামান বেড়াতে যাব বলেই ঠিক হয়েছে। দেখা যাক।’ 

পুজোর পরে কী করবেন? সেই কথা না বলাই ভাল। সবাই জানেন পরবর্তী অলিম্পিক্সের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার কাজটা শুরু করে দেবেন। জিমে সময় দেবেন, অনুশীলনে নিজেকে ডুবিয়ে দেবেন, ঘাম ঝরাবেন। টোকিও থেকে পদক যে আনতেই হবে তাঁকে। তার জন্য মা দুগ্গার কাছে মনপ্রাণ দিয়ে প্রার্থনা করবেন।


অনুলিখন:  কৃষাণু মজুমদার

Dipa Karmakar Gymnast Puja Celeb Talk Durga Puja 2016
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -