SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

সাহারা মরুভূমি মানুষের তৈরি, চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন বিজ্ঞানীরা

নিজস্ব প্রতিবেদন, এবেলা.ইন | মার্চ ১৭, ২০১৭
Share it on
১০,০০০ বছর আগে সাহারা অঞ্চল সবুজ ছিল। পরে তা মরু অঞ্চলে পরিণত হয়। এই পরিবর্তনের পিছনে এতদিন প্রাকৃতিক কর্মকাণ্ডকেই দেখা হতো।

বিশ্বের প্রধানতম মরুভূমির পিছনে প্রাকৃতিক কারণ যতটা না ছিল, তার থেকে বেশি ছিল মানুষের হাত— এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা। সাহারা মরুর উৎস নিয়ে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।

‘ফ্রন্টিয়ারস ইন আর্থ সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধে সিওল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ ডেভিড রাইট জানিয়েছেন, ১০,০০০ বছর আগে সাহারা অঞ্চল সবুজ ছিল। পরে তা মরু অঞ্চলে পরিণত হয়। এই পরিবর্তনের পিছনে এতদিন প্রাকৃতিক কর্মকাণ্ডকেই দেখা হতো। মনে করা হত, পৃথিবীর কক্ষপথগত পরিবর্তনও এই মরুভূমির জারণের পিছনে ক্রিয়শীল থেকেছে। কিন্তু রাইটের মতে, নব্যপ্রস্তর যুগে এই অঞ্চলে মানবিক কারণেই পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। এবং সাহারা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে আসে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও নিউ জিল্যান্ডে এই প্রকার পরিবর্তন পরেও দেখা গিয়েছে।

আরও পড়ুন
সাহারায় সত্যিকারের শিহরণ! মরুভূমির উপরে জমে গেল বরফের আস্তরণ
৩৭ বছর আগে এ জিনিসও ঘটেছিল সাহারায়! অবিশ্বাস্য, কিন্তু সত্যি।

সাহারা অঞ্চলের পশুপালন-সভ্যতার নিদর্শনগুলিকে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ সাহারায় একসময়ে এই সভ্যতা রীতিমতো জীবন্ত ছিল। ক্রমে এই এলাকায় ঝোপ-জাতীয় উদ্ভিদ বাড়তে শুরু করে, যা পরে মরু-তে পরিণতি পায়। আনুমানিক ৮০০০ বছর আগে নীল নদের অববাহিকায় এক পশ্চিমমুখী অভিপ্রয়াণ দেখা যায়। পশুপালক সভ্যতাগুলি পশ্চিম দিকে সরে যেতে শুরু করে। সাহারার এক বিপুল এলাকা ঝোপ-অধ্যুষিত হয়ে পড়তে শুরু করে।

পশুপালন অর্থনীতি ক্রমে কৃষির দিকে বেঁকে যায়। পশ্চিমে উর্বর জমির সন্ধানে অভিপ্রয়াণ চলতে থাকে। সাহারা ক্রমেই জনবিরল হয়ে পড়ে। পশুপালনে অরণ্যভূমি আগেই ধ্বংস হয়েছিল। কারণ, পশুপালনের উপযোগী চারণভূমি তৈরি করতে বিপুল হারে গাছ কাটা হয়। অরণ্য ধ্বংস হয়ে যায়। বৃষ্টি স্বভাবতই কমে আসে। মরু তার ডানা প্রসারিত করে সাহারা অঞ্চলে।

নব্যপ্রস্তর যুগের অভিপ্রয়াণ যে পৃথিবীর সাবেক চেহারাটা পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল, এ কথা অনেক গবেষকই বলেন। তাই বলে সাহারার মতো সুবিশাল মরুভূমির পিছনেও যে মানবিক কর্মকাণ্ড প্রধান ভূমিকায় থাকতে পারে, তা এতদিন সেভাবে ভাবা যায়নি।

ডেভিড রাইট আরও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বিস্তৃত গবেষণার অবকাশ রয়েছে। নব্যপ্রস্তর-অভিপ্রয়াণ হয়েতো আরও চমকপ্রদ সত্যকে আমাদের সামনে নিয়ে আসবে অদূর ভবিষ্যতে।

Sahara Desert Neolithic age Archaeology Environment
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -