SEND FEEDBACK

English
Bengali

জ্যোতিষকথা: রাশি নির্ণয়ের রহস্য, কী বলে বৈদিক জ্যোতিষ মেষ রাশির বিষয়ে

শ্রীআদিত্য | এপ্রিল ১৬, ২০১৭
Share it on
প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষিরা ১২টি রাশিকে বিভিন্ন চিহ্নের দ্বারা চিহ্নিত করেছেন। আজ আলোচনা মেষ রাশির বৈশিষ্ট্য নিয়ে।

নিজের রাশি কী, এই প্রশ্ন খোলাখুলি রাখলে, জ্যোতিষ-বিশ্বাসী যে কোনও মানুষই একবাক্যে তাঁর নিজের রাশিটিকে জানিয়ে দেবেন। কিন্তু তার পরেই যদি প্রশ্ন করা হয়, এই রাশিচিহ্নটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী, তা হলেই সব শেষ। বেশিরভাগ মানুষই বিষয়টিকে তলিয়ে ভাবেন না। মেষ রাশির জাতকের সঙ্গে মেষ নামক প্রাণীটির, সিংহ রাশির জাতকের সঙ্গে সিংহের সম্পর্ক ঠিক কোথায়, তা অনেকেরই আজনা। ‘জ্যোতিষকথা’-র প্রথম পর্বে তাই রাশিচিহ্নগুলির পিছনে ক্রিয়াশীল ভাবনাকে ব্যক্ত করা প্রয়োজন মনে করছি।

ভারতীয় দর্শন অনুসারে, ব্রহ্মাণ্ডে ঘটে যাওয়া যাবতীয় ঘটনাই পদার্থ ও শক্তির সংঘর্যের ফলে সৃষ্ট। এই দর্শন পদার্থকে চার ভাগে বিভক্ত বলে মনে করে— অগ্নি, পৃথ্বী, বায়ু ও জল। শক্তিকে তিন প্রকার বলে মনে করে ভারতীয় দর্শন— চর, স্থির ও দ্বৈত শক্তি। চর হল চরম গতিশীল, স্থির হল চরম স্থিতিশীল আর দ্বৈত হল চর ও স্থির-এর মধ্যবর্তী অবস্থা। প্রতিটি পদার্থের সঙ্গে শক্তিগুলির ক্রিয়া চলছে নিরন্তর। এই নিত্য ক্রিয়ায় ব্রহ্মাণ্ডে ৩ X ৪= ১২টি মিশ্রণ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ব্রহ্মাণ্ড ভারতীয় জ্যোতিষে একটি গোলক হিসেবে কল্পিত। পদার্থ ও শক্তির সংঘাতের সূত্র অনুসারে এই গোলককে ১২টি খণ্ডিতাংশে বিভক্ত করা হয়। কল্পনা করা হয়, প্রতিটি খণ্ডাংশে একটি করে নক্ষত্রপুঞ্জ অবস্থান করছে। কাল্পনিক রেখা দিয়ে যুক্ত করলে তাদের গঠন এক এক প্রকারের হয়। এই নক্ষত্রপুঞ্জগুলিই ‘রাশি’ এবং সম্পূর্ণ রাশিগুলির সমষ্টিকে বলা হয় ‘রাশিচক্র’।

জন্ম সময়ে জন্মস্থান সাপেক্ষে পূর্ব দিগন্তে যে ভাবে গাণিতিক বিন্দু উদিত হয়, তাকে বলে ‘লগ্ন ভাব’। প্রথম ভাবকে ধ্রুব ধরে সম্পূর্ণ রাশিচক্রকে মোট ১২টি ভাগে ভাগ করা হয়। লগ্ন-সহ এই ১২টি ভাগকে বলে দ্বাদশ ভাব। রাশিচক্রে এর বিস্তৃতি ঘড়ির কাঁটার গতির বিপরীতে ধরা হয়।  

প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষিরা ১২টি রাশিকে বিভিন্ন চিহ্নের দ্বারা চিহ্নিত করেছেন। অনেকে মনে করেন, এই চিহ্নগুলি শুধুমাত্র কোনও রাশিকে বিশেষ ভাবে নির্দিষ্ট করার জন্য। কিন্তু তা ঠিক নয়। এগুলি আসলে কোনও রাশির জাতক-জাতিকার সামগ্রিক চরিত্রের অবয়বগুলিকে বিশ্লেষণ বা উন্মোচন করার এক দক্ষ পরিকল্পনা। চিহ্নের কারকতা উপলব্ধি করতে পারলেই জাতকের সামগ্রিক চরিত্রও উন্মোচিত হয়।

প্রথম পর্বে আলোচিত হবে মেষ রাশির কারকতা।

মেষ রাশির বৈশিষ্ট্যসমূহ

রাশিচক্রের প্রথম রাশিটি অগ্নিরাশি। এটি মেষ পশুর দ্বারা চিহ্নিত। যদি পশু হিসেবে মেষের চরিত্র ভাবা যায়, তা হলে দেখা যাবে, এই চরিত্রের সঙ্গে মেশ রাশির জাতক-জাতিকাদের এক আশ্চর্য যোগসূত্র রয়েছে। দেখা যায়—

মেষ প্রকৃতিগত ভাবে শান্ত। কিন্তু তাকে কোনও ভাবে বিরক্ত করলে সে অগ্নিরূপ ধারণ করে এবং প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে পরাজিত করার মানসিকতা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অগ্নিরাশি হওয়ার কারণে এই রাশির জাতক খুবই রগচটা। কিন্তু একই সঙ্গে চর-এর প্রভাব বজায় থাকায় এর ক্রোধ সহজেই প্রশমিত হয়।

মেষের মতোই এই রাশির জাতকের জীবন কিন্তু পরিকল্পনাহীন হয়ে থাকে। লক্ষ্যণীয়, মেষ ঘাস-পাতা খাওযার সময়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত সরে যায়। আগের জায়গাটির ঘাস-পাতা ফুরনোর আগেই সে নতুন জায়গা খোঁজে। মেষ-জাতকও একইভাবে অব্যবস্থিত চিত্তকে বহন করে। তার বেশিরভাগ কাজই পরিকল্পনাহীন।
 
অব্যবস্থিত চিত্তের কারণে মেষ রাশির জাতকের প্রতিষ্ঠা বিলম্বিত হয়। অনেক সময়ে তারা সঠিক সাফল্যের মুখ দেখতেও পারে না। অনেক গুণ থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের যোগ্যতার দাম পায় না। সামাজিক সফলতা তাদের কাছে মরীচিকা হয়ে দাঁড়ায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে।  

(লেখক বৈদিক জ্যোতিষ, নিউমেরোলজি, বাস্তু ও ফেং শ্যুই বিশেষজ্ঞ)

Astrology Aries Zodiac
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -