SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

পরকীয়া কি দুষ্টুমি আর গ্ল্যামারের ককটেল! নাকি অন্য কিছু

জুন ২, ২০১৭
Share it on
বিয়ের বছর কয়েক যেতে না যেতেই আপনি নিজেকে হঠাৎ করেই আবিষ্কার করেন অন্য কারও সঙ্গে... হতে পারেন তিনি সহকর্মী অথবা আচমকাই আলাপ হওয়া কেউ, কোনও কফি শপে কিংবা বার-এ।

রাত আটটা। কলকাতার এক ঝাঁ চকচকে বহুতল। অভিজিৎ জামার বোতাম আঁটতে আঁটতে দ্রুত তৈরি হচ্ছিল। তার সদ্য অফিসফেরত স্ত্রী চা বানিয়ে ডাক দিল, ‘‘এসো, চা তৈরি।’’

উত্তর এল, ‘‘সোনা, আমার এক পুরনো কলেজের বন্ধু এসেছে বহুকাল পরে। দেরাদুনের ব্যবসায়ী।’’

কথাটা শুনেই বিরক্তিতে চোখ কুঁচকে গেল তার স্ত্রীর, ‘‘আজকাল তো কোনও সন্ধেতেই তোমায় পাওয়া যায় না! হয় অফিসে ব্যস্ত, না হয় বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন... ’’

‘‘আরে বাবা, তুমি তো জানোই, এই কোম্পানিতে মাসকয়েক হল জয়েন করেছি!’’

‘‘তা বলে তোমার একেবারেই সময় না পাওয়াটা মোটেই মানা যায় না। যত দিন যাচ্ছে, আমরা একটা যান্ত্রিক সম্পর্কে চলে যাচ্ছি। এই জন্যই তুমি আমাকে বিয়ে করেছিলে?’’  

নিস্তব্ধ ঘরে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ পাওয়া গেল। কথা ভেসে এল— ‘‘বন্ধুর সঙ্গে ডিনারে গেলাম।’’

অভিজিৎ কি সত্যিই বন্ধুর কাছে গেল? নাকি...
       
এমনটাই তো হয়ে থাকে। বিয়ের বছর কয়েক যেতে না যেতেই আপনি নিজেকে হঠাৎ করেই আবিষ্কার করেন অন্য কারও সঙ্গে... হতে পারেন তিনি সহকর্মী অথবা আচমকাই আলাপ হওয়া কেউ, কোনও কফি শপে কিংবা বার-এ। লম্বা লম্বা সব কথাবার্তা থেকে আহ্লাদি পরকীয়ার চোরাগলিতে ঢুকে পড়া। সেই চোরাগলি থেকে চোরাবালিতে ফেঁসে যেতে সময় লাগে না। কেউই ভাবে না, শৌখিন পরকীয়া থেকে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যাবে। আপনি পরিষ্কার বুঝতে পারেন, বউকে ঠকাচ্ছেন। কিন্ত পরিস্থিতি ক্রমে হাতের বাইরে চলে যেতে থাকে।

নানা কারণেই হতে পারে পরকীয়া। তবে অন্যতম কারণ নিশ্চয়ই শারীরিক। ব্যাপারটা কারও কাছে ঠান্ডা লাগার মতো হাল্কা। কারও কাছে গভীর অসুখ। ঘটনা হল, যত সময় যাবে তত আপনার মাথার মধ্যে নানা রকম খেলা চলতে থাকবে। আর তত মনের ভেতরটা তছনছ হয়ে যেতে থাকে। লজ্জা আর অপরাধবোধ কুরে কুরে খেতে থাকে।

পরকীয়া মোটেই তেমন আহামরি দুষ্প্রাপ্য কোনও ব্যাপার নয়। বরং বলা যায় খুবই স্বাভাবিক। প্রায় সব বিবাহিত দম্পতিকেই এর মধ্যে দিয়ে কখনও না কখনও যেতে হয়েছে। পরকীয়ার ক্ষেত্রে একটা কথা বুঝতেই হবে। দাম্পত্যকে দূরে সরিয়ে অন্য কাউকে ভালবাসতে যাওয়ার অর্থই হল, স্ত্রীকে আঘাত করা। গোপনীয়তা আর মিথ্যে কথার জালে ক্রমশ জড়িয়ে যাওয়া। আর আপনার বাচ্চারা? তাদের সঙ্গে আপনার সময় কাটানোটার ব্যাপারটাও ক্রমশ কমতে থাকবে। যেটুকু সময় নিজের বলতে থাকে, তখন তার পুরোটাই চলে যায় নতুন সঙ্গীটির পিছনে। তার উপরে লুকোচুরিতেও সময় কম যায় না। পরবর্তী বছর কয়েক এভাবেই নিরন্তর নারকীয় জীবনযন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাওয়া।

কাজেই যখনই টের পাবেন, কারও প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছেন, বুঝবেন বউয়ের প্রতি নজর দেওয়ার সময় এসেছে। দাম্পত্যের পুরনো চনমনে দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করুন। তাতেও কাজ না হলে ভাল করে ভেবে দেখুন, একবার যদি ব্যাপারটা বউয়ের কানে চলে যায়, তা হলে কী হতে পারে!

ঠিক কী হয় একটা পরকীয়ায়? বেলজিয়ামের বিখ্যাত লেখক ও থেরাপিস্ট এসথার পেরেলের মতে, তথাকথিত অবৈধ সম্পর্ক একসঙ্গে তিনটে জিনিস নিয়ে আসে। যার মূলে থাকে অবশ্যই রগরগে সম্পর্কের ছোঁয়া। তার সঙ্গে মিশে থাকে মানসিক অনুভব আর শরীরী আহ্বানের রসায়ন। এই রসায়নটাই আসল। কবি জয় গোস্বামীকে অনুসরণ করে বলা যায়, চুম্বনের স্বপ্ন দেখে ভেঙে যাওয়া ঘুম সহস্র সঙ্গমের সুখকেও তুচ্ছ করে দিতে পারে। সেটাই অ্যালকেমি। সেই ম্যাজিক কাজ করলে খুলে যায় আলিবাবার গুপ্তভাণ্ডার।  
ঠিক কেমন মেয়েদের প্রেমে পড়ে বিবাহিত পুরুষরা? সেই সব মেয়ে কি সত্যিই যৌনতা, দুষ্টুমি আর গ্ল্যামারের ককটেল? এমনটা মনে মনে ভাবেন বটে স্ত্রীরা। কিন্তু বাস্তবটা একেবারেই আলাদা। অনেক সময়ই তারা হয় বেশি বয়সি, এমনকী স্ত্রীয়ের চেয়ে অনেক কম সুন্দর ও শিক্ষিতও। তবু সে আসে আর পুরুষটির মনের ভেতরটা দখল করে নিতে থাকে। এখানে জাগ্রত থাকে দাম্পত্য অভ্যাসের ফলে জাত এক মহাশূন্যতা। তাকে ভরাট করতে মানসিক হাহাকার যেখানে আশ্রয় পায়, সেখানেই আসে পরকীয়া। আর শরীর সেখানে অবধারিত। তা নিয়ে কোনও জড়তা থাকে না পরকীয়ায়। কারণ ‘বিবাহ-বহির্ভূত প্রেম’ মানে, সেখানে বিবাহের প্রায় সব শর্তই রক্ষিত থাকে। শরীর সেখানে সাবলীল, স্বাভাবিক।

কিন্তু শরীর তো শুধু জুড়োয় না। সে জাগে আর ঘুমোয়। সে তন্দ্রাচ্ছন্নও থাকে। সেই তন্দ্রার মধ্যে কখন যেন ঢুকে পড়ে গ্লানিবোধ। অনেক উড়ালের পরে যেন নেমে আসা কাদা-মাটির সংসারে।   

মনে রাখতে হবে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক একটা সাময়িক ব্যাপার। একদিন এটা শে়ষ হবেই। শুধু রেখে যাবে সেই গ্লানি আর তার থেকে জন্ম নেওয়া গভীর ক্ষত।

ত্রিকোণ প্রেম নিয়ে জোকস জমতে পারে। ‘সান্টা-বান্টা’ ওয়েবসাইটের ভিউয়ারশিপ আকাশ ছুঁতে পারে। কিন্তু পরকীয়ার পাত্রে অমৃত-গরলের খেলায় যে গরলের স্বাদটাই তীব্র, সেটা তিনিই ভাল জানেন, যিনি এতে মজেছেন। সেখানে কোনও রসিকতা খাটে না।  

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -