SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

এঁর গোলেই মোহনবাগান ফেডকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর বায়োপিক

কৃশানু মজুমদার, এবেলা.ইন | মে ১৯, ২০১৭
Share it on
এই তারকা মোহনবাগানকে ফেডারেশন কাপ এনে দিয়েছেন। এ বার তাঁর বায়োপিক মুক্তি পেতে চলেছে।

এগিয়ে এসেছে এবারের ফেডারেশন কাপের ফাইনাল। কটকে সবুজ-মেরুনের সামনে বেঙ্গালুরু এফসি। দু’ ক্লাবই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে মহাম্যাচের। টাইমমেশিনের সাহায্য না-নিয়ে ফিরে যাই ২৪ বছর আগের এক বিকেলে। সেবার কেরল থেকে ফেডারেশন কাপ জিতে এসেছিল সবুজ-মেরুন। সেদিন ভিপি সত্যেনের গোলে গঙ্গাপারের ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই ভিপি সত্যেন এখন আর নেই। পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে তারার দেশে চলে গিয়েছেন সেই কবেই।  

২০০৬-এর, ১৮ জুলাই চেন্নাইয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক সত্যেন। সেই সত্যেনকে নিয়েই মালায়লম ভাষায় তৈরি হচ্ছে বায়োপিক। নাম ‘ক্যাপ্টেন, দ্য আনসাং হিরো’। ছবির পরিচালক প্রজীশসেন। ছবির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে শ্যুটিংয়ের জন্য কলকাতায় এসেছেন তিনি। মোহনবাগান, হাওড়া-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় শ্যুটিং করবেন বলে প্ল্যান করে ফেলেছেন তিনি। শুক্রবার এবেলা.ইন-কে প্রজীশ বললেন, ‘সত্যেন আমার ছেলেবেলার হিরো। দুর্দান্ত ফুটবলার। অথচ প্রচারের আলো পেলেন না কোনওদিন। ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেরল ফুটবলে সত্যেনের প্রচুর অবদান রয়েছে। সত্যেনকে নিয়ে ছবি করব না তো, কাকে নিয়ে করব?’ প্রশ্ন ছুড়ে দেন সত্যেনের বায়োপিকের পরিচালক।

(বাঁ দিকে ) ভিপি সত্যেন। রিল লাইফের সত্যেন, নায়ক জয়সূর্য। গ্রাফিক্স — বিশ্বজিৎ দাস 

৪১ বছর বয়সে নিজেকে শেষ করে দিয়েছিলেন সত্যেন। নিন্দুকেরা বলতেন, মানসিক অবসাদ গ্রাস করেছিল এই ডিফেন্ডারকে। আর্থিক সঙ্কটও গ্রাস করেছিল তাঁকে। মৃত্যুর পরে সত্যেনের পকেট থেকে চারটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গিয়েছিল বলে খবর। মিডিয়া, তাঁর দুই বন্ধু এবং ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্তাকে উদ্দেশ্য করে লিখে গিয়েছিলেন কেরলের এই ডিফেন্ডার। সত্যেনের মৃত্যু এখনও রহস্যাবৃত।

কেমন ফুটবলার ছিলেন সত্যেন? ডিফেন্সকে নেতৃত্ব দিতেন। বড় ভাইয়ের মতো আগলে রাখতেন সতীর্থদের। ১৯৮৬ সালে মারডেকায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সত্যেনের ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শট ভারতকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিল। তাঁর সতীর্থরা তো বটেই দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলাররাও বুঝতে পারেননি, সত্যেনের শট জালে আশ্রয় নেবে। বড়মাপের ফুটবলার হওয়া সত্ত্বেও অর্জুন পুরস্কার পাননি তিনি। তাঁর স্ত্রী অনিতা দু’বার অর্জুন পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।

(বাঁ দিকে) সত্যেনের বায়োপিকের নায়িকা অনু সিতারা। (ডান দিকে) সত্যেনের স্ত্রী অনিতা

১৯৯৩ সালে সবুজ-মেরুনকে ফেডারেশন কাপ দিয়েছিলেন সত্যেন। তাঁর মৃত্যু নিয়ে এখনও রয়ে গিয়েছে রহস্য। প্রজীশ বলছিলেন, ‘যে কারণে সত্যেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেটাই আমি তুলে ধরার চেষ্টা করব।’ কী কারণে নিজেকে শেষ করে ফেললেন সত্যেন? প্রশ্নটা রাখা হয়েছিল পরিচালকের কাছেই। জবাবে তিনি বলেন, ‘এটাই তো রহস্য।’ দু’ ঘন্টার সিনেমা। পরিচালক নিজেও একসময়ে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বলছিলেন, ‘ছবিটা কমাশির্য়াল নয়। পারিবারিক ছবি। ওনামের পরেই হয়তো মুক্তি পাবে ছবিটা।’

ছবির পরিচালক প্রজীশ

সত্যেন যখন পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান, তখন তাঁর কন্যা অথিরার বয়স দশ। সেই মেয়ে এখন চেন্নাইয়ে। বি টেক করেছেন। স্বামী চলে গেলে এখনও এই দেশের স্ত্রীরা অসহায়। মেয়ে তখন মাটির সঙ্গে কথা বলছে। অন্য এক যুদ্ধ শুরু হয় অনিতার। মেয়েকে বড় করেছেন। কোঝিকোড়ে সত্যেনের নামে একটি ফুটবল অ্যাকাডেমি চালাচ্ছেন। অনিতা বলছিলেন, ‘আমাদের আর্থিক সঙ্কট রয়েছে। তবুও চালিয়ে যাচ্ছি।’ সত্যেন ফুটবল অ্যাকাডেমিতে প্রায় ১৩০ জন ফুটবল শিখছে। অনিতা বলছিলেন, ‘সত্যেনের জীবন নিয়ে ছবি হবে। ওর ভূমিকায় অভিনয় করবে মালায়লম ছবির নায়ক জয়সূর্য। আমার ভূমিকায় অভিনয় করবেন অনু সিতারা।’ 

এক নজরে সত্যেন। গ্রাফিক্স — বিশ্বজিৎ দাস

সত্যেনের বায়োপিক নির্মিত হচ্ছে ভাল কথা। এখনকার প্রজন্ম চিনতে পারবে প্রচারের আলো না-পাওয়া ফুটবলারকে। কেন তাঁকে আত্মঘাতী হতে হল, সেটাও জানতে পারবেন ফুটবল-ভক্তরা। তাঁর সমসাময়িকরা কি খোঁজখবর রাখেন সত্যেনের পরিবারের? কেউ খোঁজটোজ নেন? সত্যেনের স্ত্রী অনিতা জবাবে কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। 

VP Sathyan Mohun Bagan Federation Cup
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -