SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

মরশুম শেষ হয়নি। তার আগেই কথা শুরু ইস্টবেঙ্গলে। আসছেন নতুন অতিথি, জানালেন স্টিভেন

কৃশানু মজুমদার | মার্চ ১৭, ২০১৭
Share it on
‘‘আমি জেসিটি ও মোহনবাগানের হয়ে জাতীয় লিগ জিতেছি। ভারতে খেলা প্রথম বিদেশি ফুটবলার হিসেবে এই নজির গড়েছিলাম। ইস্টবেঙ্গল নিজেই নিজেদের কাজটা কঠিন করে ফেলেছে। এই অবস্থা থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা খুবই কঠিন। তবে অসম্ভব নয়।’’

তাঁকে নিয়ে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আইলিগের প্রথম ডার্বি ম্যাচের ঠিক আগে মোহনবাগানের ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডার এডু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন প্রাক্তন মোহনবাগানী স্টিভেন আবারোয়িকে। ইস্টবেঙ্গল-চেন্নাই সিটি এফসি ম্যাচে উইলিস প্লাজা গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই স্টিভেন ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন, ‘মাই বয় ইজ রকিং।’ রেফারির শেষ বাঁশির পরে দেখা যায় চেন্নাই সিটির মতো দুর্বল দল হারিয়ে দিয়েছে শক্তিশালী ইস্টবেঙ্গলকে। দলের হার দেখে স্থির থাকতে পারেননি লাল-হলুদ সমর্থকরা। তাঁদের সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে স্টিভেন ও প্লাজার উপরে। মোহনবাগান ও জেসিটি-কে জাতীয় লিগ দেওয়া স্টিভেন এ বারের আইলিগে ইস্টবেঙ্গলের সম্ভাবনা, উইলিস প্লাজার সাফল্য নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন এবেলা.ইন-এর সঙ্গে। 

প্রশ্ন: উইলিস প্লাজা আপনার ফুটবলার। আপনার জন্যই প্লাজা ইস্টবেঙ্গলে সই করেছে। কিন্তু যা দেখা যাচ্ছে, লাল-হলুদ সমর্থকরা প্লাজার উপরে মোটেও সন্তুষ্ট নন। আপনার পছন্দের স্ট্রাইকার ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করলেও  লাল-হলুদ সমর্থকদের প্রত্যাশা কিন্তু মোটেও পূরণ করতে পারেননি প্লাজা। 

স্টিভেন: উইলিস প্লাজাকে আমিই ইস্টবেঙ্গলে এনেছি। ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল সচিব সন্তোষ ভট্টাচার্য একদিন ফোন করে আমাকে বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন ভাল স্ট্রাইকার দরকার ইস্টবেঙ্গলের। সন্তোষের কথা মতোই আমি উইলিস প্লাজাকে সই করাই ইস্টবেঙ্গলে। প্লাজা গোলও করেছে। কিন্তু একটা ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পরেই লাল-হলুদ সমর্থকরা প্লাজাকে বিশ্রী গালিগালাজ করতে শুরু করে দেন। আমাকেও গালিগালাজ করা হয়। প্রিয় দল খারাপ খেললে, হেরে গেলে সমর্থকরা রেগে যান, দুঃখ পান, এটাই স্বাভাবিক। হতাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ফুটবলার, কোচের উপরে উগড়ে দেন যাবতীয় রাগ। গোটা বিশ্বে এরকম ঘটনাই ঘটে থাকে। সমর্থকদের ক্ষোভ নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত বা ভাবিত নই। কিন্তু একটা কথা না বলে পারছি না। আমাকে এবং আমার ফুটবলারকে যে ভাষায় সমর্থকরা গালিগালাজ করেছেন, সেটাকে আমি মোটেও সমর্থন করি না। আমি যখন ভারতে খেলেছি, সেই সময়ে এখনকার অনেক সমর্থকই জন্মাননি। 

প্রশ্ন: আপনি তো জাতীয় লিগ জেতা ফুটবলার। আইলিগে ইস্টবেঙ্গল এখন যে জায়গায় রয়েছে, সেখান থেকে কি আইলিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব?  

স্টিভেন: আমি জেসিটি ও মোহনবাগানের হয়ে জাতীয় লিগ জিতেছি। ভারতে খেলা প্রথম বিদেশি ফুটবলার হিসেবে এই নজির গড়েছিলাম। ইস্টবেঙ্গল নিজেই নিজেদের কাজটা কঠিন করে ফেলেছে। এই অবস্থা থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা খুবই কঠিন। তবে অসম্ভব নয়। হাতে এখনও চারটে ম্যাচ বাকি রয়েছে। চারটি ম্যাচ জিততে পারলেই কিন্তু অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। এটাই তো লম্বা লিগের মাহাত্ম্য। 

প্রশ্ন: আপনি তো উইলিস প্লাজার মেন্টরও বটে। আইলিগের এই সন্ধিক্ষণে প্লাজার জন্য আপনার পরামর্শ কী? 

স্টিভেন: আমি প্লাজাকে একটা কথাই বলি, বাকি ম্যাচগুলোয় নিজেকে উজাড় করে দাও। সুযোগ পেলেই গোল করো। আগে কী হয়েছে, তা নিয়ে আর ভেবো না। চারটে সুযোগ পেলে তা থেকে অন্তত দু’টো গোল করো। তুমি গোল করলেই দেখবে ইস্টবেঙ্গলের কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছে। দলের প্রয়োজনে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা রয়েছে প্লাজার। নিজের ফুটবলজীবনে আমিও বহুবার দলের প্রয়োজনে গোল করেছি। নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি।  

প্রশ্ন: টানা দুটো ম্যাচে হারের পরে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা ভেঙেই পড়েছেন। বহু সমর্থকই বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন এখন। সেই সব আবেগপ্রবণ সমর্থকদের জন্য আপনার কী বার্তা?

স্টিভেন: কলকাতার অন্য ক্লাবের সমর্থকদের থেকে ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। দল বা তাঁদের প্রিয় ফুটবলাররা যখন ভাল খেলছে, তখন ভক্তরা খুশিতে ডগমগ। কিন্তু ক্লাব পয়েন্ট খোয়াতে শুরু করলে, ফুটবলাররা গোল করতে ব্যর্থ হলেই সব রাগ তখন গিয়ে পড়ে প্লেয়ারদের উপরে। এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। ছেলে পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে বাবা তো আর আনন্দে হাততালি দিতে পারেন না। 

প্রশ্ন: উইলিস প্লাজাকে ইস্টবেঙ্গলে পাঠিয়েই আপনার যা অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে কি আর অন্য কোনও ফুটবলারকে পাঠাবেন লাল-হলুদে? ফুটবলার পাঠানোর আগে নিশ্চয়ই দ্বিতীয়বার ভাববেন?

স্টিভেন: কেন নয়? ভবিষ্যতেও প্লেয়ার পাঠাব ইস্টবেঙ্গলে। পরবর্তী মরসুমের দিকেই নজর রাখুন। আমি আকান্দেকে আনব ইস্টবেঙ্গলে। দেখে নেবেন। কথাবার্তা অনেকদূর এগিয়েও গিয়েছে। আর হ্যাঁ, একটা কথা বলি। সমর্থকদের বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগই নেই। 

Stephen Abarohi East Bengal Mohun Bagan I league
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -