SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

অস্ত্রোপচারেও চোট সারেনি, সুস্মিতা স্বপ্ন দেখছেন নয়া প্রজন্ম তৈরির

তানিয়া রায় | মার্চ ২১, ২০১৭
Share it on
জীবনটা যেন হঠাৎ-ই থমকে গিয়েছে তাঁর! স্বপ্নগুলো যেন মুঠোর বাইরে চলে যাচ্ছে! অলিম্পিক্সের মঞ্চ এখন তাঁর কাছে অতীত! যে কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টই অতীত হয়ে গিয়েছে। অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছেন তিনি।

জীবনটা যেন হঠাৎ-ই থমকে গিয়েছে তাঁর! স্বপ্নগুলো যেন মুঠোর বাইরে চলে যাচ্ছে! অলিম্পিক্সের মঞ্চ এখন তাঁর কাছে অতীত! যে কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টই অতীত হয়ে গিয়েছে। অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছেন তিনি। 
তিনি সুস্মিতা সিংহ রায়। যাঁকে নিয়ে এক সময়ে অলিম্পিক্সে পদকের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলা। সুস্মিতার হারিয়ে যাওয়ার পিছনে রয়েছে এক হতাশজনক কাহিনি। ভুল চিকিৎসার খেসারত দিতে হচ্ছে মেদিনীপুরের এই জাতীয় অ্যাথলিটকে। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং চিকিৎসার গাফিলতির খবর এখন নিয়মিত শিরোনামে উঠে আসছে।। অথচ পাঁচ-ছয় বছর আগে ভুল চিকিৎসার শিকার হতে হয়েছিল সুস্মিতাকে। আর তার জেরে তাঁর অ্যাথলিট জীবন এখন কার্যত প্রশ্নের মুখে।
সুস্মিতা চোট পেয়েছিলেন বাঁ পায়ে। তারপর সেখানে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল। কিন্তু সেই অস্ত্রপচারের পাঁচ বছর পরেও চোট এতটুকু সারেনি। সুস্মিতার অনুমান, চোটের জায়গার বদলে, ভুল জায়গায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। সোমবার সকালে সাইয়ে প্র্যাক্টিসের পর হতাশ গলায় সুস্মিতা বলছিলেন, ‘‘এখন বেশিক্ষণ প্র্যাক্টিসই করতে পারি না। পায়ে যন্ত্রণা হয়। আর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাফল্য পেতে হলে এত অল্পসময়ের ট্রেনিংয়ে হবে না।’’ সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘‘চোটের জায়গায় অস্ত্রোপচার করা সত্ত্বেও কিছুই সারেনি। বুঝতে পারলাম না আদৌ ঠিক জায়গায় অস্ত্রোপচার হয়েছিল কি না!’’ 
মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে ছোটবেলায় কলকাতার সাইতে এসেছিলেন। ‘‘আমার মা নিজে অ্যাথলিট ছিল। কিন্তু সেই সময়ে বাড়ির মেয়েদের উপর নানা নিষেধাজ্ঞা ছিল। মা তাই পারেনি। চেয়েছিল আমি মায়ের স্বপ্নপূরণ করি। কিন্তু সবটা করতে পারলাম না,’’ কথাগুলো বলার সময় গলাটা ধরে এল সুস্মিতার। পুরনো চোট সারেনি বলে ভবিষ্যতে সুস্মিতার কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নামা হয়তো অনিশ্চিত। তবে আপাতত তাঁর চেষ্টা, অফিসের হয়ে জাতীয় স্তরের টুর্নামেন্টে নামতে। তিনি বলছিলেন, ‘‘ট্র্যাক আর ফিল্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখত পারব না। তাই আপাতত অফিসের হয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপেই নামব।’’
সুস্মিতার শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ২০১৪-র ইনচিওন এশিয়ান গেমস। হেপ্টাথেলনে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া করে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিলেন তিনি। তারপর থেকে পুরনো চোটের জন্য আর কোনও বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেননি। তবু সহজে হাল ছাড়েননি সুস্মিতা। নিয়মিত সাইয়ে যাচ্ছেন। সতীর্থ অ্যাথলিটদের সঙ্গে কঠোর অনুশীলনে নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছেন। দৌড়চ্ছেন। ওয়েট ট্রেনিং করছেন। কোচ কুন্তল রায়ের পর্যবেক্ষণে সমস্তরকমের ফিটনেস ট্রেনিং করতেও পিছপা হচ্ছেন না। ক্ষীণ হলেও সুস্মিতার মনে আশা, যদি কোনওদিন পুরনো চোটটা কখনও সেরে যায়। কুন্তল রায়ের কথাতেও ছাত্রী সম্পর্কে প্রশংসা। তিনি বলছেন, ‘‘এরকম চোট পেলে বেশীর ভাগ অ্যাথলিট পাকাপাকিভাবে অবসর নিয়ে নিত। কিন্তু সুস্মিতা এখনও নিয়মিত অনুশীলন করছে। লড়াই ছাড়েনি। এটাই জুনিয়রদের কাছে শিক্ষণীয়।’’
সুস্মিতা হয়তো নিজের সব স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। তবে এখনও স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি। সংকল্প নিয়েছেন, তাঁর মতো অনেক সুস্মিতাকে তৈরি করার। যাঁদের মধ্যে দিয়েই নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে চান সুস্মিতা। ‘‘কোচিং করানোর ইচ্ছে আমার আছে। তবে এখনই নয়। হয়তো কোচিং করাতে এলে নিজের চাওয়া পাওয়াগুলো অন্যদের মধ্যে দিয়ে পূরণ করতে পারব,’’ কথাগুলো বলার সময়ে কিছুক্ষণ আগের থমথমে মুখ মুহূর্তে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। 

Sushmita Singha Ray
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -