SEND FEEDBACK

English
Bengali

কলকাতাতেও চলছে ‘দঙ্গল’, নিঃশব্দে তৈরি হচ্ছে বাংলার ফোগত

সুদীপ পাকড়াশী | মার্চ ২১, ২০১৭
Share it on
ভারতীয় কুস্তিতে দ্রোণাচার্য কোচ মহাবীর ফোগতের হাতে গড়া ফোগত বোনদের উত্থানের সঙ্গে তার কাহিনি হুবহু মিলে যাচ্ছে।

ভারতীয় কুস্তিতে দ্রোণাচার্য কোচ মহাবীর ফোগতের হাতে গড়া ফোগত বোনদের উত্থানের সঙ্গে তার কাহিনি হুবহু মিলে যাচ্ছে।
শিখা সিংহ। রাজ্য কুস্তি সংস্থার কোচিং ক্যাম্পে ট্রেনিং করেই গত বছর জাতীয় কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে (৪৮ কেজি বিভাগে) চতুর্থ হয়েছে। হরিয়ানার বলালি গ্রাম নয়, শিখার বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগণার গড়িয়া সংলগ্ন অঞ্চলের একটি কলোনিতে। বাবা সঞ্জয় সিংহ সংসার চালায় গরুর দুধ বিক্রি করে। বাড়িতে মা আর ভাই উজ্জ্বল ছাড়াও রয়েছেন ঠাকুর্দা বিশ্বেশ্বর সিংহ। তিনি ছিলেন পেশাদার কুস্তিগির। তিনিই শিখার ‘মহাবীর ফোগত’! তাঁর কথা শুনেই ছোট থেকে কুস্তির প্রতি প্রেম সপ্তদশী শিখার। 
আগামী ২২ এবং ২৩ মার্চ দক্ষিণ দমদম পৌরসভা ও রাজ্য সংস্থার পরিচালনায় হচ্ছে রাজ্য কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপ। শিখা যেখানে নামবে। সোমবার ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে বসে নিজের দৈনন্দিন যুদ্ধের কথা বলে গেল অনর্গল, ‘‘প্রত্যেকদিন ভোর চারটের সময় দাদু আমাকে ডেকে দিত। নিজে ঘুম থেকে না উঠলে জুটত প্রচণ্ড বকুনি। তারপর ইস্টার্ন বাইপাসের ধার দিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দৌড়। তা সে ঝড়, বৃষ্টি যাই হোক। কোনওদিনই আমার এই ছ’কিলোমিটার দৌড় বন্ধ হয়নি। আর সেই দৌড়ে সাইকেল চালিয়ে সর্বক্ষণ আমার সঙ্গী দাদু।’’ 
দৌড় থেকে ফিরে দাদুর সামনে শুরু হতো নানা কসরৎ। যার মধ্যে অন্যতম ছিল গাছে ওঠা আর দ্রুত গতিতে গাছ থেকে নামা। শিখা বলল, ‘‘দাদুর কড়া নির্দেশ, মশলাদার খাবার ছোঁয়া যাবে না। বলতেন, বড় কিছু করতে কুস্তিকে পুজো করতে হবে।’’ 
এখন দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া শিখা তখন ক্লাস নাইনে। বিশ্বেশ্বর স্বপ্ন দেখতেন নাতনি একদিন পেশাদার হবে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদক জিতবে। সেই সময়ই পঞ্চানন ব্যায়াম সমিতিতে কমনওয়েলথ গেমসে বাংলার প্রাক্তন কোচ রুনু ঘড়ুইয়ের কাছে শিখা কোচিং নিতে শুরু করেছিল। সেটা দু’বছর আগের কথা। ভর্তি হওয়ার দু’দিনের মধ্যে আন্তঃজেলা চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে সোনা জিতে ফেলে শিখা।
তারপর মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য কুস্তি ছেড়ে প্রায় ছ’মাসের বিরতি। তবে, প্র্যাক্টিসে শিখার বিশ্রাম ছিল না। ভোরে উঠে ফিটনেস ট্রেনিং একেবারে নিয়ম করে। কিন্তু কুস্তি প্র্যাক্টিস করার জায়গা কোথায়? বাড়ির পাশে একটা ডোবা আর জঙ্গল। সেই জঙ্গলের ঘাস কেটে তার ওপরই শিখা প্র্যাক্টিস করেছে। লড়াইয়ের প্রতিপক্ষ? ভাই উজ্জ্বল আর স্থানীয় কিছু ছেলে! হুবহু ‘দঙ্গল’ সিনেমার মতো।  ‘‘রুনু ম্যাডামের কাছে যা শিখেছিলাম সেটাই প্র্যাক্টিস করতাম,’’ বলছিলেন শিখা। যাঁদের ঘরে আজও টিভি নেই। প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে শিখা রিও অলিম্পিক্সে সাক্ষী মালিকের লড়াই দেখেছে। সঙ্গে জানাচ্ছে, ‘‘এক শুভান্যুধায়ীর মোবাইল ফোনে দেখেছি গীতা ফোগত, ববিতা ফোগতের ম্যাচ আর প্র্যক্টিসের ভিডিও।
গত বছর আবার পঞ্চানন ব্যায়াম সমিতিতে ট্রেনিং শুরু করেছে শিখা। শৈশব থেকেই দারিদ্র নিত্যসঙ্গী হওয়ায় কলকাতার একটি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট সংস্থা শিখা’কে বিশেষ আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে শিখা মুখোমুখি হয়েছিল সাক্ষী মালিকেরও। শুধু হাত মিলিয়েছে। কিন্তু কথা বলেনি। খানিক অভিমান থেকেই শিখা বলছিল, ‘‘একদিন আমিও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পদক জিতব। তারপর কোনও অনুষ্ঠানে অথবা কোনও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সাক্ষী নিজে আমার সঙ্গে কথা বলবে। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি!’’

Shikha Singh wrestling
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -