SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

এই জন্যই সৌরভ ‘মহারাজ’। শেষ হাসি হাসলেন তিনি। জেনে নিন আসল কারণ

কৃষানু মজুমদার, এবেলা.ইন | ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬
Share it on
বছরের শেষে শেষ হাসি হাসলেন কিন্তু একজনই। তিনি বাংলার মহারাজ। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। একেই বলে, ওস্তাদের মার শেষ রাতে।

কোহলি-ধোনি পিছিয়ে, এগিয়ে দীপা-সিন্ধু-সাক্ষী 

সব অর্থেই, ২০১৬ ব্যতিক্রমের একটি বছর। স্রোতের উলটোদিকে হাঁটার বছর। চলতি বছর এখনও শেষ হয়নি। নতুন বছরকে আহ্বান জানাতে আর অল্প কয়েকদিন বাকি। পিছনে ফিরে দেখলে মনে হবে, এতদিন পর্যন্ত আমরা যা দেখে এসেছি, যা জেনে এসেছি, যা মেনে এসেছি, তা পুরোদস্তুর ভুল। চলতি বছর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, ক্রিকেটের দাপটে থাবা বসিয়েছে ব্যাডমিন্টন, জিমন্যাস্টিক্স, কুস্তির মতো অপেক্ষাকৃত ‘ছোট’ খেলা। এতদিন পর্যন্ত ক্রিকেটারদের দিকে তাকিয়ে থাকত দেশ। রিও অলিম্পিক্সের পরে বদলে যায় সব ধ্যানধারণা। বিরাট কোহলিরা একত্রে বসে পিভি সিন্ধুর মরিয়া লড়াই দেখেন। গোটা দেশ মন্ত্রমুগ্ধ। হিসেব অনুযায়ী, ৬৬.৫ মিলিয়ন দর্শক সিন্ধুর মরণপণ ফাইনাল দেখেন। শেষমেশ সিন্ধু হারলেও রেকর্ড বইয়ের পাতায় তিনি জায়গা করে নেন।

এর আগে কোনও ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াবিদ অলিম্পিক্স থেকে রূপো জিততে পারেননি। সিন্ধু অসাধ্যসাধন করেন। রিওর বল গড়ানোর আগে সম্ভাব্য পদকজয়ীর তালিকায় রাখা হয়নি সিন্ধু-সাক্ষী—দীপাকে। অলিম্পিক্সে যখন ‘একে একে নিবিছে দেউটি’, তখন  তিনকন্যা ভারতের পতাকা তুলে ধরেন। ত্রিপুরার মেয়ে দীপা অল্পের জন্য নিশ্চিত পদক হাতছাড়া করেন। ব্যর্থ হলেও তিনি দেখিয়ে দেন, সঠিক পরিকাঠামো থাকলে জিমন্যাস্টিক্সের মতো খেলা থেকেও পদক জেতা সম্ভব। এই দেশে জিমন্যাস্টিক্সের পরিকাঠামোই যে নেই। ত্রিপুরাতে তো নেই-ই। সেই জায়গা থেকে দীপা উঠে এসেছেন। বিশ্বের তাবড় তাবড় জিমন্যাস্টদের পিছনে ফেলে চতুর্থ হন দীপা। কুস্তিগীর সাক্ষী মালিক কুস্তির ম্যাট থেকে ব্রোঞ্জ জেতেন। তিনকন্যা পিছনে ফেলে দেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি, বিরাট কোহলির মতো তারকাদের।  

অন্য দীপার উত্থান 
এবার প্যারালিম্পিক্সে নজিরবিহীন পারফরম্যান্স করে ভারত। চার জন প্রতিযোগী মেডেল জিতে দেশে ফেরেন। দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া নিজের রেকর্ড ভেঙেই জ্যাভেলিন থ্রোয়ে সোনা আনেন। হাই জাম্প থেকে প্রথম বার সোনা নিয়ে আসেন মারিয়াপ্পন। দীপা মালিক শট পাট ইভেন্ট থেকে রুপো জেতেন। বরুণ ভাটি দেশকে এনে দেন ব্রোঞ্জ। প্যারালিম্পিক্সে এবারই সেরা পারফরম্যান্স ভারতের।

বিশের বিশ্বজয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের 

চলতি বছর স্বীকৃতি আদায়ের বছর। সবাই বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্ষয়িষ্ণু এক ক্রিকেটশক্তি। নিন্দুকদের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নেয় অবিশ্বাস্যভাবে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ফাইনাল ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের।

শেষ ওভারে ক্যারিবিয়ানদের জেতার জন্য ১৯ রান দরকার ছিল। আপাতদৃষ্টিতে যা অসম্ভব কাজ বলে মনে হওয়াই স্বাভাবিক। কার্লোস ব্র্যাথওয়েট বেন স্টোকসের ওভারে চার-চারটি ছক্কা মেরে ইডেন গার্ডেন্সে ক্যালিপসোর ঝংকার তোলেন। টি টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রমাণ করল, তারা নির্বোধের মতো ক্রিকেট খেলে না। 

কোহলি-কুম্বলের জয়যাত্রা শুরু 

এই ক্যারিবিয়ানরাই বিরাট কোহলির ভারতের কাছে ল্যাজেগোবরে হয়েছিল টেস্ট সিরিজে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে কোহলির দল টেস্ট সিরিজ জেতে। অধিনায়ক কোহলি দ্বিশতরান করেন স্যার ভিভের দেশে। সেই সিরিজ থেকেই কোচ হিসেবে কাজ শুরু হয় অনিল কুম্বলের। শুরু হয় নতুন যুগলবন্দি। কোহলি ও কুম্বলে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরে, ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে দুরমুশ করেছে ভারত। 

বছরটা বিরাট কোহলির 
 
বছরটা বিরাট কোহলির। একের পর এক অনন্য রেকর্ড গড়ে চলেছেন তিনি। কোথায় গিয়ে থামবেন তিনি, তা একমাত্র তাঁর পক্ষেই বলা সম্ভব। চলতি বছরে কোহলির রেকর্ডগুলো একবার চোখ বুলিয়ে নিন— প্রথম ভারত অধিনায়ক হিসেবে তিনটি দ্বিশতরানের মালিক। দ্রুততম সাড়ে সাত হাজার রানের অধিকারী। ওয়ানডে-তে দ্রুততম ২৫টি শতরানের মালিক কোহলি।

আইপিএলের এক মরশুমে সবচেয়ে বেশি শতরান হাঁকিয়েছেন ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক। আইপিএলে সর্বোচ্চ রানের অধিকারীও কোহলি। প্রথম ভারত অধিনায়ক হিসেবে ন’টি টেস্ট জেতার নজির গড়েছেন কোহলি। স্যার ডন ও রিকি পন্টিংয়ের পরে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ক্যালেন্ডার ইয়ারে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। কোহলি মানেই রেকর্ড আর রেকর্ড। 

নতুন পালক অশ্বিনের মুকুটে 

ব্যাটবলে অসামান্য অবদানের জন্য রবিচন্দ্রন অশ্বিন বর্ষসেরা ক্রিকেটার হন। চলতি বছরেই তাঁর মুকুটে উঠেছে দামী পালক। বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারেরও সম্মান পান এই অফ স্পিনার। সদ্য সমাপ্ত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে অশ্বিন পেয়েছেন ২৮টি উইকেট। ব্যাট হাতে করেছেন ৩০৬ রান। তার আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও জ্বলে উঠেছিলেন অশ্বিন। ব্যাটকে কথা বলিয়ে শতরানও করেন তামিলনাড়ুর এই অফস্পিনার।

তবে অশ্বিনের শেষ দুটি টেস্টের পারফরম্যান্সকে বিচার করেনি আইসিসি। তার আগের আটটি টেস্টের পারফরম্যান্সের নিরিখে বর্ষসেরা ক্রিকেটার ও বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মান জিতে নেন। তাতে ৪৮টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৩৩৬ রান করেছেন। তাঁর গড় ৪২। 

হকিতে জয়জয়কার 
হকিতে দাপট পুরুষ ও মহিলা দলের। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতার ফাইনালে চিনের মহিলাদের ২-১ হারিয়ে জয়ী হয় ভারত। এবারই প্রথম এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হল ভারতের মহিলা দল। অন্যদিকে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে ভারতের পুরুষ দল। 

মেসির কান্না, রোনাল্ডোর হাসি 

এই বছর দেখেছে লিওনেল মেসির পতন। দেখেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর উত্থান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়াম দেখে ক্রন্দনরত মেসিকে। কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্তিনার সামনে চিলি। ফাইনালে পেনাল্টি শুট আউটে মেসি উড়িয়ে দেন বল। আর্জেন্তিনা হেরে যায় চিলির কাছে। ফাইনালের অব্যবহিত পরেই মেসি জানিয়ে দেন, দেশের জার্সিতে আর খেলবেন না। পরে অবশ্য দেশের হয়ে ফেরেন এলএম টেন। বছরটা মেসির খারাপ গেলেও রোনাল্ডো কিন্তু মেঘের উপর দিয়ে হেঁটেছেন।

প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরো কাপ জেতেন রোনাল্ডো। এতদিন পর্যন্ত সিআরসেভেনের দেশ প্রত্যাশা জাগিয়েও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এবারের ইউরো ফাইনালের সংজ্ঞাটা ২৪ মিনিটে বদলে যায়। কাঁদতে কাঁদতে রোনাল্ডো স্ট্রেচার করে মাঠ ছাড়েন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ১০৯ মিনিটে পর্তুগালের এডার জয়সূচক গোলটি করেন। ইউরোপসেরা হয় পর্তুগাল। হাসি মুখে ধরা দেন রোনাল্ডো। ব্যালন ডি’ অর-এর মঞ্চে কাঁদতে হয় মেসিকে। তাঁকে পিছনে ফেলে চতুর্থ বারের জন্য ফিফার বিচারে বর্ষসেরা ফুটবলার হন পর্তুগিজ মহাতারকা। 

অমরত্বের খোঁজে উসেইন বোল্ট 
চলতি বছর অমর করে দিল দৌড়বীর উসেইন বোল্টকে। বেজিং আর লন্ডন অলিম্পিক্সে যে কীর্তি রচনা করেছিলেন ‘বিদ্যুৎ’ বোল্ট, তাতেই তিনি অমর হয়ে গিয়েছিলেন। রিও অলিম্পিক্স বোল্টকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

রিওতে ১০০, ২০০ মিটারের পরে ৪x১০০ মিটার রিলেতেও সোনা জিতে অনন্য হ্যাটট্রিকের ইতিহাস গড়েন তিনি। ফুটবল সম্রাট পেলে, ‘দ্য গ্রেটেস্ট’ মহম্মদ আলির সঙ্গেই এবার থেকে এক নিঃশ্বাসে উঠবে বোল্টের নামও। 

মাইকেল ফেল্পসের কীর্তি 
রিওয় সোনা জিতে বর্ণময় কেরিয়ারে ইতি টানেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি সাঁতারু মাইকেল ফেল্পস। নিজের শেষ ইভেন্টে চারশো মিটার রিলে মেডলিতে সোনা জেতেন তিনি। অলিম্পিক্সের আসর থেকে ২৩টা সোনা জিতে শেষ করেন তিনি। বিশ্বক্রীড়ার সেরা মঞ্চে ২৮টা পদকে জিতে বর্ণময় কেরিয়ারে ইতি টানেন তিনি। ১০৮টি দেশের থেকেও বেশি পদক জেতেন ফেল্পস। পনেরো বছর বয়সে সিডনিতে প্রথম সোনা জিতেছিলেন ফেল্পস। একত্রিশ বছর বয়সে রিওয় ২৩ তম অলিম্পিক সোনা জিতে থামেন ফেল্পস। 

নিষিদ্ধ শারাপোভা


চলতি বছর দেখেছে স্বপ্নের অপমৃত্যু। মহিলাদের টেনিস সার্কিটে মারিয়া শারাপোভা পরিচিত এক নাম। সেই রুশ সুন্দরী ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। দু’ বছরের জন্য নির্বাসিত করা হয় মাশাকে। ডোপ পরীক্ষায় তাঁর নমুনায় পাওয়া যায় নিষিদ্ধ বস্তু মেলডোনিয়াম। পরে অবশ্য তাঁর নির্বাসনের মেয়াদ কমানো হয়। দু’ বছরের জায়গায় শারাপোভার নির্বাসন কমিয়ে ১৫ মাস করা হয়। 

কলকাতা ভারতসেরা 
কলকাতা আবারও সেরার সেরা। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্লাব অ্যাতলেতিকো দ্য কলকাতা আইএসএলের ফাইনালে হারায় সচিন রমেশ তেন্ডুলকরের কেরল ব্লাস্টার্সকে। এবার নিয়ে দু’ বার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল সৌরভের কলকাতা ও সচিনের কেরল। শেষ হাসি তোলা ছিল কলকাতার জন্য। বছরের শেষে সৌরভের চওড়া হাসি দেখে কলকাতা। এই হাসিই তো গৃহস্থের গর্ব, পড়শির ঈর্ষার কারণ। 

 

Usain Bolt Maria Sharapova Virat Kohli Deepa karmakar PV Sindhu Sourav Ganguly West Indies Lionel Messi Cristiano Ronaldo
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -