SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

চার দশকের পুরনো চিঠি! বাঘাযতীন রোড ফিরল অতীতে

অর্ক ভাদুড়ি | মে ১৯, ২০১৭
Share it on
কয়েকদিন আগে জিপিও’র সামনে একটি মুখ খোলা প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিতরে ছিল তিনটি পারিবারিক ফটো এবং একটি খোলামুখ খাম।

চার দশকের পুরনো একটি চিঠির খাম। বাঘাযতীন স্টেশন রোডের ঠিকানা লেখা। সঙ্গে তিনটি সাদা-কালো পারিবারিক ফটো। কার্যত মালিকানাহীন ওই কাগজ-ফোটোর  সূত্র ধরে ফেলে আসা সময়কে খুঁজলেন বাঘাযতীন এলাকার প্রবীণদের একাংশ।

কয়েকদিন আগে জিপিও’র সামনে একটি মুখ খোলা প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিতরে ছিল তিনটি পারিবারিক ফটো এবং একটি খোলামুখ খাম। খামটির গায়ে কলকাতা এবং লখনউয়ের পোস্টঅফিসের ১৯৭৮ সালের স্ট্যাম্প। রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে উত্তর কলকাতার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানাও লেখা রয়েছে। রয়েছে তৎকালীন অবিভক্ত ২৪ পরগনার গড়িয়ার অর্ন্তগত বাঘাযতীনের স্টেশন রোড এবং এসপিবি ব্লকের ঠিকানা। সেটি হাতে লেখা। 
১৯৭৮ সালের ৪ অগস্ট চিঠিটি কলকাতা থেকে লখনউয়ে পাঠানো হয়। ৪ অগস্ট সেটি লখনউয়ে পৌঁছনোর পর ফের বাঘাযতীনের ওই ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ১১ অগস্ট সেটি বাঘাযতীনে পৌঁছয়।

সুধীরচন্দ্র সেনগুপ্ত নামে যে ব্যক্তিকে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তাঁকে ওই ঠিকানায় এখন পাওয়া যায়নি। চার দশকের ব্যবধানে আমূল বদলে গিয়েছে বাঘাযতীন স্টেশন রোডও। তবু ওই ছবি এবং চিঠির খাম দেখে সেকাল-একালের আলোচনা করলেন বাঘাযতীনের প্রবীণদের একাংশ।

দেশভাগের এক বছর পরেই পরিবারের সঙ্গে ভারতে চলে আসেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজশাহির বাসিন্দা অমলেন্দু দাশগুপ্ত। তখন বয়স আট বছর। ওই ছবিগুলি এবং খাম খুঁটিয়ে দেখে ৭৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অমলেন্দু বলেন, ‘‘নাহ্, কিছুতেই চিনতে পারছি না। আসলে এতগুলো বছর কেটে গিয়েছে তো!’’

কেমন ছিল সেই সময়ের বাঘাযতীন? অমলেন্দুর কথায়, ‘‘বাবা-মা আমাদের নিয়ে কোনওক্রমে পালিয়ে আসতে পেরেছিলেন। শিয়ালদহ স্টেশনে তখন পূর্ব পাকিস্তান থেকে চলে আসা উদ্বাস্তুদের থিকথিক ভিড়। অনেকের সঙ্গে চলে এসেছিলাম গড়িয়া এলাকায়। সেখান থেকে বাঘাযতীনে। তখন চারদিকে ঝোপ-জঙ্গল। সন্ধ্যায় শিয়াল বেরোত।’’
অমলেন্দুর বন্ধু জ্যোতিপ্রকাশ রায় এসেছিলেন বরিশাল থেকে। তিনি জানান, স্টেশন রোড অনেক পরে তৈরি হয়েছে। ১৯৭৮ সালে রাস্তাঘাট, আলো কিছুই ছিল না। গোটা রাস্তা ছিল ঝোপজঙ্গলে ভর্তি। সেগুলি কেটে বসতি নির্মাণের কাজ চলত। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অনেক উদ্বাস্তু এসেছিলেন। তাঁদের দৌলতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে একটি স্কুল তৈরি হয়। তবে পাকা বাড়ি প্রায় ছিলই না। এখন সেখানে একের পর এক অ্যাপার্টমেন্ট, পাকা বাজার, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান।’’ 

জ্যোতিপ্রকাশ বলেন, ‘‘নকশাল আন্দোলনের সময় স্টেশন রোড সংলগ্ন ঝোপ-জঙ্গলে নকশালপন্থীরা লুকিয়ে থাকতেন। এখানকার বিখ্যাত নেতা ছিলেন আশু মজুমদার।’’
স্থানীয় বাসিন্দা অরুণ রায় এখনও উদ্বাস্তু মানুষদের সংগঠন ইউসিআরসি’র সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, ‘‘উদ্বাস্তুদের মধ্যে বামপন্থীদের শক্ত সংগঠন গড়ে উঠেছিল। আরএসপি’র জনভিত্তি ছিল ভাল। পরে কমিউনিস্ট পার্টি জোরদার হয়ে ওঠে। বাম, কংগ্রেসই হোক বা জনসংঘ— এই এলাকায় সকলের রাজনীতির মূল অভিমুখ ছিল উদ্বাস্তুদের পাশে থাকা।’’

কলকাতা পুরসভার ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবব্রত মজুমদারের বাবা কেশবচন্দ্র ছিলেন ফরিদপুরের বাসিন্দা। তিনি ছিলেন জনসংঘের নেতা। মলয় জানান, উদ্বাস্তুদের একাংশের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেইমতোই এসপিবি ব্লকের নামকরণ করা হয়। 

মলয় বলেন, ‘‘বড়দের মুখে শুনেছি, এই এলাকায় কিছুই ছিল না। ওপার থেকে আসা মানুষেরাই নিজেরা রাস্তা-ঘাট, স্কুল-নিকাশি তৈরি করেছিলেন। এখনও এই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিবিড় সংযোগ রয়েছে। কারও বিপদ-আপদে সকলে জড়ো হয়ে যাই।’’

Baghajatin station road Letter
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -