SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

দলের পয়সায় ‘বাবুগিরি’? সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি নিয়ে চরম বিতর্কে ঋতব্রত

দেবময় ঘোষ, এবেলা.ইন | ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭
Share it on
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়িতে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান খেলা দেখতে গিয়েছিলেন ঋতব্রত। কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত খেলা দেখার মাঝে তোলা ঋতব্রতর একটি ছবি নিয়ে।

বড় ম্যাচ দেখতে গিয়ে বড় বিতর্কে সিপিএম সাংসদ। যা নিয়ে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে রাজ্যসভার সিপিএম সাংসদ এবং তরুণ সিপিএম নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়িতে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান খেলা দেখতে গিয়েছিলেন ঋতব্রত। এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত খেলা দেখার মাঝে তোলা ঋতব্রতর একটি ছবি নিয়ে। সেই ছবিতেই ফেসবুকে কমেন্ট করেন এক ব্যক্তি। 

ঋতব্রতর পকেটে থাকা কলম এবং হাতে থাকা ঘড়ি নিয়ে ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়। ফেসবুকে ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, সিপিএম-এর একজন হোলটাইম সদস্য হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এত দামি ঘড়ি, কলম ব্যবহার করেন সিপিএম সাংসদ।

সেই বিতর্কিত পোস্ট। যদিও এর সত্যতা যাচাই করেনি এবেলা.ইন

দাবি করা হয়, ঋতব্রতর হাতের ঘড়িটির দাম প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা। আর যে স্মার্টফোনের সাহায্যে ওই ঘড়িটি চলে, অ্যাপেল-এর সেই স্মার্টফোনের দাম অন্তত আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা। ঋতব্রতর পকেটে থাকা জার্মান ব্র্যান্ডের কলমটির দামও তিরিশ হাজার টাকার বেশি বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি। 

পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, সাংসদ হিসেবে নিজের বেতনের পুরো অর্থটাই দলকে দিয়ে দেওয়ার কথা ঋতব্রতর। দল থেকে তিনি যে ভাতা পান, সেই টাকায় এমন ব্যয়বহুল ঘড়ি, কলম ঋতব্রত কীভাবে ব্যবহার করেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওই ব্যক্তি। 

বিতর্কের শুরু এর পরেই। অভিযোগ, যে ব্যক্তি ফেসবুকে এই মন্তব্য করেন, তাঁর উপরে খেপে গিয়ে তাঁর অফিসের এইচআর বিভাগের এক আধিকারিককে ই-মেল করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি নিজেকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে তাঁর আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। এমনকী, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করায় তিনি দিল্লির থানায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন ঋতব্রত। 

ঋতব্রত যে ই-মেল পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ (বাঁদিকে)। 

এই ই-মেল বা পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি এবেলা.ইন।

যদিও এবেলা.ইন এই ই-মেলের সত্যতা যাচাই করেনি, কিন্তু সেই মেলটির স্ক্রিনশটও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে। সেই ই-মেলকে হাতিয়ার করে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অম্বিকেশ মহাপাত্রের গ্রেফতারি, হায়দরাবাদের দলিত ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার ঘটনায় মুক্ত মতামতের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন, সেই তিনিই কেন ফেসবুকে মন্তব্য করার অপরাধে নিজের প্রভাব খাটিয়ে কারও চাকরি নিয়ে টানাটানি করবেন। যদিও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ই-মেলটি সত্যিই সিপিএম সাংসদের পাঠানো কি না, তা নিয়েও সংশয়ী অনেকেই। 

বিতর্ক এখানেই থামেনি। সিপিএম সূত্রের খবর, যে ব্যক্তি ফেসবুকে মন্তব্য করায় চটে যান ঋতব্রত, তিনি নিজেও একজন সিপিএম সমর্থক। সিপিএমের দিল্লি ও রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও নাকি ঋতব্রতর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন ওই ব্যক্তি। সেখানে তিনি বলেছেন, সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে তাঁর অফিসের এইচআর-এর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ঋতব্রত। যার জেরে তাঁর চাকরি নিয়ে টানাটানি চলছে।

ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি যদি সত্যিই আপত্তিকর কোনও মন্তব্য ফেসবুকে করে থাকেন, তাহলে সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতেন ঋতব্রত। তা না করে কোন অধিকারে সাংসদ হিসেবে তাঁর অফিস কর্তৃপক্ষের উপরে প্রভাব খাটাচ্ছেন ঋতব্রত? 

দল থেকে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে তিনি রাজ্যসভার ভাইস চেয়ারম্যান হামিদ আনসারির কাছেও ঋতব্রতর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। সিপিএম-এর এক নেতার কথায়, বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী। 

যে ব্যক্তি ফেসবুকে মন্তব্য করে ঋতব্রতর রোষে পড়েছেন বলে অভিযোগ, তিনি তাঁর পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না। 

যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়িয়েছেন ঋতব্রত নিজেই। সত্যিই তিনি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর অফিসের এইচআর-এর কাছে কোনও অভিযোগ জানিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনও উত্তর দেননি ঋতব্রত। পাল্টা তিনি এবেলা.ইন-কে বলেন, ‘যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন দাবি করছে, তাঁদের প্রশ্ন করুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই অনেক কিছু লেখে। আমার চোখে এখনও এমন কিছু পড়েনি, চোখে পড়লে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

সিপিএম-এর আর এক নেতার অবশ্য দাবি, যে দামি ঘড়ি এবং কলম নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত, সেই দু’টিই উপহার হিসেবে পেয়েছেন ঋতব্রত। ইতিমধ্যেই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ঋতব্রত সরিয়ে নিয়েছেন বলেই খবর।

Ritabrata Banerjee Facebook CPM
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -