SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

দুঃখিত শের শাহ! আপনার তৈরি রাস্তাই এখন ‘গ্র্যান্ড টোটো’ রোড, দেখুন ভিডিও

নিজস্ব প্রতিবেদন, হাওড়া, এবেলা.ইন | মে ১৯, ২০১৭
Share it on
শাসক দলের প্রশয়, সময় মতো লাগাম না টানার জন্য এখন হাওড়ায় টোটোর উপরে কার্যত কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই প্রশাসনের।

একসময়ে শিল্পনগরী হিসেবে বিখ্যাত ছিল হাওড়া। এশিয়ার বৃহত্তম শিল্পনগরীর তকমাও জুটেছিল গঙ্গা পাড়ের এই শহরের। একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে হাওড়ার সেই গৌরব অনেকদিনই মলিন হয়ে গিয়েছে। হাওড়ার আর এক গর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন এবং দীর্ঘ পথ জি টি রোডের গরিমাও আর অতীতের স্মৃতি মাত্র। সৌজন্যে পথের নতুন যন্ত্রণা টোটো।

হাওড়ার কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে কয়েকবছর আগে লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছিল রিক্সার সংখ্যা। কারণ কাজ হারানো অনেক শ্রমিকই জীবিকা নির্বাহের জন্য রিক্সা চালানোকে বেছে নিয়েছিলেন। শিল্পনগরী হাওড়াকে তখন রিক্সানগরী বলে ব্যঙ্গ করতেন অনেকেই। বর্তমানে হাওড়ায় টোটোর দাপটে রিক্সা আর চোখে পড়ে না। কারণ শুধুমাত্র হাওড়া পুরসভা এলাকাতেই বর্তমানে টোটোর সংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার ছুঁয়েছে। ইতিহাস প্রসিদ্ধ জি টি রোডও স্বাভাবিকভাবে টোটোর দাপাদাপি থেকে মুক্তি পায়নি। হকার, জবরদখলের সঙ্গে টোটোর বাড়বাড়ন্তের ঠেলায় জি টি রোড দিয়ে যাতায়াত করাটাই এখন সাধারণ মানুষের কাছে শাস্তির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবদেখেও চুপ পুলিশ, প্রশাসন।

গ্রাফিক্স- অভিজিৎ বিশ্বাস

শাসক দলের প্রশয়, সময় মতো লাগাম না টানার জন্য এখন হাওড়ায় টোটোর উপরে কার্যত কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই প্রশাসনের। প্রাথমিকভাবে হাওড়া পুরসভার পক্ষ থেকে বেশ কিছু টোটোকে লাইসেন্স দিয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মে টোটোই এখন বেআইনি। তার বদলে চালু হয়েছে ই-রিক্সা। কিন্তু একবার রাস্তায় নেমে যাওয়া টোটোর দায় এখন কে নেবে তা স্পষ্ট নেয়। কারণ টোটো নিয়ে হাওড়া পুরসভাও এখন যাবতীয় দায় পুলিশ এবং পরিবহণ দফতরের উপরেই চাপাচ্ছে। 

জি টি রোডে টোটোর দাপট, দেখুন ভিডিও ১

এই অবস্থায় ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে। সরকারি হিসেব বলছে, হাওড়া শহরে মাত্র ২ শতাংশ রাস্তা রয়েছে। এমনিতেই ঘিঞ্জি হাওড়া শহরে রাস্তার অভাব। যেটুকু আছে, তার পঞ্চাশ শতাংশই এখন চলে গিয়েছে টোটোর দখলে। তার সঙ্গে হকার এবং জবরদখলকারীদের পুরনো সমস্যা তো আছেই। 

নিয়ম ভেঙেই জি টি রোডে টোটো, দেখুন ভিডিও ২

এমনিতে জিটি রোডে টোটোর চলাচল নিষেধ। কিন্তু সকাল আটটা পর্যন্ত নিশ্চিন্তেই এই ব্যস্ত রাস্তার উপরে দাপিয়ে বেড়ায় টোটোগুলি। শিবপুর কাজিপাড়া মোড় থেকে বঙ্গবাসী মোড় পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তায় সকাল থেকেই দাপিয়ে বেড়ায় টোটো। যার জেরে বাড়তে থাকে যানজট। একই সঙ্গে বেলিলিয়াস রোড, পঞ্চাননতলা রোড, নেতাজি সুভাষ রোডের মতো জি টি রোডের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তাগুলিতেও টোটোর দাপটে জট পাকিয়ে যায়। যার জের এসে পড়ে জি টি রোডের উপরে। একইভাবে বালি খাল থেকে সালকিয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তাতেও বিনা বাধাতেই অসংখ্য টোটো চলতে থাকে। পুলিশের সামনেই ইচ্ছেমতো ট্রাফিক আইন ভাঙে তারা। সবমিলিয়ে বেলা বাড়তেই গাড়ি, মানুষ, টোটো মিলিয়ে জটিল জটে আটকে যায় গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা। সন্ধেবেলাতেই একই রকম অবস্থা হয় এই রাস্তার।

১৯১০ সালে এমনই ছিল জি টি রোড। ছবি- উইকিপিডিয়া

অভিযোগ, চোখের সামনে নিয়ম ভাঙলেও টোটোর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়না পুলিশ। কারণ টোটো চালকদের পিছনে শাসক দলের ইউনিয়নের সমর্থন রয়েছে। যদিও আইএনটিটিইউসি সমর্থিত টোটো অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সভাপতি শ্যামল মিত্র সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, টোটোর সমস্যা জ্বলন্ত সমস্যা। সরকারের উচিত টোটো নিয়ে নির্দিষ্ট নীতি তৈরি করা। তাঁর দাবি বহু বেকার যুবক টোটো চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। ফলে মানবিক দিক দিয়ে বিষয়টি ভাবা উচিত।

অনেকেই অবশ্য অভিযোগ করেন, একজন মালিকই একাধিক টোটো নামিয়ে নিশ্চিন্তে ব্যবসা করছেন। ৩৭ হাজার টোটো পিছু একটি পরিবার ধরলেও প্রায় দেড় লক্ষ ভোটের হিসেব শাসক দলকে মাথায় রাখতে হচ্ছে। ফলে টোটো নিয়ে কড়া মনোভাব দেখাচ্ছে না শাসক দলও।

একে টোটো, তার উপরে রাস্তার উপরেই হকার। দেখুন ভিডিও ৩

টোটো যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত ভুগছেন সাধারণ মানুষও। হাওড়া জেলা ট্রাফিক অ্যাওয়ারনেস সোসাইটির সম্পাদক অলোক চক্রবর্তী, ‘কেন্দ্রীয় আইন মেনে টোটোকে নিয়ন্ত্রণ করা হোক। মনে রাখা দরকার, টোটোয় চড়ে কেউ দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তিনি বিমার টাকাও পাবেন না। কারণ, টোটো পুরোপুরি বেআইনি। নম্বর দেখেও চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।’

স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবাঞ্জল চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘আমরা গরিব মানুষের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি ভুলে টোটো এবং হকার নিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট নীতি তৈরি করা উচিত।’

Grand Trunk Road Howrah Sher Shah Suri Toto Peshwar Kabul
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -