SEND FEEDBACK

English
Bengali

স্ত্রীর ফোনে স্বামীর উঁকিঝুকি, সাইবার আইনে প্রথম সিদ্ধান্ত বাংলায়

নিজস্ব প্রতিবেদন, এবেলা.ইন | এপ্রিল ২১, ২০১৭
Share it on
প্রযুক্তি যত এগিয়ে চলেছে, ততই পিছিয়ে যাচ্ছে মানব সম্পর্কগুলি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি ঘোরাফেরা করলেই সঙ্গীর সন্দেহের শিকার হতে হয় অনেক সময়েই। এবং তার জেরে সম্পর্ক ভাঙতেও পিছপা হয় না অনেকে। সত্যি মিথ্যে বিচার করার আগেই সব শেষ।

ফেসবুকে আলাপ, তার পরে অল্পদিনের প্রেমপর্ব পেরিয়ে বিয়ে। কয়েক মাসের ব্যবধানেই ভালবাসা উবে গিয়ে মনোমালিন্য, সন্দেহ এবং শেষে বিবাহবিচ্ছেদ।

এমন ঘটনা ঘটে চলেছে প্রায় প্রতিনিয়ত। প্রযুক্তি যত এগিয়ে চলেছে, ততই পিছিয়ে যাচ্ছে মানব সম্পর্কগুলি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি ঘোরাফেরা করলেই সঙ্গীর সন্দেহের শিকার হতে হয় অনেক সময়েই। এবং তার জেরে সম্পর্ক ভাঙতেও পিছপা হয় না অনেকে। সত্যি মিথ্যে বিচার করার আগেই সব শেষ।

এমনই এক ঘটনার কথা জনসমক্ষে এসেছে, যেখানে সন্দেহের বশে নিজেই নিজের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছেন এক স্বামী। ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর খবর অনুযায়ী, হাওড়া সালকিয়ার বাসিন্দা অমিতকুমার সেনের বিয়ে হয়েছিল ওই জেলারই শিবপুরের বাসিন্দা তনয়া মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ফেসবুকে আলাপের পরে, ২০১৩ সালের মে মাসে বিয়ে হয় তাঁদের। বিশ্বাস করে নিজের ফেসবুক ও ইমেল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড স্বামীকে জানিয়েছিলেন তনয়া। তিনি নিজে এক এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। সেই কাজ নিয়েই সন্দেহ ছিল অমিতের মনে। আর সন্দেহের বশেই তনয়ার ই-মেল ও ফেসবুক রীতিমতো ঘাঁটাঘাটি করত বলে জানিয়েছে তনয়া।

এই সন্দেহের কারণেই, বিয়ের কয়েক মাস পরেই তনয়া স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে যায় পিতৃগৃহে। কিন্তু, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে, তনয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন অমিত। অনুষ্ঠান কেটে গেলে, কোনও অছিলায় একদিনের জন্য তনয়ার মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করার জন্য চান অমিত। তার পর থেকেই মোবাইলে কথা বলার সময় ‘ইকো’ শুনতে পেতেন তনয়া।

এর পরে, অমিত বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করে। বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় অমিতের জমা দেওয়া তথ্যপ্রমাণ থেকেই তনয়া  ‘টিম ভিউয়ার’ নামে একটি অ্যাপ-এর কথা জানতে পারেন। যা তার মোবাইলে ইনস্টল করেছিল অমিত। এই অ্যাপের মাধ্যমে, মোবাইলের কল-লগ ও সব রকম কথাবার্তাই রেকর্ড হয়ে যায়, যা একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যে কোনও সময়েই অ্যাকসেস করা সম্ভব। 

এই পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে শিবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তনয়া। ঘটনার ফয়সালার জন্য, পুলিশ পুরো বিষয়টি জানায় ‘আইটি’ দফতরকে। তনয়ার তরফের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও স্বামীই তার স্ত্রীয়ের ‘প্রাইভেসি’ লঙ্ঘন করতে পারে না। অমিত যা করেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইন বিরুদ্ধ কাজ। অন্য দিকে, অমিতের আইনজীবী তার ক্লায়েন্টের তরফে জানিয়েছে যে সে এমন কোনও কাজ করেনি।

শুনানি-পাল্টা শুনানি, সওয়াল-জবাবের অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, মামলার নিষ্পত্তি করেন বিচারক। অমিতকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাংলায় এই প্রথমবার, ‘সাইবার’ আইনের আওতায় কোনও মামলার ফয়সালা হল। কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরাও এই রায়ে সহমত পোষণ করেছেন।

Divorce Cyber Law Facebook Mobile
Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -