SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

‘ছোটজাত আর গরিব বলেই মানসিক নির্যাতন!’ আর কী বললেন যাদবপুরের ছাত্র চন্দন

নিজস্ব প্রতিবেদন, এবেলা.ইন | মার্চ ১৭, ২০১৭
Share it on
দলিত নির্যাতনে এতদিন এ রাজ্যের নাম খুব একটা শোনা যায়নি। কিন্তু, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চন্দন মণ্ডলের আনা অভিযোগে কলকাতাও কি এবার সেই তালিকায় নাম তুলল? এবেলা.ইন-কে খুলে বললেন চন্দন।

হস্টেল সুপারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন। আর তাই এখন তাঁকে জাতি বিদ্বেষের শিকার হতে হচ্ছে। শুক্রবার এবেলা.ইন-এর কাছে কাঁদতে কাঁদতে এমনটাই অভিযোগ আনলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চন্দন মণ্ডল। 

আরও পড়ুন... 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দোলে রঙের সঙ্গী ডিম, আপত্তিতে বন্ধ বেচাকেনা 

ক্যাফের কেতা নেই, পিছিয়ে পড়ছে যাদবপুরের কফি হাউস

শুধু হস্টেল সুপার বিষ্ণুশঙ্কর পঞ্চাধ্যায়ই নন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরশিক্ষা বিভাগের প্রধান গোপালচন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে ১৫ তারিখ যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানান চন্দন।  কিন্তু, তপশিল জাতি ও উপজাতি আইনে হস্টেল সুপার বিষ্ণুশঙ্কর পঞ্চাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শেষমেশ এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগ, এই এফআইআর দায়েরের পরে ১৬ তারিখ রাতে হস্টেলের ছাদে গভীররাতে একটি মিটিং হয়। চন্দনের আরও অভিযোগ, এই মিটিং-এর পর থেকেই তাঁকে কার্যত একঘরে করে দেওয়া হয়েছে। হস্টেল-সতীর্থদের কেউ তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন না। ডাইনিং-এর সময়ে তিনি কারোর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও কেউ সাড়া দিচ্ছেন না। প্রত্যেকেই এখন নাকি এড়িয়ে চলেছেন চন্দনকে। 

সুন্দরবনে বাসন্তী ব্লকে এক প্রত্যন্ত এলাকার ছেলে চন্দন। বাবা দিনমজুর। মোট ৫ ভাইবোন তাঁরা। ২ দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আরও ১ বোনের বিয়ে হলেও শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের কারণে তিনি এখন চন্দনদের সঙ্গেই থাকেন। এমন এক হতদরিদ্র পরিবার থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছেন চন্দন। 

চন্দনের অভিযোগ, হস্টেলে ঢোকার পর থেকেই নানা অব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। তাঁদের কাছে হস্টেলের খরচ বাবদ যে অর্থ নেওয়া হয়, তার বিনিময়ে কোনও রসিদ দেওয়া হয় না। ফলে, জানা যায় না মাসে কার কত খরচ হচ্ছে। তবু একটা অনুমানের উপরে ভিত্তি করেই ছাত্ররা হস্টেলের খরচ দিয়ে থাকেন। চন্দনের দাবি, ৪ মাসের বকেয়া এবং ৩ মাসের অগ্রিম হিসাবে মোট ১১ হাজার টাকা তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল সুপার বিষ্ণশঙ্কর পঞ্চাধ্যায়ের কাছে জমা করেন। কিন্তু, হস্টেল সুপার জানান, চন্দনের আরও ৩ মাসের টাকা বাকি আছে।  

অভিযুক্ত হস্টেল সুপার বিষ্ণুশঙ্কর পঞ্চাধ্যায়

এই অর্থ দেওয়ার জন্য চন্দন কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। অভিযোগ, এই নিয়ে ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ থেকে হস্টেল সুপার তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। তিনি চুরি করে হস্টেলের খাবার খাচ্ছেন বলেও নাকি বিষ্ণুশঙ্কর পঞ্চাধ্যায় অভিযোগ তোলেন। ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর সম্বল মাত্র একজোড়া জুতোও চুরি হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন চন্দন। তাঁর আরও অভিযোগ, ছোট জাত বলে নানাভাবে অপদস্থমূলক কথাবার্তাও নাকি বলেন হস্টেল সুপার। বিষয়টি নিয়ে নিজের বিভাগীয় প্রধান গোপালচন্দ্র সাহার কাছেও গিয়েছিলেন কিন্তু, তিনি কোনওভাবেই চন্দনের কথা শুনতে চাননি বলে অভিযোগ। উল্টে সমস্ত কিছুর জন্য তিনি চন্দনকেই দায়ী করেন। 

চন্দনের সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের কথার অডিও ক্লিপ শুনুন...

এবেলা.ইন-এর কাছে করা অভিযোগে চন্দন আরও জানিয়েছেন যে, ১০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রদের পিকনিকেও নিয়ে যাওয়া হয়নি। যাদবপুর স্টেশনে তাঁকে ফেলে রেখে সকলে পিকনিকে চলে যায়। এই নিয়েও বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন চন্দন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘তাঁর মতো ছেলের এমনই হাল হওয়া উচিত।’ 
জাতি বিদ্বেষের অভিযোগ এনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসের দ্বারস্থ হন চন্দন। ফেব্রুয়ারির ২৯ তারিখে এই নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়। তাঁরা তদন্ত করে কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্টও জমা দেন। কিন্তু, উপাচার্য বিদেশে থাকায় এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। চন্দনের অভিযোগ, এর পর থেকে হস্টেল সুপার এবং বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে নানারকম হুমকি তিনি পান। এমনকী, তাঁকে ফেল করিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করিয়ে দেওয়ারও হুমকি নাকি তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। শেষমেশ ১৫ তারিখ যাদবপুর থানায় এফআইআর করেন চন্দন। 

এবেলা.ইন-এর পক্ষ থেকে অভিযুক্ত হস্টেল সুপার বিষ্ণুশঙ্কর পঞ্চাধ্যায়ের সঙ্গে কথাও বলা হয়। কিন্তু, এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর সাফ জবাব, যা বলার তদন্ত কমিটিকে বলেছি। রিপোর্ট প্রকাশ পেলেই আসল সত্য সামনে আসবে।

Jadavpur University FIR Chandan Mandal Bishnushankar Panchyadhyay Caste Student Assult
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -