SEND FEEDBACK

English
Bengali
English
Bengali

দুই হাত নেই! চাকরির দাবিতে অনশন মঞ্চে হার না-মানা লড়াইয়ে জগন্নাথ

অর্ক ভাদুড়ি | মে ১৮, ২০১৭
Share it on
‘এতজন ছেলেমেয়ে দু’বার পরীক্ষা দিলাম। পাশ করলাম। ইন্টারভিউ হল। অথচ ফলপ্রকাশ করা হল না! কেন? লড়াই ছাড়ব না’— জগন্নাথ মাহাতো

অনশন মঞ্চে বসে পা দিয়ে লিখছেন দাবিপত্র। প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলপ্রকাশ না-হওয়া পর্যন্ত অবস্থান থেকে উঠবেন না সন্দেশখালির জগন্নাথ মাহাতো।

উত্তর ২৪ পরগনার দুর্গামণ্ডপ এলাকার দরিদ্র কৃষক পরিবারে বড়ছেলে জগন্নাথ। জন্ম থেকেই তাঁর দু’টি হাত নেই। তাই বাবা-মা নাম রেখেছিলেন জগন্নাথ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে ভূগোলে স্নাতক জগন্নাথ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় পাশ করেছেন। ইন্টারভিউও হয়েছে। কিন্তু ফলপ্রকাশ না-হওয়ায় থমকে রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। ফলপ্রকাশের দাবিতে বালিগঞ্জে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা শিক্ষা সংসদের সামনে ৭০জন চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে অনশনে বসেছেন জগন্নাথ। 

২০১০ সালে জগন্নাথ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসেন। তাঁর অভিযোগ, পরীক্ষায় পাশ করলেও আইনি জটিলতায় নিয়োগ থমকে যায়। এরপর ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ দ্বিতীয়বার লিখিত পরীক্ষা হয়। পাশ করেন তিনি। ওই বছরের নভেম্বরে ইন্টারভিউ হয়। এখনও ফলপ্রকাশ হয়নি। ইতিমধ্যে রাজ্যে দু’বার টেট হয়ে গিয়েছে। গত শুক্রবার রাজ্য জুড়ে ফের টেট’র বিজ্ঞপ্তিও বেরিয়েছে। জগন্নাথদের আশঙ্কা, সব শূন্যপদ পূর্ণ হয়ে গেলে তাঁদের আর চাকরি হবে না। তাই গত ১৬ দিন ধরে অনশনে বসেছেন তাঁরা।

জগন্নাথ বুধবার বলেন, ‘‘এতজন ছেলেমেয়ে দু’বার পরীক্ষা দিলাম। পাশ করলাম। ইন্টারভিউ হল। অথচ ফলপ্রকাশ করা হল না! কেন? লড়াই ছাড়ব না।’’ জগন্নাথের সঙ্গেই অনশন করছেন রামকৃষ্ণ হালদার। তাঁর কথায়, ‘‘প্রবল গরমে দিনের পর দিন বসে রয়েছি। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জগন্নাথকেও দু’বার হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে। মাঝেমাঝেই অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে।’’

পড়াশোনার প্রবল ইচ্ছের কাছে হার মেনেছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। জগন্নাথ বলেন, ‘‘ছোট থেকেই প্রতিবন্ধকতা নিয়ে লড়াই করছি। অনেক গঞ্জনা শুনতে হয়েছে, কিন্তু দমে যাইনি। পরিবারের দারিদ্র ঘোচাতে পড়াশোনা করেছি। শিক্ষক হওয়াই স্বপ্ন।’’
পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য অবশ্য বলেন, ‘‘এই বিষয়ে কিছু করার নেই। আদালতের নির্দেশেই ফলপ্রকাশ থমকে রয়েছে।’’ জগন্নাথের বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিবন্ধকতা জয় করা এই লড়াইকে তাঁরা কুরনিশ জানাচ্ছেন। কিন্তু পাশে থাকতে পারছেন না। কারণ কেউই আদালতের ঊর্ধ্বে নন।

TET Jagannath Mahato
Share it on
Community guidelines
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -