SEND FEEDBACK

Cancel
English
Bengali
Cancel
English
Bengali

শিবলিঙ্গ নয়, এটি আসলে গাড়ি! অদ্ভুত সব মজার গাড়ির সন্ধান ভারতেই পাবেন, জানুন

জুলাই ৪, ২০১৭
Share it on
ভারতের ‘পার্ল সিটি’ হায়দরাবাদে ঘুরতে গিয়ে এক অসাধারণ ‘মুক্তো’র খোঁজ পেলেন লেখিকা। তাঁর সেই মজার অভিজ্ঞতা ছবি-সহ ভাগ করে নিলেন এবেলা.ইন-এর পাঠকদের সঙ্গে।

এ কোন আজব দুনিয়ায় ঢুকলাম! ড্রাইভার ভাই যখন বলেছিলেন তখন একেবারেই সিরিয়াসলি নিইনি ব্যাপারটা। কিন্তু, অদ্ভুত সেই দুনিয়ায় প্রবেশ করেই মনে হল, ভাগ্যিস এলাম!

হায়দরাবাদে যে এমন এক মজার জগৎ রয়েছে, তা বোধহয় তেমন করে কেউ জানেন না।

সুধা কার মিউজিয়াম— গাড়ির মিউজিয়াম বললেই মনে হতে পারে, এ আর এমন কী ব্যাপার! গাড়ির এমন মিউজিয়াম সারা বিশ্ব জুড়ে রয়েছে অনেক শহরেই। তা হলে এই ‘জাদুঘর’টি কোন দিক থেকে আলাদা?

মিউজিয়ামে ঢোকার মুখেই রয়েছে পেল্লায় সাইজের চাকা লাগানো ফোর্ড কোম্পানির একটি গাড়ি। এখানেই টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম মিউজিয়ামের অন্দরে। 

বেশ কিছু ভিনটেজ গাড়ির কালেকশন রয়েছে সুধা কার মিউজিয়ামে। তবে, মজা অন্য জায়গায়। রকমারি বস্তুর আকারে তৈরি নানা গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে মিউজিয়ামের ভিতরে। বিশাল মাপের ক্রিকেট ব্যাট, যাতে সত্যিকারের গাড়ির মতো রয়েছে স্টিয়ারিং। বসার জায়গাও। একটি আস্ত ফুটবলও রয়েছে, তবে খেলার জন্য একেবারেই নয়। রয়েছে ক্রিকেট বল, বাস্কেটবলও।

চেয়ার-টেবিল, কাপ-ডিশ, পাতাওয়ালা পদ্মফুল, কম্পিউটার, বই-পেন, ক্যামেরা, স্নুকার টেবিল, লেডিজ হ্যান্ড ব্যাগ, লিপস্টিক— কোনও কিছুই যেন বাদ নেই। ছিল একটি শিবলিঙ্গ গাড়িও।

ক্যামেরা গাড়িটা দেখে খুব ইচ্ছে করছিল চেপে বসতে। ঘোরার সঙ্গে ছবি তোলা ফ্রি। বিশ্বের সব থেকে ছোট দোতলা বাসটি দেখে বেশ মজা লেগেছিল। কিন্ত, জেনে অবাক হয়েছিলাম যে, এই বাসে ১০ জন বসতে পারে। 

ছোট ছোট কয়েকটি মোটরবাইকও ছিল গাড়ির এই আজব দুনিয়ায়। সব থেকে ছোটটি দৈর্ঘে মাত্র ৩৩ সেন্টিমিটার। অবাক হলাম জেনে যে এটি চালানো যায়। এবং তার স্পিড ৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। 

লক্ষ্য করলাম, প্রতিটি গাড়ির সঙ্গেই তার তৈরির ইতিহাসও দেওয়া রয়েছে। 

গাড়ির এমন মজার দুনিয়ার স্রষ্টা, সুধাকর যাদবের নামানুসারেই এই জাদুঘরের নাম রাখা হয় ‘সুধা কার মিউজিয়াম’। সুধাকর একটি ট্রাই-সাইকেল তৈরি করেন যার উচ্চতা ছিল ৪১.৬ ফুট, এবং প্রস্থে ছিল ৩৭.৩ ফুট। সেই সাইকেলটি চালিয়ে রাস্তায় প্রদর্শনীও করেন সুধাকর। তাঁর এই কীর্তির জন্য, ২০০৫ সালে তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তরফ থেকে সম্মানিত হন। 

মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সুধাকর একটি গাড়ি তৈরি করেছিলেন। জীবনের পথে যে তিনি এমন অত্যাশ্চার্য আরও গাড়ি বানাবেন, তা তো বলাই বাহুল্য। গিনেস রেকর্ডের পাশাপাশি, সুধা কার মিউজিয়ামের উল্লেখ রয়েছে লিমকা বুক অফ রেকর্ড ও রিপ্লিস বিলিভ ইট অর নট-এও। 

মিউজিয়ামের গাড়িগুলির মধ্যে বেশ কিছু গাড়ি এমন রয়েছে যেগুলি বিশেষ বিশেষ দিনে প্রদর্শনীর জন্য বের করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই তখন ভিড় জমে রাস্তায় সেই মজার দৃশ্য দেখতে। 

এবার ‘মুক্তোর শহর’ হায়দরাবাদে গেলে অবশ্যই একবার ঘুরে আসতে পারেন গাড়ির এই মজার দুনিয়ায়। সিটি ট্যুরের মধ্যে অনায়াসেই ঘুরে নেওয়া যাবে ‘সুধা কার মিউজিয়াম’।

(সব ছবি লেখিকার ক্যামেরায়)

Share it on
আরও যা আছে
আরও খবর
ওয়েবসাইটে আরও যা আছে
আরও খবর
আমাদের অন্যান্য প্রকাশনাগুলি -